বুধবার ০৩ জুন ২০২০

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

এনায়েত উল্লাহ

প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল ০৮,২০২০, ০২:৪৩

এপ্রিল ০৮,২০২০, ০২:৪৩

করোনায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার নিষেধ

সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান ধর্মীয় নেতাদের

করোনা পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এরই প্রেক্ষিতে সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে সব ধর্মের বিশিষ্টজনদের পরামর্শে ও দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে।

এসময় সব ধর্মের লোকদের ঘরে বসে ইবাদত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে বন্ধ থাকবে না মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় উপাসনালয়। নির্দেশে বলা হয়েছে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্তের জামাতে সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং জুমার নামাজে সর্বোচ্চ ১০ জন মিলে জামাত আদায় করবে।

এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ও এভাবে স্বল্প পরিসরে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে নেবে। গণজমায়েত যেন না হয় সে কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাইকে ঘরে বসে ইবাদত করার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মীয় নেতারা।

সাথে সাথে তারা মনে করেন, কেউ যদি এই নির্দেশনা না মানেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ধর্মীয় নেতারা মনে করেন, এ সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার জন্যই। সুতরাং তাদের এটা মেনে চলা উচিত। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জামেয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক আমার সংবাদকে বলেন, সরকার মসজিদগুলোকে বন্ধ করে দেয়নি। আজান-জামাত সবই চলবে। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকারকে নিষেধ করা হয়েছে।

আলেম-উলামাদের পরামর্শের ভিত্তিতেই ন্যূনতম পরিসরে মসজিদের জামাত চালু রাখা হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত ইসলাম সম্মত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তের সাথে ঐক্যমত পোষণ করে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা এ সিদ্ধান্ত মেনে চলুন। মানার মধ্যেই কামিয়াবি রয়েছে।

সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আরও আগে নেয়া উচিত ছিল বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাস গুপ্ত আমার সংবাদকে বলেন, আমরা অনেক আগেই মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় সাধারণ মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছি।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করে তিনি আরও বলেন, এ সিদ্ধান্তটা আরও ১৫ দিন আগে নিলে ভালো হতো। আমরা সরকারের এমন সিদ্ধান্তের আগেই বাসন্তি পূজা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি মনে করেন, উপাসনালয়ে মানুষের প্রবেশ শুধু নিষেধ করলেই হবে না। যদি এ নির্দেশনা কেউ পালন না করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এদিকে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এর সর্ব শেষ তথ্য অনুযায়ী করোনা ভাইরাসে দেশে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সতের।

এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে মোট আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে। আক্রান্তদের মধ্য থেকে নতুন করে কেউ সুস্থ হয়ে উঠেনি।

গতকাল করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

এসময় আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ধর্মীয় উপসানালয় বন্ধকে যৌক্তিক মনে করেন বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়।

তিনি আমার সংবাদকে বলেন, দেশে এখন কঠিন পরিস্থিতি চলছে। আর যেহেতু এটি একটি সংক্রামক ব্যাধি আর উপাসনালয়ে জনসমাগম হয় সে দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। সাথে সাথে সাধারণ মানুষকে এ সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানাই।

তিনি আরও বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আরও আগেই নেয়া উচিত ছিল। আমরা সরকার সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বেই উপাসনালয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার বন্ধ করেছি।

একটি বিষয়ে সব ধর্মের নেতারাই এক মত পোষণ করেছেন যে, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত কোনো হটকারী সিদ্ধান্ত নয়। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সমপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমন সিদ্ধান্তকে সবাই সাধুবাদ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জামেয়া রাহমানিয়া দারুল ইসলামের প্রিন্সিপাল ও বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের খতিব মুফতি ওযায়ের আমিন বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা ইসলামবিরোধী নয়।

এমন পরিস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত ইসলাম সম্মত। আমি এ নিষেধাজ্ঞার কয়েকদিন পূর্বেই আমার সংবাদে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলাম মসজিদগুলোতে যেন সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হয়। এবং আমি সেখানে এর যৌক্তিকতা তুলে ধরেছিলাম। একটু সময় পরে হলেও সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ জন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

সাথে সাথে মুসল্লিদের এ সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানাই। হাদিসে পাকে রাসুলে কারিম সা. বলেছেন, যখন তোমার এলাকায় মহামারি দেখা দেয় তখন সেখান থেকে বের হইও না। আবার যখন অন্য এলাকায় মহামারি দেখা দেয় তখন সেখানেও যেও না। এখান থেকেই বুঝা যায় যে, আল্লাহর রাসুলই লকডাউনের কথা বলেছেন।

অন্য এক হাদিসে আছে প্রচণ্ড ঝড় তুফানে আল্লাহর রাসুল মুযাজ্জিনকে নির্দেশ দিলেন যেন আজানে মুসলমানদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দেয়। মসজিদে না আসে।

তাহলে এখান থেকে বুঝা যায় আজকে সরকারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ইসলামবিরোধী নয়। বরং এটা যৌক্তিসঙ্গত। তাই সবাইকে এ সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ