শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০

২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

স্পোর্টস ডেস্ক

মে ১৪,২০২০, ১০:৫৮

মে ১৪,২০২০, ১০:৫৮

মাশরাফি-তামিমদের ত্রাণ ছিনতাই, ৭ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

 

চলমান করোনা মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অনেক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের ন্যায় অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন ক্রিকেট তারকা তামিম, মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদরা। তবে অসহায়দের ত্রাণ দিতে গিয়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় হামলার শিকার হয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের ‘টিম বয়’নাসির মিয়া ও তার বড় ভাইসহ কয়েকজন।

গত ৪ মে উপজেলার বাঙ্গালকান্দি ও সৈয়দপাড়ায় বিতরণকারীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। তবে থানায় মামলা নেওয়া হয় চারদিন পর ৮ মে। পাঁচজনের নামে মামলা দায়ের হলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ‘টিম বয়’ নাসির মিয়া করোনা দুর্যোগে মাশরাফি, রিয়াদ, তামিম ও মুশফিকের সহযোগিতায় তার নিজ গ্রাম বাঙ্গালকান্দি ও পার্শ্ববর্তী সৈয়দ পাড়ায় ২০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ দেয়ার উদ্যোগ নেন। গত ৪ মে বাঙ্গালকান্দি গ্রামে কিছু মানুষকে ত্রাণ দিয়ে সৈয়দ পাড়ায় ত্রাণ দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা ও ত্রাণ ছিনতাই করা হয়। এতে নাসির মিয়া ও তার বড় ভাই বাবুলসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

নাসির মিয়া অভিযোগ করে বলেন, লংগাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল-আমিন বিপ্লবের অনুমতি না নিয়ে ত্রাণ দেয়ায় চেয়ারম্যানের লোক রফিক, আপন, খাইরুল, রুবেল ও রাব্বিসহ ৮-১০ জন জামায়াত-শিবির অপবাদ দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় আমাদের কাছে থাকা ত্রাণসামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। পরে উল্টো আমাদের ছাগল চুরির অপবাদ দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে গেলে প্রথমে অভিযোগ নেয়নি। পরবর্তীতে মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহ ভাইয়ের সহযোগিতায় মামলা করেছি।

নাসিরের বড় ভাই বাবুল মিয়া জানান, হামলায় আহত হয়ে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা করায় তাদের উপর ছাগল ছুরির অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রকাশ করে তাদের মানহানি ঘটাচ্ছে ‘চেয়ারম্যানের’ লোকজন।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী বলেন, নাসির হচ্ছে আমাদের এলাকার গর্ব। তারা আমরা সবাই সম্মান করি। সে করোনাভাইরাস দুর্যোগে মানুষকে সহযোগিতা করতে ছেয়েছিল। বিনিময়ে আমরা তাকে অসম্মান করেছি, যা মোটেও কাম্য নয়।

লংগাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল-আমিন বিপ্লব বলেন, ওসি কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি ছাড়া রাতের আঁধারে ত্রাণ দেয়া নিষেধ। তাই এমন হট্টগোল হয়েছে। ত্রাণ দেয়ার সময় ছাত্রদলের এক নেতা নাসিরের সাথে অংশ নেয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

এ ব্যাপারে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান খান বলেন, ত্রাণ দেয়ার সময় একটা মারামারির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে আমাদের কাছে একটি অভিযোগ দিলে আমি নিজেই সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে মামলা নেই। সেই সাথে আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ওসি আরও বলেন, নাসিরের ভাই বাবুলের বিরুদ্ধে ছাগল চুরির একটি অভিযোগ এসেছে; সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা যখন এই দুর্যোগ মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতার চেষ্টা করছি, তখন কেউ কেউ আমাদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে আমরা হতাশ।

তিনি আরও বলেন, নাসির ২০-২২ বছর ধরে জাতীয় ক্রিকেট টিমে চাকরি করছেন। তিনি অত্যন্ত নম্র-ভদ্র; সবার আদরের। নাসিরের পরিবারের উপর হামলার পরও তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে; যা মোটেও কাম্য নয়।

আমারসংবাদ/জেআই