বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০

২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

এনায়েত উল্লাহ

প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল ০৫,২০২০, ০১:৪১

এপ্রিল ০৫,২০২০, ০১:৪১

পর্দার আড়ালে মানবাধিকারকর্মীরা

করোনা ভাইরাসে সারা পৃথিবী আজ দিশাহারা। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশ। আজকে দেশের মানুষের প্রচণ্ড দুঃসময় চলছে। এ অবস্থায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো যেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষের পাশে থাকা দরকার, সেখানে তারা আজ পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে।

তাদের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম দেশের মানুষের চোখে পড়ছে না। এমনি অভিযোগ করেছেন যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা জামাল হোসেন।

তিনি বলেন, যখন বিদেশ থেকে ফান্ড দেয়া হয় তখন তারা সবার আগে থাকে। সভার মঞ্চে মানবাধিকার আদায়ে তাদের আওয়াজ থাকে সর্বোচ্চ।

কিন্তু জাতির ক্রান্তিলগ্নে এখন তারা কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, আমরা আসলে বসে নেই আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। জনসচেতনতায় আমরা ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত তারা খাদ্য কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এটা রয়েছে।

এদিকে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী করোনা ভাইরাসে দেশে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনে।

এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে মোট আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে আরও চারজন সুস্থ হয়েছেন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৩০ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩২ জন।

গতকাল করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৩৪টি। নতুন করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৯ জন। মানবাধিকার কমিশনের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে হাসপাতাল ভিজিট করে কোনো অসংগতি ধরা পড়লে তা সরকারের কাছে তুলে ধরা।

কিন্তু ডাক্তারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে যেদিকে করোনা ভাইরাস মোড় নিচ্ছে তাতে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানই যথেষ্ট নয়।

এখন এটা পরীক্ষার জন্য প্রত্যেক জেলা-উপজেলাপর্যায় পর্যন্ত ব্যবস্থা করা দরকার। কিন্তু এখানে মানবাধিকার কমিশনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ কারো চোখে পড়ছে না।

এবিষয়ে মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক আমার সংবাদকে বলেন, যেহেতু করোনার প্রকোপ ধীরে ধীরে বাড়ছে সুতরাং এখন এ কিটগুলো উপজেলা এবং জেলাপর্যায়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনসচেতনতা। এটা অবশ্যই বৃদ্ধি করতে হবে। সাথে সাথে হতদরিদ্রসহ নিম্ন মধ্যবিত্তদের প্রতি নজর দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সবার কাজকর্ম, দোকানপাটসহ সব বন্ধ। সুতরাং শুধু গরিবদের খাবার দিলেই হবে না। অন্যদের জন্য রেশন চালু করা দরকার। ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতি বন্ধেরও আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এটিএম মমতজুল করিম আমার সংবাদকে বলেন, আজ দেশের খুবই দুঃসময় চলছে। বিশেষ করে মধ্যভিত্ত পরিবারের সদস্যরা খুবই কষ্টে আছে। আমার সাথে অনেকের কথা হয়েছে তারা আজ চিড়ামুড়ি খেয়ে দিনাতিপাত করছে।

এই মুহূর্তে আপনাদের কর্মসূচি কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সংস্থার সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছি যাতে তারা মানুষকে সচেতন করে। পাশাপাশি ভিত্তবানদের খাদ্য কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

আপনারা এ পর্যন্ত কোনো খাদ্য কর্মসূচি পালন করেছেন কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত কোনো খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পালন করতে পারিনি। তবে আমাদের ইচ্ছা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ কর্মসূচি পালন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে গতকাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন মিডিয়ায় পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, কমিশন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং অসঙ্গতিসমূহ তুলে ধরে সরকারের নিকট সুপারিশ প্রেরণ করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে বিপাকে পড়া দিনমজুর ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার, বেসরকারি সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের বাড়িতে গিয়ে বা বিভিন্ন জায়গায় তাদের রান্না করা খাবার বা ত্রাণসামগ্রী দেয়া হচ্ছে।

তবে গণমাধ্যমের সচিত্র প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাবে অপরিকল্পিতভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

এভাবে সঠিক ব্যক্তির কাছে যেমন ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না অন্যদিকে জনসমাগমের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে দূরত্ব বজায় না রেখে ত্রাণ বিতরণের ফলে বাড়ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি।

ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে রাস্তায় রাস্তায় শত শত মানুষের উপস্থিতির পরিবর্তে কর্মহীন অনাহারী মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাবার সরবরাহ করে ভাইরাস সংক্রমণকে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করা যায়।

বর্ণিত প্রেক্ষাপটে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষকে ঘরে থাকার লক্ষ্যে অতি জরুরিভিত্তিতে কর্মহীন ভাসমান মানুষের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের বাড়িতে বাড়িতে রান্না করা খাবার বা ত্রাণসামগ্রী প্রেরণের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানায় কমিশন।

তবে সাধারণ মানুষ মানবাধিকারকর্মীদের প্রতি প্রত্যাশা রাখে তারা আরও মানবিক হবেন এবং মানুষের খোঁজ খরব নিয়ে তাদের যা প্রয়োজন তা ব্যবস্থা করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

আমারসংবাদ/এআই