বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০

৩১ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

শরিফ রুবেল

জুন ০২,২০২০, ১২:১৯

জুন ০২,২০২০, ১২:১৯

ভূমি জবরদখলে কোথাও নেই নালিশের জায়গা!

 

*দন্ডবিধিতে নেই জমি জবর দখলের শাস্তি
*ফৌজদারি অপরাধের ৮০ শতাংশই ভূমিকেন্দ্রীক
*বিচারাধিন দেওয়ানি মামলা ১৪ লক্ষাধিক
*লকডাউনে বেড়েছে ভূমি দখলচ্যুতি বন্ধ নালিশের পথ
*দেওয়ানি আদালতও চলছে জোর যার মল্লুক তার তত্ত্বে

কাগজ আছে, দখল নাই। কারো আবার দখল আছে, কাগজ নাই। কেউ কেউ সত্বের মামলার রায়/ডিগ্রী পেয়েও পাচ্ছেনা দখল। প্রতিকার পাবে কোথায়। নালিশেরও যায়গা নাই। সালিশ করারও মানুষ নাই। যারা আছে তাদেরও ভিত্তি নাই। যেন জমি জমা সক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ জানানোর জায়গা নেই।

তাৎক্ষণিক প্রতিকারেরও ব্যবস্থা নেই। যদিও প্রতিকার হয়, সেটা পেতেও পার হচ্ছে যুগের পর যুগ। এমনকি মালিকানা প্রমাণে ছহি কাগজপত্রেরও যেন কোনো মূল্য নেই। প্রাধান্য পাচ্ছে ‘জোর যার মুলুক তার’ তত্ত ।

ভূমিদস্যুদের কাছে পরাস্থ হচ্ছেন অসহায়রা। অনেকের সঠিক কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বেদখল হচ্ছে বসতভিটা। ফলে দ্রুতগতিতে বাড়ছে ভূমি-অপরাধ। ঘটছে খুন-খারাবি। ফলশ্রুতিতে বিচারাঙ্গনে বাড়ছে মামলার স্তূপ। আর অতিরিক্ত মামলা উদ্বিগ্ন করে তুলেছে সরকারকেও।

প্রকৃতপক্ষে জমি জবর দখলের সরাসরি কোনো শাস্তি বিধান দন্ডবিধিতে নেই। নেই ভূমির প্রকৃত মালিকের প্রাথমিক নালিশ করার জায়গাও।

বিদ্যমান ব্যবস্থানুযায়ী, দরিদ্র, নিরীহ ব্যক্তির জমি জবরদখল হলে থানায় ছুটে যান। কিন্তু জমির মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান থানা। দেওয়ানি আদালতই ভূমি মামলার একমাত্র সমাধান হওয়ায় বিপাকে ভুক্তভোগীরা। শেষ নেই ভোগান্তির।

এদিকে করোনা ভাইরাসে ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ চলমান রাখতে ভার্চুয়াল আদালত চালু করলেও বিগত প্রায় আড়াই মাস ধরেই বন্ধ রয়েছে দেওয়ানী আদালতের সকল কার্যক্রম। ফলে বিচার ও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার কোনো আবেদন শুনানীও হচ্ছে না।

এতে যেমনি বেড়েছে জোর করে জমি দখলের ঘটনা। তেমনি বেড়েছি ভূমিকেন্দ্রীক ফৌজদারি অপরাধ। অনেকে বসতভিটা হারিয়ে হচ্ছে বাস্তুচ্যুত।

স্বার্থান্বেষী মহল মানুষের মূল্যবান জমি-জমা সম্পত্তি কেড়ে নেয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে। পেশী শক্তিতে বলিয়ান পক্ষ আদালতের কার্যক্রম না থাকার সুযোগে অসহায়দের জমি জমা থেকে উচ্ছেদ করে দিচ্ছে।

এমনই একজন আলাউদ্দিন। নিজ বসতবাড়ি নিয়ে প্রতিবেশীর সাথে বিরোধে জড়িয়েছিলেন। তার বসতভিড়ার মালিকানা দাবি করে দখলে নিতে পাঁয়তারা চালায় প্রতিবেশী হামিদ সিকদার।

প্রতিবেশী হামিদ সিকদার ক্ষমতাবন হওয়ায় পেশিশক্তি ও জাল দলিল ব্যবহার করে তার ৩ পুরুষের ভোগ দখলকৃত জমি অর্ধেকটা দখলও করে নেয়। উপায়ান্ত না পেয়ে মাদারীপুর সহকারী জেলা জজ আদালতের সরণাপন্ন হন। কিন্তু সেখানেও বাঁধে বিপত্তি।

আদালতেও বিবাদি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে আইনজীবীর মাধ্যমে তাকে একপ্রকার নাস্তানাবুদ করে ছাড়েন। ১৯৮৮ সাল থেকে নিম্ন আদালতে ১০ বছর মামলা চালিয়ে অবশেষে পরাজিত হন আলাউদ্দিন।

আলাউদ্দিনের ছেলের দাবি রাজনৈতিক ক্ষমতা খাটিয়ে রায় উল্টে দেয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতে পরাজিত হয়েও হার মানেনি তিনি জমি ফিরে পেতে আপিল করেন উচ্চ আদালতে। হাইকোর্টে ৩ বছর মামলা চালিয়ে ২০০১ সালে অপূর্ণ আশা নিয়েই মারা যান আলাউদ্দিন। তার মৃত্যু পরবর্তী মামলার হাল ধরেন ছেলে নুরুল ইসলাম। এর পর থেকে আজ অবদি উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে ঘোরাঘুরি করছেন নুরুল ইসলাম।

কিন্তু এখনো এ মামলা হাইকোর্টের কার্যতালিকায়ই তুলতে পারেননি। একপ্রকার গোলক ধাঁধাঁয় পড়ে রয়েছেন নুরুল ইসলাম। বসতভিটা হারিয়ে আক্ষেপ করছেন, ফিরে পাবেন সেই আশাও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। নুরুল ইসলামও তার জীবদ্দশায় এই মামলার নিষ্পত্তি দেখে যেতে পারবেন কি না সেটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিন মামলা চালাচ্ছেন ১৮ বছর ধরে।

মামলার বর্তমান বাদি নুরুল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, বাবা অনেক টাকা খরচ করেছেন এই জমি উদ্ধারের জন্য। এখন আমিও করে যাচ্ছি। বাবাসহ আমি অন্তত ৬০ বার এ মামলার জন্য আদালতে দাঁড়িয়েছি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এক ডজনেরও বেশি বার এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত কিংবা পাল্টা স্থগিত হয়েছে।

আলাউদ্দিন একটি সত্য ঘটনার দৃষ্টান্ত মাত্র। এ ধরণের ঘটনা সারাদেশে লাখ লাখ ঘটছে। কাগজ আছে-দখল নেই। দখল আছে তো কাগজ নেই। এ নিয়ে সৃষ্টি হয় বিরোধ। হচ্ছে খুনোখুনি। যুগ যুগ ধরে চলছে মামলাও। শত শত বছর আগে প্রণীত ব্রিটিশ আইনের আওতায় চলছে এসব মামলা। মামলার ‘শুরু’ আছে তো ‘শেষ’ নেই।

জানা যায়, সারা দেশের আদালতগুলোতে ফৌজদারিসহ নানা অপরাধে যত মামলা আছে, তার ৮০ শতাংশই ভূমি নিয়ে। খুন-খারাবির মতো ভয়ানক ঘটনাও ঘটছে ভূমি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে। ফলে দীর্ঘদিনে এই মামলার জটও এখন মহাজটে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূমি-প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা ভূমিদস্যুদের সুবিধার্থে ‘ভূমি-মালিকানা’র একটি সংজ্ঞা দাঁড় করিয়ে নিয়েছেন। তথাকথিত এই সংজ্ঞা অনুযায়ী ভূমিমালিকানার পক্ষে তিনটি বিষয় আবশ্যক। (১) দলিল (২) দাখিলা এবং (৩) দখলস্বত্ত্ব । এ অনুযায়ী দলিল এবং দাখিলা সত্ত্বেও কেবলমাত্র দখল না থাকলে জমির মালিক জমির মালিকানা হারাবে।

অর্থাৎ অপরের অধিকার হরণকারী, লোভী, চতুর,ক্ষমতাধর ভূমিদস্যুই পাবেন মালিকানা। কারণ পেশীশক্তি বলে অন্যের জমি দখল করতে সক্ষম। সে ক্ষেত্রে ভূমি-প্রশাসনের চূড়ান্ত সেবাটি নিবেদিত কেবল ভূমিদস্যুর কল্যাণে। অন্যায়-অবিচারের শিকার দখলচ্যুত ভূমি মালিক ভূমি-প্রশাসনের কার্যত কোনো পরিষেবাই পাচ্ছেন না।

সারাদেশে ভূমিদস্যুরা পরিকল্পিতভাবে জাল কাগজ তৈরি, ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে জমি জবরদখল করছেন। এদের অধিকাংশই রাজনৈতিক মদদপুষ্ট। মানছেন না গ্রাম আদালতের সালিশ। চলে যাচ্ছে দেওয়ানি আদালতে। জবরদখল দারিত্বের পক্ষে ‘স্থিতি আদেশ’ এনে দখলস্বত্ব বজায় রাখেন।

পক্ষে আনা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল, সেই আপিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট, হাইকোর্টের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর রিভিউ- এসব করে জীবন পার হয়ে যায় ভুক্তভোগির। ভূমির দখল হারানো ব্যক্তি নিঃস্ব হয়ে যান। গেরস্থ থেকে বাড়ি-ঘর বিক্রি করে ভিক্ষুক হোন। ‘ন্যায়বিচার’র সুফল তিনি হয়তো আর দেখেও যেতে পারেন না।

দখলচ্যুত নালিশ জানাবে কোথায়?
১৮৬০ সালের ফৌজদারি দন্ডবিধিতে চুরির শাস্তি রয়েছে ৩ থেকে ১০ বছর কারাদন্ড, অর্থদন্ড। ডাকাতির শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদন্ড, অর্থদন্ড। অথচ জমি জবর দখলের সরাসরি কোনো শাস্তি দন্ডবিধিতে নেই। ন্যায় বিচারের স্বার্থে ভূমির প্রকৃত মালিকের প্রাথমিক নালিশ করার কোনো প্রতিষ্ঠানও গড়ে ওঠেনি।

বিদ্যমান ব্যবস্থানুযায়ী, দরিদ্র, নিরীহ ব্যক্তির জমি জবরদখল হলে থানায় ছুটে যান। থানা বলে দেন, এটি জমি জমার বিষয়। দেওয়ানি মামলা। তিনি হয়তো ডেপুটি কালেক্টর (ডিসি) অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা এসি (ল্যান্ড) যাওয়ার পরামর্শ দেন।

এসি (ল্যান্ড) বলেন, জমির দখলস্বত্ব বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের নয়-আদালতে যান। দেওয়ানি মামলা নিয়ে আদালতে গেলে আইনজীবী’র ফি, মামলা পরিচালনা ব্যয়, শারীরিক সুস্থতা, সক্ষমতা এবং ধৈর্য্যরে বিষয়। দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা দেশের বিচার ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা।

জাল-জালিয়াতি, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রভাবশালী দখলদার পক্ষ জটিলতা সৃষ্টি করে মামলাকে ২৫/৩০ বছরের ফাঁদে ফেলে দিতে পারেন অনায়াসেই। বিপরীতে দুর্বল, দরিদ্র ভূমি মালিক ক্লান্ত হয়ে পড়েন দেওয়ানি মামলার শুরুতেই। আদালতে তারপক্ষে মামলা যুগ যুগ ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না।

ঝুলছে ১৪ লাখ মামলা, সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জট
বর্তমানে সারা দেশে বিচারাধীন দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৮৬১টি। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ১৩ হাজার ১৯৯টি এবং হাইকোর্টে ৯৫ হাজার ৬২৪টি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাকি ১৩ লাখ ২১ হাজার ৩৮টি মামলাই বিচারাধীন রয়েছে সারা দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে।

মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিনিয়ত উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত পর্যন্ত বিচারাধীন সব ধরনের মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর মামলার সংখ্যা যতই বাড়ছে, ততই বাড়ছে বিচার প্রার্থীদের দুর্ভোগও।

তবে দেওয়ানি মামলায় দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। সরকার দুর্ভোগ কমাতে দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন করে এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) ব্যবস্থা চালু করেছে। আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে বিচারকের সংখ্যা। কিন্তু কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না। দেওয়ানি মামলার বিচারে দীর্ঘসূত্রতা যেন এখন একটি সিস্টেমে (পদ্ধতিতে) পরিণত হয়েছে।

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, ভূমি আপিল বোর্ড, নিম্ন আদালত, উচ্চ আদালত ও এসিল্যান্ড অফিসগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারাদেশে ছড়িয়ে আছে ভূমিসংক্রান্ত মামলার দুর্ভেদ্য জাল।

চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এক হিসাবে দেখা গেছে, ঢাকাসহ সারা দেশের ৪২টি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা ৩ লাখ ৩ হাজার ৩৫টি। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক হিসাবে ভূমি আপিল বোর্ডে বিচারাধীন মামলা ১ হাজার ৬৮২টি।

চলতি বছরের মে পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের (রাজস্ব) আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১ হাজার ৬৯১টি।

একই সময় পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) আদালতে বিচারাধীন ১২ হাজার ২০৯টি মামলা। সারাদেশের ৫০০ এসিল্যান্ডের আদালতে প্রায় ১ লাখ মামলা বিচারাধীন।

এছাড়া উচ্চ আদালতে সরকারি জমির মালিকানা নিয়ে ভূমি সচিবকে বিবাদী করা বিচারাধীন মামলা ১ লাখের বেশি। ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৪ সালে প্রতিটি জেলায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

এ ক্ষেত্রে ৪২টি জেলায় এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করে আইন মন্ত্রণালয়। বাকি ২২টি জেলাকে ভাগ করে সেগুলো ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে একীভূত করা হয়।

তবে একীভূত জেলাগুলোর অধিবাসীরা দূরত্বের কারণে ৪২ জেলার সংশ্নিষ্ট ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে আগ্রহী হননি। তারা নিজ জেলার আদালত ও সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড অফিসগুলোতে ভূমিবিরোধসংক্রান্ত মামলা করেছে।

উচ্চ আদালতের এক প্রতিবেদনে এই ২২ জেলায় সার্ভে ট্রাইব্যুনালের কোনো মামলা পাওয়া যায়নি। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে গত দেড় দশকে আদালতের সংখ্যাও তিন গুণ করেছে সরকার। তার পরও ভূমিসংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না দ্রুত।

জমি-জমাসংক্রান্ত বিরোধ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া, দেওয়ানি আদালত থাকলেও তার এক-চতুর্থাংশে বিচারক না থাকা, দেওয়ানি আদালতে ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম চলা, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা, বাদি-বিবাদির মৃত্যু এবং আদালতে আসতে সাক্ষীদের অনীহাও মামলা দীর্ঘসূত্রতায় পড়ার কারণ বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

কি পদক্ষেপ নিলে দেওয়ানি মামলা গতিশীল করা যায় এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আমার সংবাদকে বলেন, ভূমিবিরোধ মামলার বিচার সংকট দীর্ঘদিনের এটা সমাধানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।

আইন মন্ত্রণালয়ের উচিত দ্রুত এর সমাধান খুঁজে বের কারা। ভূমির মামলা তিন চার যুগও পার হয়ে যায় তবুও মামলার ফলাফল পাওয়া যায় না এটা জাতির জন্য অত্যন্ত দু:খজনক। মামলা ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না হওয়ায় মামলার জট কমছে না।

এ কারণে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। একটি নতুন দেওয়ানি মামলা হাইকোর্টের বেঞ্চে নেয়া হলে দেখা যায়, তালিকায় আসতেই ওই বেঞ্চের এখতিয়ার পরিবর্তন হয়ে যায়। ফলে মামলাটি আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। কার্যতালিকায় ওঠাতেই লেগে যায় দু-তিন বছর।

ভূমির মামলার ধীরগতির কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী আমার সংবাদকে বলেন, মামলা জট সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি দ্রুতই সমাধান আসবে।

ইতোমধ্যে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজদের মামলার বিচারকার্য করার দায়িত্ব দেয়ার কাজ চলছে। তাদের দায়িত্ব দেয়া হলে মামলা জট একেবারেই কমে আসবে।

আমারসংবাদ/এসআর/এআই