বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০

১৭ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগস্ট ০৫,২০২০, ১২:২২

আগস্ট ০৫,২০২০, ০৮:২৫

নিখোঁজ সেই মিশুর লাশ মিলল খালে

চাঁদপুর জেলাধীন কচুয়া থানা। থানার বড় হায়াতপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী হানিফের মেয়ে নবম শ্রেনী পড়ুয়া মেধাবী ছাত্রী জান্নাতুল নাঈম মিশু (১৪)। গত শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশে ঘাষ কাটতে যায়।

কিন্তু বাড়িতে না ফেরায় বাড়ির লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করার একপর্যায়ে ঘাস কাটার জায়গায় গিয়ে ওড়না ও কাস্তে দেখতে পায়। কিন্তু আশপাশের কোথাও পাওয়া যায়নি মিশুকে।

এরপরই মিশুর পরিবার কচুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে। সম্পূর্ণ ক্লু বিহীন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে শেষ অবদি সফল হয়েছে ওসি ওয়ালিউল্লা অলির নেতৃত্বাধীন কচুয়া থানা পুলিশ।

কচুয়া থানা পুলিশ জানায়, গত ৩১ জুলাই (শুক্রবার) দুপুরে মিশু ঘাস কাটতে বাড়ির পাশের বিলে যায়। বিকাল আড়াইটা পর্যন্ত বাড়ী ফিরে না আসায় পরিবারসহ স্থানীয় লোকজন বিলের মধ্যে খুঁজতে থাকে মিশুকে।

খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয়দের ব্যাপক তল্লাশীতে এ্যালমোনিয়ামের বোল, ঘাস কাটার কাচি ও গায়ের ওড়না পাওয়া গেলেও মিশুকে পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে মিশুর পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে। কচুয়া থানা পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তসহ সন্দিগ্ধ ব্যক্তিদের গতিবিধি উপর নজরদারী বৃদ্ধি করে। ১ জুলাই (শনিবার) মিশুর মামা ইকবাল হোসেন (৩৫) কচুয়া থানার নিখোঁজ ডায়েরী নং- ১২ ডায়রীভুক্তও করেন।

ঈদের দিন হওয়া সত্ত্বেও ওসি ওয়ালিউল্লা অলি এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও নিখোঁজ ডায়েরীর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মকবুল ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বড়হায়াতপুর বিলে যান। বিল ও আশপাশের এলাকায় ফের তল্লাশি এবং সন্দিগ্ধ ব্যক্তিদের গতিবিধিতে নজরদারী বৃদ্ধিসহ অব্যাহত রাখেন।

এরই মধ্যে ২ জুলাই কচুয়া থানা পুলিশ খবর পায়, বাড়ীর পাশের বিল এবং বিলের দক্ষিন পার্শ্বে খালের পানিতে নিখোঁজ মিশুর লাশ ভাসছে। তাৎক্ষনিক ওসি ওয়ালিউল্লাহ অলিসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিশুর লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করতঃ মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করার জন্য মিশুর লাশ চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

৩ জুলাই (সোমবার) মিশুর মা ফাতেমা বেগম শেফালী বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ঘটনাস্থল পুনরায় পরিদর্শনসহ পূর্বের করা জিডি তদন্তের ধারাবাহিকতায় সন্দিগ্ধ ব্যক্তিদের গতিবিধির বিবেচনা এবং মামলার এজাহার পরবর্তী সন্দিগ্ধ আসামীদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালান ওসি ওয়ালিউল্লাহ অলি।

বিশ্বস্ত গুপ্তচরের মাধ্যমে সন্দিগ্ধ আসামী বড়হায়াতপুর গ্রামের মনিরের ছেলে নুর আলম ওরফে নুরা (২৫), গান্দেরগাও গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে সজিব হোসেনকে (১৯) বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষমও হন তিনি।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাৎক্ষনিক জেলা পুলিশ সুপার মাহবুবর রহমানসহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) আব্দুর রহিম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কচুয়া সার্কেল আফজাল হোসেনকে অবহিত পূর্বক পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় আসামীদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

বিভিন্ন কুট কৌশল অবলম্বন করার একপর্যায়ে তারা প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করেছে জানিয়ে ওসি ওয়ালিউল্লাহ অলি বলেন, আসামী সজিব এ ঘটনার বিস্তারিত ধারাবাহিকভাবে তুলেও ধরে।

১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহন করা হয়েছে জানিয়েও তিনি বলেন, নুরাকে পুলিশ রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে এ মামলার বিষয়ে গভীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আমারসংবাদ/এনএমএম/এসটিএম