বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০

২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

বশির হোসেন খান

প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল ০৩,২০২০, ১২:৩০

এপ্রিল ০৩,২০২০, ১২:৩০

রাজধানীতে তৎপর সেনাবাহিনী

নেই নতুন মৃত্যুর খবর, করোনায় আক্রান্তের খবর নেই খুব একটা। এটাকে সুখবর বলে মনে করছেন রাজধানীবাসী। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই হরহামেশাই ঘরের বাইরে বেরিয়ে পড়ছেন অনেকেই।

২৬ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ গণপরিবহনও। তবুও নানা অজুহাতে বেরিয়ে পড়ছেন মানুষ। করোনা আতঙ্কের ছাপ নেই কারো চোখে-মুখে। নেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। তাদের মধ্যে নেই সচেতনতা। অযথা বাইরে বের না হওয়া ও সচেতন করতে আঁটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী।

রাজধানীর বাড্ডা, শান্তিনগর, পল্টন, জুরাইন, যাত্রবাড়ী, রামপুরা, গুলশান, মিরপুর, সায়েদাবাদ এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার এমন চিত্র দেখা যায়।

সশস্ত্রবাহিনী পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে হ্যান্ড মাইকে বলছে, অযথা কেউ বাইরে বের হবেন না। কাজ না থাকলে বাসায় চলে যান। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন।

হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করতে হবে। কোথাও রিকশা শ্রমিকদের থামিয়ে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিতে দেখা যায়। আবার কোথাও খাবার দিচ্ছেন।

রাস্তার মোড়ে মোড়ে জনসাধারণকে সোনাবাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। এতে চলাচল অনেকটা সীমিত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না।

সেনাবাহিনীর একটাই কথা— সতর্ক ও সচেতন হন, সুস্থ থাকুন। অযথা ঘরের বাইরে বের হবেন না। এ ছাড়াও তারা সারা দেশে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত কয়েকদিনে যান চলাচল বেড়ে গেলেও গতকাল ব্যক্তিগত প্রাইভেট ও সিএনজি ছিলো অনেকটা কম। তবুও গাড়ি তল্লাশি। উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারলে ছাড়, না হলে হুঁশিয়ারি দিয়ে যানবাহন ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

এদিকে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্বাভাবিক নিয়মেই সারা দেশে সরব ছিলো পুলিশ ও র্যাব সদস্যরাও। তারা মোড়ে মোড়ে গাড়ি তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। কোনো কারণ দেখাতে না পারলে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়।

রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে কথা হয় ডা. ইমন ফরাজীর সঙ্গে। তিনি বলেন, অযথা ঘরের বাইরে বের হওয়া ঠিক না। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলাফেরা করা উচিত। বিশেষ করে সেনাবাহিনী ভালো পদক্ষেপ নিয়েছে।

তাই সবাইকে অনুরোধ করবো— প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না। সেনাবাহিনীর নির্দেশ অনুযায়ী পথ চলুন। নির্দেশনা ভেঙে বাইরে যাওয়ায় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বাংলাদেশে।

মেজর বেলাল বলেন, সেনাবাহিনীর তৎপরতা বাড়ছে। তার সঙ্গে রাস্তায় সাধারণ মানুষের সংখ্যাও কমে গেছে। মানুষের সচেতন হতে হবে। করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। অযথা বাইরে বের হওয়া যাবে না। মানুষের সচেতন করতে আরও কঠোর হবে সেনাবাহিনী।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, করোনার বিস্তাররোধে পুলিশের প্রত্যেক সদস্য যেভাবে দেশ ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাতে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও সম্মানিত বোধ করছি। পুলিশ সদস্যের প্রত্যেক সদস্যকে জানাচ্ছি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

তবে, জনগণকে সেবা প্রদানের পাশাপাশি নিজের, অধীনস্ত সদস্য, সহকর্মী এবং পরিবারের সর্বোচ্চ সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে প্রত্যেককে।

পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে বিশেষ পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে, যেনো কোনোভাবেই জনসমাগমের সুযোগ সৃষ্টি না হয়।

সরকার নির্দেশিত সোস্যাল ডিসটেন্সিং এবং হোম কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়নে পুলিশের কার্যক্রমের বর্তমান সফল ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

আমারসংবাদ/এআই