বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০

৩০ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

বশির হোসেন খান

প্রিন্ট সংস্করণ

জুন ২৯,২০২০, ১০:৩০

জুন ২৯,২০২০, ১০:৩০

রাজধানীতে ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া

করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই রাজধানীতে বেড়েছে ছিনতাই। অস্ত্রের মুখে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বেপরোয়া ছিনতাইকারীরা ছিনিয়ে নিচ্ছে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ সঙ্গে থাকা মালামাল।

বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক লোকবল বৃদ্ধি ও লজিস্টিক সাপোর্ট থাকার পরও ছিনতাইকারীদের দমনে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

রাজধানীর সব এলাকার চিত্র প্রায় একই রকম। বিকেলের আলো গড়িয়ে সন্ধ্যার আঁধার নামার সঙ্গে সঙ্গেই ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বাড়তে থাকে। কিছু কিছু এলাকায় দিনের বেলায়ও দেখা যায় ছিনতাইকারীদের তৎপরতা। আশপাশে পুলিশের টহল টিম থাকলেও ছিনতাইয়ের কবলে পড়া মানুষের কোনো কাজে আসে না।

এদিকে, সমপ্রতি ব্যাপক হারে ছিনতাই বেড়েছে রাজধানীর খিলগাঁও ও সবুজবাগ এলাকায়। এই এলাকার উঠতি বয়সি একাধিক টিম ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় তারা দলবেঁধে বাইক নিয়ে দাপিয়ে বেড়ায় পুরো এলাকা। আর রাতের বেলায় নামে ছিনতাই করতে। পুলিশের চোখের সামনে বেপরোয়া এসব বাইকাররা রাস্তা কাঁপিয়ে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের কিছুই বলে না। বর্তমান করোনাকালেও এই চক্রটি সক্রিয়।

গত শনিবার বিকাল ৫টার দিকে খিলগাঁও চৌধুরীপাড়ার স্বপ্ন সুপার শপ ও ভূতের আড্ডার সামনে পরপর দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় একটি চক্র। সেক্ষেত্রেও পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

এলাকাটিতে এই করোনার মধ্যেও সামাজিক দূরত্ব না মেনে তরুণ-তরুণীদের আড্ডা দেখা যায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। সেক্ষেত্রে পুলিশের গাড়ি দূরে দাঁড়িয়ে দর্শকের ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়।

সবশেষ, গত শনিবার রাতে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছেন একটি অনলাইন গণমাধ্যমের প্রধান হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা গোলাম ইসহাক ভুইয়া। তিনি অফিস থেকে বের হয়ে রিকশাযোগে বাসায় যাওয়ার সময় চৌধুরীপাড়ার প্রধান সড়কে ছিনতাইকারীরা তার রিকশার গতিরোধ করে। এসময় ধারালো চাপাতি দিয়ে তার পায়ে আঘাত করে এবং মাথায় ও শরীরে  কিল-ঘুষি মেরে সঙ্গে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়।

মানিব্যাগে নগদ টাকা, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিলো। ছিনতাইকারীরা চলে যাওয়ার পর কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের টহল দলের কাছে সাহায্য চান ভুক্তভোগী ইসহাক। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ছিনতাইয়ের বর্ণনা শুনে ভুক্তভোগীকে কিছু পরামর্শ দিয়ে চলে যায়। পরে তিনি বাসায় গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।  

গতকাল রোববার দুপুরে গোলাম ইসহাক বাদি হয়ে খিলগাঁও থানায় ছিনতাইয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম।

গত ১০ মে বেলা ১১টায় সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে যাত্রাবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে মারধর করে ৫৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা। ওই ব্যবসায়ীর ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং এজেন্সিসহ কয়েকটি ব্যবসা আছে।

জানা গেছে, চলন্ত প্রাইভেট কার বা মোটরসাইকেল থেকে লোকজনের ব্যাগ, মোবাইল ফোন ইত্যাদি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। এই ছিনতাইকারীদের একটা নামও ইতোমধ্যে চালু হয়েছে- টানা পার্টি। পুলিশ কর্তৃপক্ষ এই টানা পার্টির সদস্যদের সম্পর্কে অবগত আছে। সামপ্রতিক গোয়েন্দা পুলিশ জালে ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু তারপরও এদের দৌরাত্ম্য কমেনি।

খিলগাঁও জোনের এসি (পেট্রোল) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ছিনতাইকারী ধরতে পুলিশ সব সময় তৎপর। ২৪ ঘণ্টা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এর মধ্যেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। যেসব অভিযোগ থানায় আসে, পুলিশ চেষ্টা করে সেসব ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করতে।

নেশার টাকা সংগ্রহ করতেই ছিনতাই : ছিনতাই করতে গিয়ে বাধা পাওয়ার আগেই তারা আঘাত করে। তারপর ছিনতাই করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। বেশির ভাগ ছিনতাই হয় গলির মুখে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছিনতাইয়ের শিকার মানুষটি পুলিশের সাহায্য পায় না।

 ছিনতাইয়ের পরও পুলিশের তেমন কিছু করার থাকে না। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মামলা হয় না। থানায় গেলেও পুলিশ মামলা না করার পরামর্শ দেন। অনেকেই সাধারণ ডাইরি করে চলে আসেন। ওই ডাইরি থানায় ফাইল বন্ধ হয়ে পড়ে থাকে।

ভুক্তভোগী গোলাম ইসহাক ভুইয়া বলেন, দিন দিন বাড়ছে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য। পুলিশের টহল আরও জোরদার করা দরকার। তারা আরও সক্রিয় হলে ছিনতাই কমে যাবে।

অপরাধীরা পুলিশের জালে আটকা পড়বে। মানুষ দুশ্চিন্তা ছাড়া চলাচল করতে পারবে। উল্লেখ্য, এর আগেও চৌধুরীপাড়ায় রূপালী ব্যাংকের নিচ থেকে এক বাইসাকেল চুরি হয়েছে। পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

আমারসংবাদ/এআই