শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০

২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

শাহ আলম নূর

প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল ০৬,২০২০, ০৪:১৮

এপ্রিল ০৬,২০২০, ০৪:১৮

ভেঙে পড়তে পারে বাজার ব্যবস্থাপনা

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে এখনো বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা ঠিকই আছে। তবে সাধারণ ছুটি দীর্ঘায়িত হলে বাজার ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে কোনো মনিটরিংই কাজে আসবে না। এ জন্য সরবরাহব্যবস্থা ঠিক রাখায় গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একদিকে পণ্যের সংকট দেখা দেবে, অপরদিকে সংকটের অজুহাতে বাড়বে দাম। তেমনটা হলে নিম্ন আয়ের মানুষের দিন পার করা কঠিন হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

অবশ্য নিত্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচুর পরিমাণে পণ্য উৎপাদন করছে। তবে পরিবহন ও শ্রমিক সংকটে পণ্য কারখানার বাইরে নিতে পারছে না। এতে বাজারে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এ সুযোগটি নিচ্ছে সুযোগসন্ধানী অসাধু ব্যবসায়ীরা।

পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, ছুটি ঘোষণায় অনেকে গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। যারা আছেন, তারাও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ট্রাক চালাতে চাইছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে বাজারে শিশুখাদ্যের (বিভিন্ন ব্রান্ডের দুধ) সরবরাহ কমে গেছে। কারণ, একদিকে পরিবহন সংকট, অপরদিকে শ্রমিক সংকট। সংকটে প্রচুর উৎপাদন ও মজুত থাকার পরও মোকাম হিসেবে খ্যাত নওগাঁ, নাটোর ও কুষ্টিয়া থেকে রাজধানীতে চাল আসছে না।

এতে করে রাজধানীর বাজারগুলোয় চাল সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বেড়েছে দাম। সরকারের লোকজন মাঠে নামিয়েও চালের দাম আগের জায়গায় নামানো যায়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া চালের দাম কমানো সম্ভব নয়।

জানা গেছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে এবার সবজি উৎপাদন হয়েছে প্রচুর। করোনার প্রভাবে সবকিছুর সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে রাজধানীতে সবজি আসাও। এতে একদিকে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অপরদিকে সবজি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ফলে বাড়ছে দাম।

এভাবে চলতে থাকলে দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় সবজি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কাজেই কৃষক ও ভোক্তা বাঁচাতে যেকোনো মূল্যে উৎপাদিত সবজির সরবরাহ বাড়ানো উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, ইতোমধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষ, শ্রমিকরা কাজ হারিয়েছেন। জমানো পুঁজি দিয়ে কিছুদিন হয়তো চলতে পারবেন তারা। কিন্তু ছুটি দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনায় তারা চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন। এ অবস্থায় যদি নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়, দাম বাড়ে তাহলে এ শ্রেণির মানুষদের দিন পার করাই কঠিন হবে।

পোল্ট্রি খামারিরা বলছেন, ব্রয়লার মুরগি বিক্রির জন্য পাইকার বা ক্রেতা পাচ্ছেন না তারা। আগে ছোট খামারিরা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে মুরগি বিক্রি করলেও এখন খুচরা ক্রেতাও পাচ্ছেন না।

একদিকে ক্রেতা নেই, অপরদিকে কমেছে চাহিদাও। একই অবস্থা ডেইরি খাতেরও। চাহিদার সঙ্গে দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গরুর খামারিরাও।

পরিবহন সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি হানিফ খোকন বলেন, করোনা একটি ছোঁয়াচে ভাইরাস।

তাই ভাইরাস বহনকারী যে কারো ছোঁয়ায় এটি সংক্রমিত হতে পারে। মৃত্যুভয় সবারই আছে। যেকোনো জিনিসের সরবরাহ ঠিক রাখতে প্রয়োজন পরিবহনব্যবস্থা। পরিবহনব্যবস্থা এখন প্রায় পুরোপুরি অচল।

তিনি বলেন, বন্ধের ঘোষণা পেয়েই পরিবহন শ্রমিকরা বাড়ি চলে গেছে। তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই রাজধানীতে পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রাক সংকট দেখা দিয়েছে। এর বাইরে নিরাপত্তার অভাব তো রয়েছেই।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সংকট মোকাবিলায় পণ্যের সরবরাহ সিস্টেম ধরে রাখতে হবে।

এ মুহূর্তে যেকোনো উপায়ে সাপ্লাই চেইনের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বাজারে সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়লে বাজারব্যবস্থাপনা গুঁড়িয়ে যাবে। তখন কঠিন সমস্যা দেখা দেবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, যেকোনো মূল্যে বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হবে। এ জন্য আমরা কাজ করছি। বাজারে পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতেও কাজ চলছে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ