শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০

২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

বশির হোসেন খান

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ২৫,২০২০, ০৮:৪৫

মার্চ ২৫,২০২০, ০৮:৪৫

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ছিন্নমূল মানুষ

করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম। মৃত্যুর এই সংবাদ ভর করেছে করোনা ভাইরাস ভীতিতে। চারদিকে আতঙ্ক, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরও বাড়ছে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীতে।

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে এই ভাইরাসে ৩৯ জন আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে। এখন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে ছিন্নমূল মানুষ। রাস্তায় জন্ম তাদের, রাস্তায়ই বসবাস।

নেই ছিন্নমূল মানুষদের সচেতনতামূলক কোনো পদক্ষেপ। তাই আক্রান্ত হতে পারে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষগুলো। বিদ্যানন্দ নামে একটি সামাজিক সংগঠন স্বাস্থ্যঝুঁকি রোধে সচেতনতামূলক কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।তবুও অসচেতন তারা।

এদের মধ্যে অধিকাংশই দিনমজুর ও রিকশাচালক। দু-চারজন রিকশা চালকের মুখে মাস্ক দেখা গেলেও করোনা ভাইরাস সম্পর্কে ধারণা নেই তাদের।

সুরক্ষা পোশাক ও হ্যান্ড গ্লাভস জীবাণুনাশক স্প্রে, স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ, থার্মোমিটার সম্পর্কে কোনো ধারণা নাই। তাই সব চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে তারা। যেখানে তাদের সচেতন হওয়ার কথা কিন্তু সেখানে অবাধে চলছে তাদের চলাফেরা।

করোনার প্রভাবে জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। দুস্থ-অসহায় মানুষের জীবিকা বন্ধ হওয়ার পথে। আতঙ্কের কারণে বাদ পড়ছেন বাসা-বাড়িতে কাজের মানুষগুলো।

শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে।
কাওরান বাজার রেললাইনের পাশের বস্তিতে বসবাস করেন রেবেকা বেগম।

দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে থাকেন এখানে। স্বামীকে হারিয়ে পাঁচ বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে কোনো রকমে জীবনযাপন করছেন। সকালে বাসা বাড়িতে কাজ করেন। আর বিকালে ডাব বিক্রি করেন। কিন্তু করোনার ভাইরাসের কারণে ফুটপাতে বসতে দেয় না পুলিশ।

আর বাসাবাড়ি থেকে ছাঁটাই করেছে বাড়ির মালিকরা। কাজ না করলে খাবারও জুটবে না। কাজ না করলে অনাহারে থাকতে হবে। কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না তারা।মগবাজার বস্তিতে বসবাস করেন আব্দুর রহিম।

তিনি বলেন, রিকশা প্যাডেল দিলে আয় হয়, না দিলে আয় হয় না। করোনার কারণে রিকশা নিয়ে বের হই না।
রাস্তায় তেমন যাত্রী নাই। যাত্রী না থাকলে আয় ইনকামও হয় না।

আয় করতে না পারলে পরিবার নিয়ে কষ্টে বসবাস করতে হবে। করোনার কারণে বেশি ঝুঁকিতে শিশু ও বৃদ্ধরা। তবুও দুশ্চিন্তা করছি না। মরণ আসলে ঠেকানো যাবে না।

মালিবাগ রেলগেটের পাশে ভাঙ্গারির ব্যবসা করেন নুর আলম। করোনার কারণে ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কিন্তু আমাদের এই ছোট ব্যবসায় একদিন আয় না করলে আরেক দিন চলে না।

এতে ব্যবসা খুবই সীমিত। ব্যবসা বন্ধ থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে। এখন পর্যন্ত বাড়িভাড়া দিতে পারি নাই।

সরকার যদি বাড়ির মালিকদের দুই মাসের বাড়ি ভাড়া নিতে নিষেধ করতেন তাহলে ভালো হতো। আয় করতে পারলে ঢাকা টিকে থাকতে পারতাম। না হলে গ্রামে ফিরে যেতে হবে।

তেজগাঁও বস্তিতে থাকেন নুরজাহান বেগম। করোনা আইলে কি, আর না আইলে কি। মরণ হলে কেউ ঠেকাতে পারবে না। আল্লাহ যা কপালে লিখেছেন তাই হবে।

এই নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। তিনি আরও বলেন, ভাত খাইতে পারি না। আমরা মাস্ক কিনবো কিভাবে। টাকার অভাবে জীবন চলছে না। এখন চলবো কিভাবে তা আল্লাহ ভালো জানেন। আল্লাহই শেষ ভরসা।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ