শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০

২৬ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

আফছার আহমদ রূপক॥প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ০৭,২০১৭, ১২:২০

জানুয়ারি ০৪,২০২০, ১০:৪০

ড্যাবের গন্ধ থাকলে কপালে বদলি নেই!

বিএনপিপন্থি চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর চিকিৎসকরা বড় বিপাকে। বলা যায়, অভাগার কপাল তাদের। জ্যেষ্ঠতা ও অন্যান্য যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন না গত সাড়ে আটবছর। জরুরি প্রয়োজনে পারছেন না চাহিদামতো বদলি হতে।

জরুরি প্রয়োজনে বদলি চাইলে বা পদোন্নতির আবেদন করলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে জিজ্ঞেস করছেন ড্যাবের গন্ধ আছে কিনা। গত বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি চাইলে এরকম প্রশ্ন করতে দেখা গেছে একজন চিকিৎসককে। পরে তিনি স্বাচিপের সদস্য বলার পর কাজ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে অন্য একজন চিকিৎসকও বদলি চেয়েছিলেন। স্বাচিপ না হওয়ায় তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ড্যাবের গন্ধ থাকার অজুহাতে শুধু যে পুরুষ চিকিৎসকদের বদলি ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে তা নয়। তাদের চিকিৎসক স্ত্রীরাও একই পাঁকে পড়েছেন। একই বঞ্চনার শিকার জামায়াত ও নির্দলীয় চিকিৎসকরাও। নির্দলীয় হওয়ায় একবছর ঘুরেও সংযুক্তি পাননি একজন চিকিৎসক। অথচ একই সময়ে আওয়ামী লীগপন্থি সংগঠন স্বাচিপের চিকিৎসকরা সংযুক্তি পেয়েছেন এক থেকে দেড় মাসে। কয়েকদিন আগে রাজধানীর একটি সরকারি স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের আরেকজন নারী চিকিৎসকও এ ধরনের বঞ্চনার শিকার হন। সবার থেকে জ্যেষ্ঠ এবং অন্য যোগ্যতায় পদোন্নতির তালিকায় একনম্বর ক্রমিকে থাকার পরও তাকে অধ্যাপক পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। বাধাদানকারী স্বাচিপের নেতারা বলেছেন, তিনি বিএনপিপন্থি চিকিৎসকের স্ত্রী। তাই ড্যাবের গন্ধ আছে।

শুধু এই চিকিৎসকই নন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি ও পদোন্নতির জন্য কোনো তালিকা এলেই ড্যাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হচ্ছে। তবে এ কাজে আগ বাড়িয়ে কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করছেন স্বাচিপ নেতারা। তারাই বলে দিচ্ছেন কারা ড্যাবের, কারা স্বাচিপের। এমনকী প্রভাব খাটিয়ে ড্যাবের চিকিৎসকদের বদলি ও পদোন্নতি ঠেকাচ্ছেন তারা। অথচ স্বাচিপের চিকিৎসক পরিচয় দিলে সাত খুন মাফ। অর্থাৎ বদলি ও পদোন্নতি মিলছে সহজেই। স্বাচিপ পরিচয় পেলে কর্মকর্তারাও খুশি।

এসবকিছুর মূল কারণ দলীয় প্রভাব। যে দল ক্ষমতায় যাবে সে দলের ডাক্তারদের পদোন্নতি নিশ্চিত। আর বিরোধী দলের ডাক্তার তখন হন কোণঠাসা। দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতা থাকার পরও বঞ্চিত থাকেন পদোন্নতি থেকে। এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে সরকারি দলের অনুসারি ডাক্তারকে দক্ষতা ছাড়াই পদোন্নতি দিয়ে ইউনিট চিফ পর্যন্ত করা হচ্ছে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে ওই ইউনিটপ্রধান জটিল অপারেশন ও চিকিৎসার বেশিরভাগই করান তার অধীনস্থ ডাক্তারকে দিয়ে। জ্যেষ্ঠতা ও দক্ষতা থাকার পরও ড্যাবের চিকিৎসকদের পদোন্নতি হয় না, কিন্তু স্বাচিপের পরিচয় পেলেই দ্রুত বদলি ও পদোন্নতি মিলছে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, জ্যেষ্ঠতা ও দক্ষতা না থাকলেই ড্যাবের চিকিৎসকরা বাদ পড়ছেন। তাদের দলীয় বিবেচনায় বাদ দেওয়া হয় না। ড্যাবের অযোগ্যরাই এসব কথা ছড়াচ্ছেন। জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, মেডিকেল জার্নাল থাকলে তারাও পদোন্নতি পাচ্ছেন। একই নিয়ম দেখানো হচ্ছে স্বাচিপের বেলায়ও। কোনোরকম পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে না।

জানা গেছে, অধ্যাপক পদটি ছাড়া ডাক্তারদের সব ধরনের পদোন্নতি দেওয়ার এখতিয়ার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। অধ্যাপক পদোন্নতি দিচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আর মেডিকেল অফিসার ও জুনিয়র কনসালটেন্টদের বদলি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি চিকিৎসকদের বদলির ক্ষমতা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। ৫ বছরের এমবিবিএস ও ৪ বছরের বিডিএস ডিগ্রি করার পর আরও ৫ বছরের এমএস, এমডি, এফসিপিএসসহ বিভিন্ন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বিশেষজ্ঞ হলে প্রথমে সহকারী অধ্যাপক বা জুনিয়র কনসালটেন্ট।

এ পদে তিনবছর অভিজ্ঞতা অর্জনের পর সহযোগী অধ্যাপক এবং সহযোগী হিসেবে ৫ বছর চাকরি করলে অধ্যাপক হিসেবে আবেদন করা যাবে। একবছরমেয়াদি ডিপ্লোমাও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। তবে শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেতে তাদের অভিজ্ঞতা সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপকের ক্ষেত্রে ৫ বছর এবং অধ্যাপক হতে হলে সহযোগী অধ্যাপক রূপে ৮ বছর চাকরি করতে হবে।