বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০

১৭ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট সংস্করণ

আগস্ট ০৫,২০২০, ১২:১২

আগস্ট ০৫,২০২০, ১২:১২

ভ্রমণেচ্ছুদের উপচেপড়া ভিড়

এখনই চলনবিলে ঘুরে বেড়ানোর সময়। তাই করোনাকে উপেক্ষা করে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে সবাই যেন ছুটছে প্রাণের টানে চলনবিলের জলরাশিতে।

সরেজমিনে চলনবিল ঘুরে দেখা গেছে, ঐতিহাসিক চলনবিলের তাড়াশ, সিংড়া, গুরুদাসপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রত্যন্ত বিলে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পড়ন্ত বিকালে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়। চলনবিলের মনোমুগ্ধকর মিষ্টি বাতাস, মেঘের ছুটে চলা ও পানির ওপর ঢেউয়ের দৃশ্য নজর কেড়েছে দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের।

প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে চলনবিলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলেছেন তারা। এমনকি চলনবিল গর্ভে অবস্থিত গুরুদাসপুর উপজেলার বিলসা বিলে, সিংড়ার ঘাসি দেওয়ান পীরের মাজার ও গুরুদাসপুরের খুবজীপুরের চলনবিল জাদুঘর পরিদর্শন, তাড়াশের কুন্দইল ব্রিজ এলাকায় ভ্রমণপিপাসু মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনায় যন্ত্রচালিত নৌকা অথবা স্পিডবোট নিয়ে ভ্রমণ করছেন।

চলনবিল অধ্যুষিত সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুলাহ হেল বাকী জানিয়েছেন, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে চলনবিলের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য ছুটে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এছাড়া চলনবিলের বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের ৯নং ও ১০নং ব্রিজ এলাকায় বিলের সৌন্দর্য্য অবলীলায় দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা বলে জানান মাগুরাবিনোদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম বুলবুল।

নাটোরের গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় গুমানী নদী থেকে খুবজীপুর-বিলসা হয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বিলসা বানগঙ্গা নদীতে দৃষ্টিনন্দিত দীর্ঘ ‘মা জননী সেতু’ ও তাড়াশের কুন্দইল বাজার পূর্বপাশে দীর্ঘ ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে মৈত্রী সড়কটি গুরুত্ববহ ইতিহাস রচনা করেছে। বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিনই হাজার হাজার আঞ্চলিক ও বহিরাগত ভ্রমণপিপাসু মানুষ মা জননী ও কুন্দইল সেতুতে ভিড় করেন।  

১৩৭ দিন পর খুলে দেয়া হলো রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্স : করোনার কারণে দীর্ঘ ১৩৭ দিন বন্ধ থাকার পর সীমিত আকারে খুলে দেয়া হয়েছে রাঙ্গামাটির আকর্ষণীয় পর্যটন কমপ্লেক্স। গত ১৮ মার্চ হতে বন্ধ থাকার পর (৩ আগস্ট) সোমবার দুপুরে খুলে দেয়া হয়েছে আকর্ষণীয় ও বিভিন্ন জায়গা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্স।

রাঙ্গামাটি পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাৎ করে তার পরামর্শের ভিত্তিতে সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। তাই আপাতত সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কমপ্লেক্সটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, করোনা মহামারির কারণে সরকারি নির্দেশনায় গত ১৮ মার্চ বন্ধ করা হয়েছিল রাঙ্গামাটি পর্যটন কেন্দ্রটি। গত চার মাসে প্রায় এক কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের। এখন পর্যটন কমপ্লেক্সটি খুলে দেয়ার পর ঠিক কি পরিমাণ পর্যটক আসবেন অথবা আদৌ আসবেন কিনা সেটা বোঝা যাবে আগামী কয়েকদিনের পরিস্থিতির ওপর।

তবে সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ছাড়া কাউকে পর্যটনকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হবে না বলেও জানান রাঙ্গামাটি পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক। রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ জানান, রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপকের সাথে কথা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে কেউ যেনো মাস্ক ছাড়া সেখানে না যায় এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয় এ ব্যাপারে জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাঙ্গামাটি শহরের একেবারেই শেষ প্রান্তে অবস্থিত দেশের প্রধান সরকারি পর্যটন সংস্থা বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন পরিচালিত পর্যটন কেন্দ্রটি।

‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণের জন্য অসংখ্য বোট ছাড়াও এখানে রয়েছে একাধিক মোটেল ও কটেজ। রাঙ্গামাটিতে বেড়াতে আসা ট্যুরিস্টদের প্রধান গন্তব্যই তাই এই কেন্দ্রটি।

আমারসংবাদ/এসটিএম