শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০

২৬ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

জাহিদুল ইসলাম শিহাব॥প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ১২,২০১৭, ১২:১৪

জানুয়ারি ০৪,২০২০, ১০:৪০

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি আমদানি আপন জুয়েলার্সসহ ১৭ প্রতিষ্ঠানের

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি আমদানি করেছে দেশের নামিদামি ১৭ প্রতিষ্ঠান। শুল্ক ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর বিগত ৩ বছরে এসব প্রতিষ্ঠানের ২২টি গাড়ি জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া একই অভিযোগে একইসময়ে কিছু ব্যক্তিগত গাড়িও আটক করেছে শুল্ক ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে ৬৮টি গাড়ি জব্দ করেছে সংস্থাটি। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি আমদানিকারক ১৭ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে-আপন জুয়েলার্স, দুবাই এভিয়েশন কর্পোরেশন, এবিকো ইন্ডা লিঃ, ভারসাটাইল অটোমোবাইল, মের্সাস মুনস্টার মার্কেট (প্রা.) লিঃ, মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কসপ লিঃ, তমা কনস্ট্রাকশন লিঃ, স্বদেশ অটো লিঃ, এ ওয়ান অটো মোবাইলস, টিবিএইচ কোং লিঃ, হুহলস, শিউলি পেট্রোলপাম্প, ইন্ট্রাকো গ্রুপ, রুপরেখা, দি কেসেল খুলনা হোটেল, মাইন স্টোন, এসজিএস ট্রেডিং লিমিটেডে।

এরমধ্যে মুনস্টারের শুল্ক ফাঁকি ৩৪ লাখ ৬২ হাজার ৪০৬ টাকা ৭৭ পয়সা, দুবাই এভিয়েশন কর্পোরেশন ৩৪ কোটি ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮’শ ৫৪ টাকা ৯ পয়সা, এবিকো ইন্ডা লিঃ ১ কোটি ৮২ লাখ ৯৪ হাজার ৪৬ টাকা ১৭ পয়সা, ভারসাটাইল অটোমোবাইল ১৭ কোটি ২৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬’শ ২১ টাকা ৮৮ পয়সা, মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কসপ লিঃ ১ কোটি ৪৫ লাখ ২ হাজার ৪ ’শ৬২ টাকা ৫ পয়সা, তমা কনস্ট্রাকশন লিঃ ৪৯ লাখ ৩১ হাজার ৫ শ ৪৯ টাকা ২ পয়সা, স্বদেশ অটো লিঃ ১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬ হাজার ৩ শ ২১ টাকা, এ ওয়ান অটো মোবাইলস ২ কোটি ৮৮ লাখ ৯৫ হাজার ৫ শ ২০ টাকা, টিবিএইচ কোং লিঃ ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৩শ ১৮ টাকা ৯৪ পয়সা, হুহলস ৪৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩ শ ২৮ টাকা, শিউলি পেট্রালপাম্প ৮ কোটি ৮ লাখ ১ হাজার ৯ শ ৫৭ টাকা ৩৩ পয়সা, ইন্ট্রাকো গ্রুপ ১ কোটি ২৪ লাখ ৬ হাজার ৬ শ ৫০ টাকা, রুপরেখা, দি কেসেল খুলনা হোটেল, মাইন স্টোন, এসজিএস ট্রেডিং।

এসব প্রতিষ্ঠান মোট শুল্ক ফাঁকি দেয় ৭০৫ কোটি ১২ লাখ ৪ হাজার ৩৬ টাকা ১২ পয়সা। জানা গেছে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ২২টি গাড়ির প্রকৃতমূল্য ১০০ কোটির অধিক। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ জানায়, আটক গাড়ির মালিকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পরিশোধ করার আবেদন করেছেন। অনেক মালিক আবার গাড়ি ফিরিয়ে নিতে অনাগ্রহী। অনেকেই ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে গাড়ি আমদানি করেছে। জানা গেছে শুল্ক পরিশোধ করে নিতে গাড়িগুলো নেওয়া যাবে। না নিলে নিলামে উঠবে।

১৭টি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও যেসব নামিদামি ব্যক্তি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি ব্যবহার করছেন, তারা হলেন কাজী রেজাউল মোস্তফা, অভিনেত্রী জাকিয় মুন, জাফর সাদেক চৌধুরী, প্রিন্স মুসা বিন শমসের, রেজাউল হক তালুকদার, আসিফ মাহমুদ, রিয়াজ মাহমুদ খান, সৈয়দ আজম উদ্দিন, তানিয়া রহমান, মু. মহসিন আলম, রাকিবুল মু.আনোয়ার, মু. খায়ের চৌধুরী, বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি থর্মাস মাইকেল কেই, ইউনাইডেট ন্যাশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের প্রতিনিধি সন্তোস প্রতাপ ধুঙ্গানার, উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিক মি. হ্যান সন ইক, মিশরের রাষ্ট্রদূত মাহমুদ ইজ্জতসহ দেশ এবং দেশের বাহিরের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গরা।

আটককৃত গাড়িগুলো বিভিন্ন দামি ব্র্যান্ডের মার্সিডিজ রেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, ল্যান্ড রোভার, রেঞ্জ রোভাল জিপ, রোলস রয়েল, সিডান, লেক্সাস, মিনি কুপার, ভক্সওয়াগন, ওডি আর-৮, নিসান, মিথুসুবিজি, জাগুয়ার ব্র্যান্ড, টয়োটা সিডান, টয়োটা প্রিমিও, পোরশে, অডিএ-৬, অডিকিউ-৫, ট্যাক্সি ক্যাবসহ এপর্যন্ত প্রায় ৬৮টি গাড়ি আটক করেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত বিভাগ। এসব গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ- অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাল কাস্টমস দলিল বিআরটিএ-তে দাখিল করে রেজিষ্টেশন গ্রহণ। এয়ার সার্ভিস এগ্রিমেন্ট এর আওতায় শুল্ক মুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানির সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত তথ্য সরবরাহ ও সঠিক তথ্য সরবরাহ না করে গাড়ি আমদানি। জালিয়াতের মাধ্যমে গাড়ির রেজিষ্টেশন গ্রহণ। কারটেন ডি প্যাসেজ সুবিধায় শুল্ক মুক্ত ভাবে প্রদত্ত অঙ্গিকারনামা ভঙ্গ।

আমদানিকৃত গাড়ি এসআরও উল্লিখিত শর্ত লংঘিত হওয়ায় প্রযোজ্য শুল্ককরাদি ফাঁকি প্রধানকৃত গাড়ি নিজ অধিকারে সংরক্ষন ও ব্যবহার। শুল্ক করাদি ফাঁকি দিয়ে গাড়ি আমদানি। এস আর ও ০৫০/২০০৯, ১১/০৬/২০০৯এর শর্ত ০৭ অনুসারে তথ্য প্রাপ্তির পর বিআরটি-কে ট্যাক্সি ক্যাব হিসেবে মোটর গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের বাধ্য বাধকতা থাকলেও তা পরিপালিত না হওয়া। কম সিসি ঘোষণা দিয়ে গাড়ির আমদানির শুল্ক ফাঁকি দেওয়া। আমদানিকারক আমদানির কাগজপত্র জাল করে রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করা। পাশবুক হস্তান্তর না করে অবৈধভাবে গাড়ি বিক্রয়। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিএমডব্লিউ হিসাবে অনাপত্তি গ্রহণসহ এরূপ নানান জালিয়াতের দেশের নামি দামি ব্যক্তিরা।

সবশের্ষ গত ২৮ জুন কূটনৈতিক সুবিধার অপব্যবহার করা এবং বাংলাদেশে প্রিভিলেজড পারসন’ কোটায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করায় জাতিসংঘের ইউএনডিপির গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। ধুরাঙ্গা ২০১৬ সালের প্রথমদিকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। তার বাড়ি নেপালে। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের চলমান চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধ অভিযানের অংশ হিসেবে সকালে গুলশানের ১১৭ নম্বর সড়কের ৯/সি বাড়ির প্রথম তলার শিহাব’স অ্যাট্রিয়াম থেকে গাড়িটি জব্দ করা হয়। বিএমডব্লিউ মডেলের গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো অ-০০০৪৪৩।

সূত্রটি আরও জানায়, বিআরটিএ যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে এটি ভুয়া বলে জানা গেছে। ইন্টারন্যাশনাল রিলোকেশন অ্যাসিসটেন্স সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সালমান কালাম নামে এক ব্যক্তির ফ্ল্যাট থেকে গাড়িটি জব্দ করা হয়। জব্দের সময় তিনি কোনো আমদানি বা ক্রয় সংক্রান্ত দলিল শুল্ক গোয়েন্দার তদন্ত দলকে দেখাতে পারেননি। তবে তিনি উল্লেখ করেন গাড়িটি তার ভাড়াটিয়া নেপালি নাগরিক সন্তোষ ধুঙ্গানা ব্যবহার করতেন। এরপর ২৩ মে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকা থেকে রাজধানীর বনানীতে ধর্ষনের দায়ে কারাবন্দি শাফাত আহমদের বাবা দিলদার আহমেদের গাড়িটি জব্দ করেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। অস্বচ্ছ অর্থের সন্ধান করতে গিয়ে প্রথমে শুল্ক ফাঁকি ধরা পড়ে। এরপর দেখা যায় গাড়িটির ম্যানুফ্যাকচার ২০১১ সালের কিন্তু ২০০২ সালের দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা। তাই গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২১ মার্চ শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত ধনকুবের প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের ব্যবহৃত একটি কালো বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার গাড়ি আটক করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।