মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

১৪ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

আগস্ট ০৪,২০২০, ১১:২৪

আগস্ট ০৪,২০২০, ১১:২৪

কুড়িগ্রামে পানি কমলেও ভাঙন তীব্র

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এবারের বন্যায় ধরলা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন বড়ভিটা ইউনিয়নের চর মেকলি, চর বড়ললই ও পশ্চিম চর ধনীরাম গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার।

অনেকেই শেষ সম্বল হারিয়ে হয়ে পড়েছেন দিশাহারা। মিলছে না পর্যাপ্ত ত্রাণ ও আর্থিক সহযোগিতা। তাই সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন অসহায় পরিবারগুলো।

এবারে তিন ধাপের বন্যায় ধরলা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। একেকটি পরিবার পাঁচ থেকে সাতবার করে ঘরবাড়ি স্থানান্তরিত করেও রক্ষা পাননি।

অনেকেই আবার শেষ সম্বল হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। ভাঙতে ভাঙতে যখন সব শেষ তখন অসহায় হয়ে অনেককেই ছাড়তে হয়েছে জন্মস্থান এলাকা। অনেকেই আবার অন্যের জমিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও কর্মহীনতায় পরে ছেলেমেয়ে ও পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিগত দুই বছরে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় শতাধিক পরিবারের ভিটেমাটি।

নদী ভাঙনের শিকার ভোলা মিঞা জানান, আমার বাড়িসহ অন্যান্য মানুষের বাড়ি ধরলা নদীর প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে এ পর্যন্ত আমরা কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাইনি, সরকার যদি একটু আমাদের সহযোগিতা করতো তাহলে আমরা বাঁচতে পারতাম।

ময়না বেগম জানান, ধরলায় আমার ভিটেমাটি সব ভেঙে নিয়ে গেছে, মানুষের জায়গায় কোনোভাবে আছি। খাবারের কিছুই নাই। সরকার যদি একটু আমাদের সাহায্য করে তাহলে খুব উপকার হয়।

বসতবাড়ি হারা সামেদ আলী বলেন, আমার ভিটেবাড়ি সব নিয়ে গেছে, ঘর তোলার কোনো জায়গা নাই। বিভিন্ন জায়গায় আমার বসত ঘর বাড়ি রেখে দিয়েছি। কোনো খাবার নেই। সরকার যদি একটু আমাদের দিকে দেখতো তাহলে খুব ভালো হতো।

রোজিনা বেগম জানান, ধরলায় আমাদের বাড়িঘর সব ভেঙে গেছে। কোনোমতে বসতঘর বাঁচাতে পেরেছি। অন্যের বাড়িতে গিয়ে বাড়ি ঘর দুয়ার করব, বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি, সরকার যদি আমাদের সাহায্য করে তাহলে একটু ভালোভাবে চলতে পারবো।

শামসুল হক জানান, বাড়িঘর ধরলায় ভাঙার কারণে খুব অসহায় হয়ে পড়েছি, একজনের কাছে অতি কষ্টে আশ্রয় পেয়েছি খুব কষ্টে জীবনযাপন করছি সরকারি সাহায্য পেলে কোনোমতে জীবনটা বাঁচাতে পারতাম।

বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খয়বর আলী জানান, আমার ইউনিয়নের ৭৫টি বাড়ি ইতোমধ্যে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা বসত ভিটা ছেড়ে রাস্তায়, অন্যের জায়গায় ও আবাসনে বসবাস করছে। আমরা ইতোমধ্যে তাদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার দিয়েছি। তবে তাদের সরকার আর্থিক সাহায্য করলে খুবই ভালো হতো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান, ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে ঘরবাড়ি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে সেটি আমি শুনেছি।

আমি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সেগুলো তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছি, ইতোমধ্যে আমরা তাদের সরকারি ত্রাণও দিয়েছি, ভবিষ্যতে তাদের সাহায্যের জন্য কোনো অনুদান এলে আমরা দিয়ে দেবো।

আমারসংবাদ/এসটিএম