সোমবার ০১ জুন ২০২০

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

স্পোর্টস ডেস্ক

এপ্রিল ১৯,২০২০, ০৫:০০

এপ্রিল ১৯,২০২০, ০৫:০০

করোনা: নিলামে মুশফিকের ইতিহাসগড়া ব্যাট

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম। ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেছিলেন ঠিক ২০০। নিজের কাছে থাকা স্মারকগুলোর মধ্যে মুশফিকের হৃদয়ের খুব কাছে ইতিহাসগড়া সেই ইনিংস খেলার ব্যাট। করোনাভাইরাস দুর্গতদের সহায়তায় নিলামে উঠছে তার সেই ব্যাট।

মুশফিকের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির ব্যাটের সঙ্গে আরও কিছু স্মারক নিলামে তুলতে যাচ্ছেন এই ব্যাটসম্যান। এই নিয়ে কয়েকটি ই-কমার্স প্লাটফর্মের সঙ্গে আলাপ আলোচনাও হয়েছে। এর মধ্যে একটি ই-কমার্স প্লাটফর্মের সঙ্গে নিলাম প্রক্রিয়া পরিচালনা নিয়ে কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত। প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির সেই ব্যাট ছাড়াও আলোচিত কয়েকটি ম্যাচের প্যাড, গ্লাভস ও গত বিশ্বকাপের একটি ব্যাট নিলামে তুলবেন মুশফিক।

মুশফিক বলেন, অবশ্যই ব্যাটটি আমার কাছে স্পেশাল। এরকম একটা ইতিহাসের সঙ্গে নিজের নাম জড়িয়ে আছে ওই ব্যাট দিয়েই, অনেকের চাইলেও এমন কিছুর সৌভাগ্য হয় না। প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান তো আর কেউ হতে পারবে না। আমার খুবই ভালোলাগার একটি ব্যাট এটি। কিন্তু মানুষের জীবনের চেয়ে বড় কিছু নেই। তাই এটিই নিলামে তুলতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমার এই ত্যাগের কারণে যদি দুই-একজন মানুষেরও উপকার হয়, এই দুঃসময়ে তারা কিছু সাহায্য পায়, তাহলে সেটিই আমার জন্য হবে বড় পাওয়া।

মুশফিক বলেন, যদি দেখি যে ডাবল সেঞ্চুরির ব্যাটে ভালো সাড়া মিলছে, তাহলে আমার কাছে আরও স্মারক আছে, সেগুলিও নিলামে তুলব। আমার ত্যাগ থেকে যদি মানুষের উপকার হয়, এর থেকে ভালো কিছু আর হতে পারে না আমার কাছে।

এছাড়াও বগুড়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ২০০ পিপিই, ২০০ গ্লাভস ও ২০০ মাস্ক পাঠান তিনি।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেসবুক লাইভে এসে দেশের ক্রিকেটারদের স্মারক নিলামের তুলে করোনা তহবিলে সাহায্য দেওয়ার আহবান জানিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে সাকিবের এই আহবানের আগেই মুশফিক ব্যাট নিলামের তোলার ব্যাপার নিয়ে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।

করোনাভাইরাস মহামারিতে সংকটময় সময়ে দেশের ক্রিকেটাররা অবশ্য সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন শুরুতেই। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি ও সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে খেলা ২৭ ক্রিকেটার দান করেন এক মাসের বেতনের অর্ধেক টাকা। প্রথম শ্রেণির চুক্তিতে থাকা ৯১ ক্রিকেটারও দান করেন মাসিক বেতনের অর্ধেক টাকা। সামর্থ্য অনুযায়ী কোয়াবের তহবিলে দান করেছেন যুব বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটাররাও। এছাড়া অনেক ক্রিকেটার ব্যক্তিগত উদ্যোগেও চালিয়েছেন সহায়তা কার্যক্রম। এছাড়া মুশফিক নিজ শহর বগুড়ার সদর হাসপাতালে দিয়েছেন ২০০ পিপিই, মাস্ক ও গ্লাভস।

কিছুদিন আগে করোনা মোকাবিলায় নিজের বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি নিলামে তোলেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার জস বাটলার। উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যানের জার্সিটি ৬৫ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়। বাংলাদেশি অর্থমূল্যে যা ৬৮ লাখ টাকার সমান।

প্রসঙ্গত, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকের আছে সর্বোচ্চ তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। ৭০ টেস্ট খেলে দেশের হয়ে ৪ হাজার ৪১৩ রান করেছেন তিনি।

আমারসংবাদ/জেআই