শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০

২৬ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

আফছার আহমদ রূপক॥প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ১৭,২০১৭, ১১:৫৯

জানুয়ারি ০৪,২০২০, ১০:৪০

বিএনপি এখন লন্ডনে!

সহায়ক সরকারের অধীনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি গত রমজানের ঈদের পর রাজপথে আন্দোলনে নামার হুঙ্কার দিয়েছিল। পাশাপাশি রাজপথে নিজে উপস্থিত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও। কিন্তু সেই বিএনপি ও খালেদা জিয়া রাজপথে নামেনি। বরং উল্টো বলা যায় বিএনপি এখন লন্ডনে। কারণ দলের দুই প্রধান নেতা ও শক্তিই এখন সেখানে। তারা হলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদাপুত্র তারেক রহমান। খালেদা জিয়া লন্ডন গেছেন গত শনিবার রাতে। আর তারেক রহমান সেখানে আছেন ২০০৮ সাল থেকেই।

এ অবস্থায় বর্তমানে বিএনপি অনেকটা অভিভাবকহীন। এমনিতেই গুম. খুন, মামলা-হামলার ভয়ে নেতাকর্মীরা চুপষে গেছেন, তারপর আবার দলটির প্রধান দুই শক্তিই লন্ডনে থাকায় চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, বিএনপি রাজপথে নয়, আছে লন্ডনে। কারণ যে দুজনের মাধ্যমে বিএনপি চলে তারা লন্ডনে থাকায় দলও তাদের সঙ্গেই আছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের চোখ এখন লন্ডনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দিকে। নেতাকর্মীদের অনেকেই ভাবছেন মা-ছেলে সহায়ক সরকার ও এই দাবি পূরণে আন্দোলনের রূপরেখার পাশাপাশি আগামী জাতীয় নির্বাচনের এমপি প্রার্থীও ঠিক করে ফেলতে পারেন। মা-ছেলের আলোচনায় থাকতে পারে আরো দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও। যদিও পা এবং চোখের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেছেন খালেদা জিয়া। কিন্তু নেতাকর্মীরা বলছেন এর ফাঁকেই এই দুটি বিষয়ের পাশাপাশি দলের অন্যান্য বিষয়ে দলের জন্য কী সিদ্ধান্ত দেবেন সেই আশায় বুক বেঁধে আছেন তারা।

বিএনপির রাজনীতি এ মুহূর্তে লন্ডনকেন্দ্রিক এ অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী আমার সংবাদকে বলেন, এতদিন নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার, হামলা, মামলা ও গুমের ভয় করলেও এখন অনেকেই মাঠে নামতে চাচ্ছেন। তারা মনে মনে তৈরিও ছিলেন সহায়ক সরকারের দাবিতে খালেদা জিয়া আন্দোলনের ডাক দিলে তারা তাতে সাড়া দিয়ে রাজপথে নামবেন। কিন্তু খালেদা জিয়া আন্দোলনের ডাক না দিয়ে হঠাৎ করে লন্ডল চলে যাওয়ায় আন্দোলনের প্রস্তুতি হোঁচট খেয়েছে এবং নেতাকর্মীরাও মনোবল ভেঙে ফেলেছেন। তাদের মনে প্রশ্ন খালেদা জিয়া কখন দেশে ফিরবেন এবং ফিরেই বা কেমন সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রকাশ করবেন এবং সরকার তা না মানলে কী ধরনের আন্দোলনের ডাক দেবেন, এ নিয়ে যথেষ্ট হতাশ তারা।

নেতাকর্মীরা বলছেন ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতাকর্মী বছরের পর বছর নিখোঁজ আছেন। অনেক নেতাকর্মী নিখোঁজের ভয়ে আছেন। তাতে দিনদিন দল দুর্বল হয়ে পড়ছে বিএনপি। এ সুযোগে সরকারি দল আরও চেপে ধরছে। এই অবস্থায় এখনও ঘরে বসে থাকলে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বিএনপি। তাই খালেদা জিয়া এ মুহূর্তে বিদেশ না গিয়ে যদি আন্দোলনে রাজপথে নামতেন তাহলে দল চাঙা হয়ে উঠত। তিনি এবং তার ছেলে তারেক রহমান বিদেশ থাকায় বিএনপি আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। অথচ চেয়ারপারসন রাজপথে নামলে তার প্রতি দরদ এবং পদ ঠিক রাখতে হলেও অনেক নেতাকর্মী রাস্তায় নামবেন।

তখন আপনি আপানি আন্দোলন গতি পাবে এবং কাক্সিক্ষত সহায়ক সরকারের দাবিও পূরণ হতে পারে। এ মুহূর্তে তারা খালেদাকে রাজপথে নামানো ও সহায়ক সরকারের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি অংশ লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে এসে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তারা জানেন তারেক রহমান দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার হবেন। কিন্তু এই গ্রেপ্তারকে তারা পজিটিভ হিসেবে দেখছেন। তাদের ধারণা তারেক জেলে থাকলে তখন সহায়ক সরকারের দাবির পাশাপাশি তার মুক্তির দাবিও জোরালো হবে। এর কারণ বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলে অসংখ্য কর্মী তারেকের ভক্ত। প্রিয় নেতা জেলে থাকলে ডর-ভয়ের তোয়াক্কা না করে মাথাচাড়া দিয়ে জেগেও উঠতে পারে এসব কর্মী। কিন্তু খালেদা জিয়া ও তারেক দেশে না থাকায় এসব স্বপ্ন যেন স্বপ্নই থেকে যাবে বলে মনে হচ্ছে নেতাকর্মীদের। নেতাকর্মীরা বলছেন ২০১৫ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে অবরোধ ডেকে খালেদা জিয়া দলীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাবন্দী থেকে ভুল করেছিলেন। আর এখন দলের দুঃসময়ে লন্ডন চলে গিয়ে আরেকটি ভুল করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি মনে করি সহায়ক সরকারের দাবিতে আগামী আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজে থেকেই সাহস ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে। তারপরও যদি নেত্রী (খালেদা জিয়া) রাজপথে কর্মীদের সঙ্গে থেকে নেতৃত্ব দেন তাহলে অবশ্যই আন্দোলনের ফল ভালো হবে। তার মানে এই নয় যে, চেয়ারপারসন ও তারেক রহমান লন্ডনে আছেন বলে বিএনপির ক্ষতি হবে। বরং নেত্রী দেশে ফিরে আসার পর এমন কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেন যাতে বিএনপি আবারও আগের মতো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। একই অভিমত দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দলের ভালো চিন্তা করেই নেত্রী বিদেশে গেছেন। ফিরে এসে এমন কোনো বার্তা দেবেন যাতে বিএনপির আন্দোলনে গতি আসবে। তবে একথা ঠিক যে, দলের প্রধান দুই নেতা লন্ডনে থাকায় এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের নজর সেখানেই।