বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০

১৭ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

মাহমুদুল হাসান

প্রিন্ট সংস্করণ

আগস্ট ১২,২০২০, ১২:২০

আগস্ট ১২,২০২০, ১২:২০

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভার্চুয়াল ব্রিফিং

বন্ধ নাকি স্থগিত!

করোনা সংক্রমণ কমেনি। স্থিতিশীল পর্যায়ে আছে। এখনো নমুনা সংগ্রহের বিশ শতাংশের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। মৃত্যু প্রায় দেড় শতাংশ। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে স্বীকার করতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ব্রিফিং। শুরুতে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইডিসিআর) শুরু করলেও গত চারমাস ধরে চলছে ভার্চুয়াল ব্রিফিং করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরমধ্যে হঠাৎ ব্রিফিং বন্ধের ঘোষণা এলো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মূলত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অধিদপ্তরের বুলেটিন বন্ধ হচ্ছে। এত বড় সিদ্ধান্ত অধিদপ্তরের নেয়ার ক্ষমতা নেই। ব্রিফিং বন্ধের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কৌশলী উত্তর দিচ্ছেন। পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে ব্রিফিং বন্ধের পক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সফাই গাইলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপচািলক জানিয়েছেন, বুলেটিন একেবারেই বন্ধ হচ্ছে না, প্রয়োজনে আবার চালু করা হবে।

এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, এখনো দেশে করোনা সংক্রমণ কমেনি। নমুনা সংগ্রহ কমায় কমেছে শনাক্তের সংখ্যা। মৃত্যুও নেহায়েত কম নয়। এ মুহূর্তে ব্রিফিং বন্ধ হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতার কোনো বালাই থাকবে না। এতে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

ব্রিফিং থেকে বুলেটিন : দিনে দিনে তথ্য সরবরাহের পরিধি কমে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হলো
চীনের উহান প্রদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের পর গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনা ভাইরাস নিয়ে আইইডিসিআর প্রেস ব্রিফিং শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ওই সময় তার কার্যালয় থেকে ব্রিফ করতেন।

মার্চের প্রথম দিকে দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আইইডিসিআরের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও সরাসরি ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়। মার্চের শেষদিকে ডা. ফ্লোরার পরিবর্তে নিয়মিত ব্রিফিং পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান।

এরপর স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অনলাইনে ব্রিফিং পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই সময় সাংবাদিকরা জুম প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে ব্রিফিংয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেয়ার সুযোগ পেতেন।

এতে একাধিক দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাসা কিংবা নিজ কার্যালয় থেকে যুক্ত হয়েছেন। এপ্রিলের আট তারিখে সাংবাদিকদের যুক্ত হওয়ার পর্বটি বাদ দিয়ে ব্রিফিংকে বুলেটিন আকারে উপস্থাপন করতে শুরু করে অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য বুলেটিনে নিয়মিতভাবে তথ্য উপস্থাপন করে আসছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। এবার বুলেটিনও বন্ধ করে করোনার তথ্য ‘প্রেস বিজ্ঞপ্তি’তে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিলো প্রতিষ্ঠানটি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রশীদ ই মাহবুব বলেন, এখনো দেশে করোনা সংক্রমণ কমেনি। নমুনা সংগ্রহ কমায় কমেছে শনাক্তের সংখ্যা। মৃত্যুও নেহায়েত কম নয়। এ মুহূর্তে ব্রিফিং বন্ধ হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতার কোন বালাই থাকবে না। এতে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য বুলেটিন বিষয়ে বলতে গিয়ে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, অনলাইনে আর ব্রিফিং হবে না। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে করোনা সম্পর্কিত সব তথ্য পাবে গণমাধ্যম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, করোনা ভাইরাসবিষয়ক স্বাস্থ্য বুলেটিন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিষয়টি এমন নয়, ভবিষ্যতে প্রয়োজন সাপেক্ষে হয়তো আবারো প্রচারিত হবে।

এখন থেকে ফেস টু ফেস ভার্চুয়াল ব্রিফিং বন্ধ হলেও টিভিতে স্ক্রল যাবে। গণমাধ্যমকে জানানো হবে। এরপরও কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকলে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানাসহ আরও একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালকের সাথে কথা বলে নিতে পারবেন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, চার-পাঁচ মাস ধরে তো বুলেটিন প্রচার হলোই। এখন তো আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। আমরা মনে করি, এখন সংক্রমণ কমে আসছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে। এ কারণে আমাদের সিদ্ধান্ত নিয়মিত একজন ব্যক্তি দিয়ে বুলেটিন না করে প্রেস রিলিজ দেয়া।

দেশের সর্বশেষ অবস্থা : গত একদিনের নমুনা পরীক্ষায় আরও প্রায় তিন হাজার ব্যক্তির করোনার উপসর্গ পাওয়া গেছে। গত একদিনে শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৯৬ জন। এসময় নতুন মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৩ জনের। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের করোনাবিষয়ক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনের সর্বশেষ দিনে অংশ নিয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত একদিনে রাজধানীসহ সারা দেশের ৮৪টি সরকারি বেসরকারি আরটিপিসিআর ল্যাবের জন্য করোনার নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৫ হাজার ৩১৭টি এবং পরীক্ষা হয়েছে ১৪ হাজার ৮২০টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৮টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৯৯৬ জনের মধ্যে।

ফলে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল দুই লাখ ৬৩ হাজার ৫০৩ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে গতকাল মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৩। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৮ জন এবং নারী পাঁচজন।  এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন তিন হাজার ৪৭১ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৫৩৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৫১ হাজার ৯৭২ জন।

নতুন নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ২২ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আর রোগী শনাক্ত তুলনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ।

নতুন মারা যাওয়া ৩৩ জনের মধ্যে ১০ বছরের বেশি বয়সি একজন, ত্রিশোর্ধ্ব পাঁচজন, চল্লিশোর্ধ্ব দুইজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচজন, ষাটোর্ধ্ব ১৪ জন, সত্তরোর্ধ্ব তিনজন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সি তিনজন ছিলেন।

ঢাকা বিভাগের ছিলেন ১৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচজন, খুলনা বিভাগের তিনজন, রাজশাহী বিভাগের পাঁচজন, রংপুর বিভাগের চারজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ছিলেন একজন।

আমারসংবাদ/এসটি