সোমবার ০১ জুন ২০২০

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

ফেব্রুয়ারি ০২,২০১৫, ১২:০৪

জানুয়ারি ০৪,২০২০, ১০:৪০

ইতিহাসের পাতায় নোভাক জকোভিচ

দু'জনের বয়সের ব্যবধান মাত্র সাত দিন! নোভাক জকোভিচের জন্ম ১৯৮৭-র ২২ মে। অ্যান্ডি মারের ১৫ মে। অথচ অর্জনের খাতায় কত পার্থক্য!

নতুন পার্থক্য সূচিত হলো আবারও। টানা তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে হারলেন স্কটিশ মারে। আর জকোভচি? অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ইতিহাসের পাতাটাই বদলে দিলেন। উন্মুক্ত যুগের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে জিতলেন পঞ্চম শিরোপা। জেতার পথে তিন ঘণ্টা ৪০ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মারেকে হারালেন ৭-৬ (৭/৫), ৬-৭ (৬-৪), ৬-৩ ও ৬-০ সেটে।

অবশ্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বলতে ওই প্রথম দুই সেটই। স্কোর লাইনই বলছে, এর পর জকোভিচের কাছে রীতিমতো উড়ে গেছেন মারে!

প্রথম দুই সেটই গেছে টাইব্রেকারে। প্রথমটা জিতেছেন বিশ্বের এক নম্বর তারকা। দ্বিতীয়টি ছয় নম্বর বাছাই মারে। পরের দুই সেট হেসেখেলে জিতেই ইতিহাস গড়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন সর্বোচ্চ চারবার করে জিতেছিলেন দুই কিংবদন্তি যুক্তরাষ্ট্রের আন্দ্রে আগাসি ও সুইজারল্যান্ডের রজার ফেদেরার। ২০১৩ সালে শিরোপা জিতে তাদের স্পর্শ করেন জকোভিচ। ২০১৪ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ায় ইতিহাস গড়ার সুযোগ হারিয়েছিলেন।

এবার আর সুযোগটা হাতছাড়া করলেন না! অবশ্য রজার ফেদেরার এখনও খেলছেন বলে তারও সম্ভাবনা আছে জকোভিচকে ধরার। তবে এবার তৃতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার আগে গত চার আসরেই সেমি থেকে বিদায় নেওয়া ৩৩ বছর বয়সী ফেদেরার আর পারবেন কি-না সন্দেহ!

জকোভিচের এই কীর্তির সামনে অবশ্য ঢাকা পড়ে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রয় এমারসন। উন্মুক্ত যুগ শুরু হওয়ার আগেই এই টুর্নামেন্টে যা ইতিহাস গড়ার গড়ে ফেলেছিলেন এমারসন।

 ১৯৬১ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ছয়বার জিতেছিলেন এই ওপেন। ১৯৬২ সালটাই শুধু তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল! এখন তো বোধহয় গ্র্যান্ডস্লামের ইতিহাসই তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 মাত্র ২৮ ছুঁই-ছুঁই বয়সেই জকোভিচ যেভাবে উন্মুক্ত যুগের রেকর্ডটা নিজের করে নিলেন, তাতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সর্বযুগেরই সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ী হিসেবে ইতিহাস তাকে এখনই হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আর তো মাত্র দুটি ফাইনালই জেতা চাই তার!