মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

১৪ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

বশির হোসেন খান

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ২৪,২০২০, ০২:২৩

মার্চ ২৪,২০২০, ০২:২৩

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে গণপরিবহন

করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম। মৃত্যুর এই সংবাদ ভর করেছে করোনা ভাইরাস ভীতিতে। চারদিকে আতঙ্ক, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরও বাড়ছে। আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। চলাফেরায় আতঙ্ক কে কখন, কিভাবে আক্রান্ত হবেন এ নিয়ে।

গতকাল সোমবার পর্যন্ত দেশে এই ভাইরাসে ৩৩ জন আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ জনে। দেশের সবক্ষেত্রের মতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পরিবহন খাতেও। রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি অধিকাংশ অফিস খোলা রয়েছে। প্রতিদিন সকালে রাস্তায় ভিড় করছে অফিসমুখী মানুষ। রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা কম।

তাই ধাক্কা-ধাক্কি করে বাসে ঝুলে গণপরিবহনে উঠছে অফিসমুখীরা। করোনা ভাইরাস রোধে সচেতনামূলক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি পরিবহন মালিকরা। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে পরিবহনগুলো।

পরিবহন স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে মালিকরা কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি। এমনি গাড়িও খুব একটা ধোয়া হয় না। দূরপাল্লার গাড়িগুলো চলছে ইচ্ছে অনুযায়ী। অধিকাংশ গণপরিবহনের চালক হেলপার মাস্ক বা হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করেনি। নেই সুরক্ষা পোশাকও। বাস স্টপিজে নেই প্রতিরোধ সামগ্রী।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, হেলপার-চালকদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। প্রতি ঘণ্টায় গণপরিবহনে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। প্রয়োজনে পরিবহন স্টাফদের সুরক্ষা পোশাক ব্যবহার করতে বলা হয়।

রাজধানীর গণপরিবহনে দেখা গেছে, যাত্রীদের জন্য নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ, থার্মোমিটার। নেই স্টাফদের সুরক্ষা পোশাকও। এমনকি চালক-হেলপারও মাস্ক ব্যবহার করছেন না।

চোখে পড়েনি সচেতনমূলক কোনো পদক্ষেপ। টুঙ্গি-সায়েদাবাদ রোডে তুরাগ, ছালছাবিল, মিরপুর-বনশ্রী রোডে আলিফ, ওয়াসিকাসহ বেশির ভাগই পরিবহনগুলো অপরিষ্কার। গাড়িগুলো পরিষ্কার করছেন না মালিকরা। এমন
চিত্র দেখা গেছে গাবতলী বাস টার্মিনালে অধিকাংশ গণপরিবহনে।

এদিকে রাজধানীর শাহবাগে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গণপরিবহনে সচেতনামূলক লিফলেট, জীবাণুনাশক স্প্রে করতে দেখা যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে লিফলেট দেয়া হচ্ছে তবুও অসচেতন পরিবহন মালিকরা।

উত্তরা জোনের এডিসি হাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে গণপরিবহন নিয়ে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবুও মালিকরা অসচেতন। নগরীরর বেশ কয়েকটি বাস স্টপিজে গণপরিবহন যাত্রীদের সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্টাফদের মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে।

সাকুরা পরিবহনের মালিক হুমাউন কবির বলেন, স্টাফদের মাস্ক দেয়া হয়েছে। তবে যাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। দু-একদিনর মধ্যে ব্যবস্থা করবো। গাড়িগুলো প্রতিদিন সাবান দিয়ে ধোয়া হয়। আল্লাহর রহমতে সমস্য হবে না।

স্টাফদের সুরক্ষা পোশাক নেই এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, খুব শিগরিই পোশাক দেয়া হবে। শাহবাগে কথা হয় তরঙ্গ পরিবহনের চালক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, মালিকদের দরকার শুধু টাকা। করোনা সচেতনতামূলক পদক্ষপ নেয়ার দরকার কি। আমাদের সুরক্ষা কোনো পোশাক ও মাস্ক দেয়া নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। মহাখালী বাস টার্মিনালে বেশকিছু পরিবহন মালিক স্টাফদের জন্য মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করেছে। তবে যাত্রীদের জন্যও করা হবে বলে জানান তিনি।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ