বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০

২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

বশির হোসেন খান

প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল ০৬,২০২০, ০৪:১৫

এপ্রিল ০৬,২০২০, ০৪:১৫

হুমকির মুখে পোশাকশিল্প

কর্মহীন প্রায় ৩২ লাখ গার্মেন্ট শ্রমিক

করোনা ভাইরাসের কারণে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হুমকির মুখে পোশাকশিল্প। হঠাৎ বিজিএমই সভাপতি ড. রুবানা হক শ্রমিকদের দেয়া আশ্বাসের বার্তাটি সুখবর বলে মনে হলেও আশুলিয়ায় ফ্যাশন্স ফোরাম পোশাক কারখানার প্রায় দুই শতাধিক কর্মীর বেতন-ভাতা না দিয়েই কৌশলে ছাঁটাই করা হয়। ফলে আবার ক্ষোভ দেখা দিয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে। এতে ফুঁসে উঠতে পারে শ্রমিকরা। আর ধ্বংসের মুখে পড়বে পোশাকশিল্প।

এদিকে এই সংকটের মধ্যে ফ্যাশন্স ফোরামসহ আরও বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় দুই হাজারের বেশি শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। তাই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে শিল্পমালিকদের চিঠি দিয়েছেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় বলেন, শিল্প ও শ্রমিকদের সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করার পরও এ ধরনের কর্মহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা থেকে মালিকপক্ষ বিরত থাকুন। শ্রমিক ছাঁটাই নয়, প্রয়োজনে তাদের অগ্রিম বেতন-ভাতা দিতে হবে।

তিনি বলেন, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর আসন্ন। এই অবস্থায় শ্রমিক ছাঁটাই করলে একদিকে যেমন তাদের জীবনধারণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে।

তেমনি স্বাভাবিক সময়ে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে পড়বে, যা পরবর্তীতে সামাল দেয়া কঠিন হতে পারে। ইতোমধ্যে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য প্রধানমন্ত্রী পাঁচ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিল্পকারখানার মালিকদের শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করার অনুরোধ করছি।

চিঠিতে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে শিবনাথ বলেন, এই বিরূপ প্রভাব থেকে উত্তরণে সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দফা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে, পরবর্তীতে তা ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশে শ্রমিকের জীবনমানের নিরাপত্তাসহ শিল্প-কারখানার সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে পড়েছে।

বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট সংকটের ফলে গত ১৯ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এক হাজার ৯০৪টি বন্ধ তৈরি পোশাক কারখানায় ২১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭৮ জন শ্রমিক এবং অন্যান্য ১৪ হাজার ৮৬৪টি বন্ধ শিল্প কারখানায় ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫৩ জন শ্রমিকসহ মোট ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৩১ জন শ্রমিক কর্মহীন রয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশে লকডাউন পরিস্থিতিতে ৯০ ভাগ কারখানা বন্ধ হয়ে গেলেও সক্ষমতার তুলনায় সামান্য কার্যাদেশ নিয়ে চালু রয়েছে কিছু কারখানা। সে সব কারখানা এখন করোনা পুঁজি করে কর্মী ছাঁটাই এ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা বন্ধ করে দিচ্ছে কারখানাগুলো।

গত শনিবার মধ্যরাতে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক ও বিকেএমইএ সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান এক জরুরি ঘোষণায় সব পোশাক কারখানা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখতে মালিকদের প্রতি অনুরোধ করেন।

গত ২০ মার্চ পোশাকশিল্পের জন্য সহযোগিতা চেয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপির কাছে একটি চিঠি পাঠান।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, খবর পেয়েছি। মালিকদের বলা হয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে শ্রমিক ছাঁটাই করা যাবে না। তাদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। যে সব মালিক কারখানা বন্ধের সিধান্ত নিয়েছেন, তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন এবং শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দিন। তা না হলে ওইসব মালিকদের বিরুদ্ধে আলাদা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ইতোমধ্য প্রধানমন্ত্রী পাঁচ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। তাই বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে সমস্য হবে না। এ ব্যাপারে আশুলিয়ায় ফ্যাশন্স ফোরাম কারখানার ব্যবস্থাপক ইদ্রিস সাকুর বলেন, যাদের কাজ অসন্তোষজনক তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে বেতন এপ্রিলের ১৫ এর মধ্যে দেয়া হবে।

শ্রমিকদের অব্যাহতির সিদ্ধান্তের বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, তারা এ বিষয়ে অবগত আছেন। এই সংকটের সময়ে শ্রমিকদের যাতে অব্যাহতি না দেয়া হয়, মালিকপক্ষকে তা বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা এই সিদ্ধান্ত মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শ্রমিকদের অব্যাহতি দেয়ায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল মামুন বলেন, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করুন। না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। শ্রমিকদের পাওয়া বুঝিয়ে দিন।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ