শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০

২৬ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

জাকির হোসেন॥প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ০৯,২০১৭, ১২:৪১

জানুয়ারি ০৪,২০২০, ১০:৪০

তবুও কমেনি চালের দাম

বেসরকারিপর্যায়ে আমদানি শুল্ক কমানো হলে চালের দাম কমবে বলা হলেও খুচরা বাজারে এখনও এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। বর্তমানে মোটা চাল প্রতি কেজি স্থান ও প্রকার ভেদে ৪৬ থেকে ৫০ টাকা এবং সরু চাল প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দোকানিদের সাফ কথা বেশি দামে কেনা তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কম দামে কিনতে পারলে কম দামেই বিক্রি করবো।

তবে কোথাও কোথাও মোটা চাল কেজি প্রতি ১ থেকে ২ টাকা কমেছে বলে জানাগেছে। জানতে চাইলে ঢাকার বাবু বাজারের মেসার্স প্রত্যাশা রাইস এজেন্সির মালিক আলমগীর হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, আমদানিকৃত ভারতীয় চাল প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৪১ টাকায় বিক্রি করছি।

একই দামে বিক্রি করছি গুটি স্বর্ণা চাল। যা আগে ছিল প্রতি কেজি ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা। আর মিনিকেট, নাজিরশাইল, বাসমতি, কাটারিভোগ যেগুলো আমরা সাধারণত খাই, এর দাম খুব একটা কমেনি। ১ টাকা কমতে পারে। আমদানি শুল্ক কমানো বিশেষ করে পাইকারি বাজারে মোটা চালের কেজি ৫ টাকা কমলেও খুচরা বাজারে কমেনি কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তারা আগেই বেশি দামে কিনেছে তাই তারা বেশি দামে বিক্রি করছে। সহজেই তো কেউ লোকসান দিতে চায় না।

বর্তমানের এই কম দামে যখন তারা কিনবে তখন তারা কম দামেই বিক্রি করবে। তবে কোথাও কোথাও চালে দাম ১ থেকে ২ টাকা কমেছে বলেও জানান তিনি।দোকানিরা ভারত থেকে আসা মোটা চাল কিছুটা কম দামে বিক্রি করলেও আগের মতই চড়া দামেই স্বর্ণা, বিআর আটাশ ও মিনিকেট চাল বিক্রি করছেন। রাজধানীর কয়েকটি মুদি দোকান ঘুরে দেখা যায়, বিআর আটাশ ৫০ থেকে ৫২ টাকা, বিআর ঊনত্রিশ ৫৪ টাকা, মিনিকেট ৫৮ টাকা, নাজিরশাইল ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বাজারে চালের দাম এখন কিছুটা নিম্ন গতিতে। এটা আরও কমবে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চাল এলে। যা আগামী ১২ তারিখের মধ্যে আসার কথা রয়েছে। অর্থাৎ সরকারিপর্যায়ে আমদানি ও বেসরকরিপর্যায়ে আমদানিকৃত চাল যখন একসঙ্গে বাজারে আসবে তখন মোটা চালের কেজি ৫ থেকে ৬ টাকা কমে আসবে। বাজারও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

এদিকে ভারত থেকে চাল আমদানির খরচ এবং আমদানি শুল্ক কমায় বর্তমানে প্রতি কেজি চালের খরচ পড়ছে ৩৯ টাকা। যা পাইকারিপর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪১ টাকায়। ফলে চাল আমদানিতে হিড়িক পড়েছে। ২০ দিন আগেও ভারত থেকে মোটা চাল আনতে প্রতি কেজি চালে খরচ পড়ত ৩৩ টাকা ৬০ পয়সা, সেই সাথে যোগ হতো ৮ টাকা শুল্ক আর ২ টাকা পরিবহন খরচ ধরে প্রতি কেজি মোটা চালের আমদানির দাম ছিল ৪৪ টাকা পর্যন্ত। তাই আমদানি প্রায় বন্ধ ছিল।

পাইকারি বাজারে চালের দাম কমলেও খুচরা বাজারে এর কোন প্রভাব নেই। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের দামে চাল ক্রয় করায় দাম কমানো যাচ্ছে না। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে চালের দাম কমে না। তবে বাজারে সরকারের তদারকি না থাকলে চাল আমদানির সুফল পাবে না ভোক্তরা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।