বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০

২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

আবদুর রহিম

প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল ০৯,২০২০, ১২:৩২

এপ্রিল ০৯,২০২০, ১২:৩২

সুস্থ নেই প্রতি ঘণ্টায় আক্রান্ত

সুস্থতার রেকর্ড নেই। গত ৪৮ ঘণ্টায় শুধু আক্রান্তই বেড়েছে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দুই জন! শুধু ঢাকায় ৫৯ জন। আর নারায়াণগঞ্জে ২৪ জন। গত দুদিনে আইইডিসিআরের হিসাবে ৯৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যাটা প্রতিদিনই বাড়ছে। মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ছিলো ৪১ জন।

এরপর দিনই ১৩ জন বেড়ে গতকাল বুধবার এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪ জনে। তবে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ঢাকা ও নারায়াণগঞ্জ। ঢাকায় আগের দিন ২০ জন আক্রান্ত হলেও পরদিন ৩৯ জন। এক লাফে বাড়ে ১৯ জন।

তবে নারায়াণগঞ্জে আক্রান্তের গতি কমেছে। আগের দিন ১৫ জন থাকলেও গতকাল আক্রান্ত হয় ৯ জন। সবমিলিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় কোনো সুস্থ রোগী নেই। এছাড়াও আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি জেলা।

ঢাকায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত ১২৩ জন। এর মধ্যে ঢাকায় আক্রান্তের ১০টি স্থান ডেঞ্জার জোনে রয়েছে। মিরপুরে ১৩ জন, টোলারবাগে ১০ জন, ধানমন্ডিতে ৯, ওয়ারী পাঁচ, বাসাবো ৯, গুলশানে ছয়, মোহাম্মদপুর ছয়, লালবাগে পাঁচ, যাত্রাবাড়ী পাঁচ ও উত্তরায় পাঁচজন।

আর ঢাকার বাইরে পাঁচটি স্থান। এ পর্যন্ত নারায়াণগঞ্জে ৪৬, মাদারীপুরে ১১, গাইবান্ধায় পাঁচ, চট্টগ্রামে তিন ও মানিকগঞ্জে তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন।

আইইডিসিআরের তথ্য মতে, সারা দেশে আক্রান্ত হওয়া স্থানগুলো হচ্ছে— ঢাকা সিটিতে ১২৩ জন, নারায়াণগঞ্জে ৪৬ জন, মাদারীপুরে ১১ জন, গাইবান্ধায় পাঁচজন। এ কয়েকটি জায়গা বেশ ঝুঁকিতে রয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম তিন, মানিকগঞ্জ তিন, চুয়াডাঙ্গা এক, কুমিল্লা এক, কক্সবাজার এক, গাজীপুর এক, জামালপুর এক, কেরানীগঞ্জ এক, কিশোরগঞ্জ এক, নরসিংদী দুই, নীলফামারি এক, রাজবাড়ি এক, রংপুর এক ও শরীয়তপুরে একজন আক্রান্ত হয়েছেন। ঘনবসতির ঢাকা শহর হটস্পট হিসেবে আইইডিসিআরের তালিকায়।

ইতোমধ্যে আদাবরে একজন , মোহাম্মদপুর ছয়, বসিলা এক, ধানমন্ডি ৯, জিগাতলা তিন, সেন্ট্রাল রোড এক, গ্রিনরোড দুই, শাহবাগ এক, বুয়েট এরিয়া এক, হাজারীবাগ এক, উর্দু রোড এক, চকবাজার দুই, লালবাগ পাঁচ, বাবু বাজার দুই, ইসলামপুর দুই, লক্ষীবাজার এক, নারিন্দা এক, সোয়ারিঘাট তিন, ওয়ারী ৯, কোতোয়ালি এক, বংশাল এক, যাত্রাবাড়ী পাঁচ, পুরানা পল্টন দুই, ইস্কাটন এক, বেইলি রোড এক, মগবাজার এক, বাসাবো ৯, রামপুরা এক, শাহজাহানপুর এক, বাড্ডা এক, বসুন্ধরা তিন, নিকুঞ্জ এক, আশকোনা এক, উত্তরা পাঁচ, গুলশান ছয়, মহাখালী এক, তেজগাঁও দুই, কাজীপাড়া এক, মিপরপুর-১০ দুই, মিরপুর-১১-তে দুই, মিরপুর-১৩-তে একজন, মিরপুর ১-এ আটজন, শাহ আলী বাগ দুই, পীরের বাগ এক, টোলারবাগ চার, উত্তর টোলারবাগ ছয়জন।

আক্রান্ত সংখ্যা বাড়তে থাকা নিয়ে ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক বেনজীর আহমেদ বলছেন, ‘যেভাবে সবকিছু হওয়া উচিত ছিলো, সেটা হয়নি। কোয়ারেন্টাইনের কথাই যদি বলেন, বিদেশ থেকে যারা এসেছেন, তাদের কোয়ারেন্টাইন ঠিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এমনকি অনেকের নাম-ঠিকানাও ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়নি। প্রথমেই আমরা সেই সুযোগটা মিস করেছি।’ টেস্ট করার সক্ষমতা থাকার পরও এতদিন পরে টেস্ট বাড়ানো হয়েছে। প্রথম থেকে যদি সেটা করা হতো, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে ধরা যেতো, ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হতো।

কিন্তু সেটাও ঠিক সময়ে করা হয়নি। যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের কন্টাক্ট ট্রেসিংও ঠিকভাবে হয়নি। তিনি কোথায় কোথায় গিয়েছেন, কাদের সাথে মিশেছেন, কি করেছেন, সব বিশ্লেষণ করা উচিত ছিলো।

তাহলে ঝুঁকি অনেক কমতো। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি- সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে সেটা করা উচিত ছিলো। তিনি বলছেন, যারা শনাক্ত হচ্ছেন, তাদের ঠিকভাবে চিকিৎসা করা, সংক্রমিতদের সীমাবদ্ধ করে রাখার বিষয়টি জরুরি। যারা হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছেন, নমুনা সংগ্রহ করছেন, তাদের প্রশিক্ষণ সুরক্ষার ব্যাপারগুলো নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে হাসপাতালগুলো বা চিকিৎসকরা সংক্রমিত হতে শুরু করলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য অনেক হুমকি তৈরি করবে।

সচেতনতার নির্দেশনা দিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘যেসব ব্যক্তি কোভিড-১৯ আক্রান্ত দেশ থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসে গৃহ/স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম কানুন মানছেন না এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছেন না, তারা পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন।

ডা. ফ্লোরা বলেন, আমাদের অনুরোধ পরিবার, সমাজ ও দেশের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশ থেকে ফিরে আসা যাত্রীরা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন পালন করুন। কোয়ারেন্টাইন পালন করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।

ইউজিসি অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলবেন। কোয়ারেন্টাইন মেনে চলবেন। আরও কিছুদিন আপনারা সতর্কতামূলক বাসায় থেকে সুরক্ষা বজায় রাখবেন।

যদি তা না করেন, আল্লাহ না করুক আমরা যদি ঝুঁকির মধ্যে পড়েই যাই তাহলে তা সামাল দেয়া আমাদের জন্য বলেন আর সরকারের জন্য বলেন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ