শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০

২৬ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

জাকির হোসেন॥প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ১৭,২০১৭, ১১:৫৯

জানুয়ারি ০৪,২০২০, ১০:৪০

দুবছর ঘুরেও নিয়োগ বঞ্চিত ৭০ কর্মকর্তা

পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক নিয়োগের জন্য সুপারিশকৃত ৭০ জন কর্মকর্তা গত দুবছরেও নিয়োগ পাচ্ছেন না। খাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগের জন্য ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হন তারা। এরপর গত দুবছর ধরে বিরামহীনভাবে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু কোনো জায়গা থেকেই কোনো সদুত্তর পাচ্ছেন না তারা। কেন নিয়োগ পাচ্ছেন না ওইসব কর্মকর্তারা জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার সংবাদকে বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে নিয়োগের জন্য বিদ্যমান বিধিটি ১৯৮৩ সালে সামরিক সরকারের আমলে করা। আদালত সামরিক সরকারের আমলের সব বিধি ও আইন অবৈধ ঘোষণা করায় এ নিয়োগ বিধিটিও বাতিল হয়ে যায়। তাই তাদের নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে নতুন বিধি প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি সম্পন্ন হলে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে। এর আগে নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই।

প্রসঙ্গত, ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ অপর ৯১২ জনকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নন-ক্যাডার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। এদের সবাইকে ২০১৫ সালেই নিয়োগ দেয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১৫০টি খাদ্য পরিদর্শকের পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও উত্তীর্ণ ৭০ জন নিয়োগ পাচ্ছেন না। ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ও খাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা একজন ছাত্র বলেন, পিএসসি আমাদের নিয়োগের সুপারিশ করে ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট। আর সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনার কথা বলে নিয়োগবিধি বাতিল করা হয় তারও ৩৪ দিন পর। তাই এ বিধির কথা বলে নিয়োগ স্থগিত রাখা কোনো অবস্থায় বাস্তবসম্মত নয়। কেননা, যখন সুপারিশ করা হয়েছিল তখন নিয়োগবিধি কার্যকর ছিল। তিনি বলেন, পিএসসি ২০১২ সালে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। সেই সময় থেকেই আমরা এ পদে চাকরির জন্য চেষ্টা করে আসছি। এই হিসেবে প্রায় ৫ বছর পার হলো এখনও চাকরিতে যোগ দিতে পারিনি।

এদিকে নিয়োগ প্রত্যাশী এক ভুক্তভোগী জানান, ভাই বয়স তো পার হয়ে যাচ্ছে। কবে বিয়ে করবো আর কবেই বা গড়বো সংসার। ইউনিভার্সিটি থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেয়ার পর পাঁচ বছর ধরে তো চাকরির পেছনেই ঘুরছি। সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি ২০১২ সালে। ২০১৫ সালে খাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। সেই থেকে শুধু চাকরির পেছনেই দৌড়াচ্ছি। বয়স তো আর বসে থাকে না।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, আমরা সবাই ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ও খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পিএসসি ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৭০ জনকে খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করে। খাদ্য মন্ত্রণালয় দীর্ঘ দুবছর ধরে তাদের নিয়োগ আটকে রেখেছে। তিনি বলেন, পিএসসির বিধি অনুযায়ী আমাদের সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয়বার পিএসসির অধীনে অন্য কোনো চাকরির জন্য আবেদন করার সুযোগ নেই। এছাড়া আমাদের বয়সও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন হতাশার মধ্যে দিন কাটছে। আর চাকরি শুধু কল্পনাতেই দেখছি, বাস্তবে নয়।