সোমবার ৩০ মার্চ ২০২০

১৬ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

রফিকুল ইসলাম

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ২৩,২০২০, ১০:০৮

মার্চ ২৩,২০২০, ১০:০৮

ভোটে অনাস্থা বাড়ছে

  • ইসিকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে : ড. বদিউল আলম মজুমদার
  • ভোটে যা হওয়ার তাই হয়েছে : ড. তোফায়েল আহমেদ
  • ভোটারের আস্থা ফেরানো জরুরি : আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম

নির্বাচন। একটি গণতন্ত্র রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে তার স্বাধীন মতামত প্রকাশ করেন। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে স্বাধীন মতামত প্রকাশের অন্যতম মাধ্যমে অনাস্থা দেখা দিয়েছে। নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন না দেশের সাধারণ ভোটাররা। প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালালেও ভোট কেন্দ্রগুলোতে কমছে ভোটার উপস্থিতি।

যদিও নির্বাচনগুলোতে কত শতাংশ ভোট পড়েছে তা নিয়ে চিন্তা করছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তারা বলছে, একটি ভোট পড়লেও নির্বাচন কমিশন ধরে নেবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে। ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্য নিয়ে ক্ষুব্ধ দেশের সচেতন নাগরিকরা।

তারা বলছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করেছে। দেশের এই অবস্থার জন্য নির্বাচন কমিশনকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। দেশজুড়ে করোনা আতঙ্কের মধ্য গত শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে গাইবান্ধা-৩, বাগেরহাট-৪ ও ঢাকা-১০ এই তিনটি আসনের উপ-নির্বাচন। অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিলো খুবই কম।

এর মধ্য ঢাকা-১০ আসনে ভোট পড়েছে মাত্র ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। ভোটার উপস্থিতি কম ছিলো গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনেও। এর আগে নিরুত্তাপভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিলো অনেক কম।

নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী দুই সিটি নির্বাচনে সবমিলিয়ে গড়ে ভোট পড়েছে ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। যদিও মেয়র নির্বাচিত হয়েছে অনেক কম ভোটে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর গত বছরের ১০ মার্চ থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।

স্থানীয় সরকারের ওই নির্বাচন মোট পাঁচটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। দেশে ভোটের রাজনীতিতে দ্বিতীয় ও বৃহৎ নির্বাচন ছিলো নিরুত্তাপ। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন অনেকেই। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অনেক আসনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএমে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করেছে। এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে খাদের কিনারে নিয়ে এসেছে। এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে দৈনিক আমার সংবাদকে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে যাক আর না যাক, ভোটাররা ভোট দিক  আর না দিক, তাতে নির্বাচন কমিশনের কিছু যায় আসে না। তারা ঠিকই একজনকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারি দলের মনোনয়ন যে পাবে সেই নির্বাচিত হয়ে যাবে। আমার সবাই নীরব দর্শকে পরিণত হয়েছি। আমাদের ভোটার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে সাধারণ ভোটারের জীবন। আসলে এগুলো সব কারসাজির পূর্ণ নির্বাচন।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, দেশে নির্বাচন হবে। কাকে নির্বাচিত করা হবে সেটা আগেই ঠিক করা। দিনে দিনে কমছে ভোটার উপস্থিতি। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কত শতাংশ ভোট পড়েছে তা নিয়ে কিছু যায় আসে না। ভোটে যা হওয়ার তাই হয়েছে।

এগুলো নিয়ে কথা বলার কিছু নেই। গতকাল আমার সংবাদকে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ঢাকা-১০ আসনে ভোট দেখিয়েছেন ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। তাদের এই শতাংশ নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। এই আসনের নির্বাচন দিয়ে নির্বাচন কমিশন আরও একটি রেকর্ড করলো।

ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে দায়িত্বশীল কথা বলতে হবে। তিনি ইভিএমে ভোট দেয়া নিয়ে যা বলেছেন এটা দায়িত্বশীল কথা নয়। যদি সত্যিকার অর্থে ভোট এমন হয় তাহলে কোথায় কী সমস্যা আছে সেগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ভোটের পারসেন্টেন্স কোনো ভিত্তি নেই। পারসেন্টেন্সের বিশ্বাসযোগ্য কোনো মাপ কাঠি নেই। তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি দেশে কত পারসেন্ট ভোট কাস্ট হয়েছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে। কিন্তু আজ আমরা সেই স্থান অর্জন করছে পারছি না। সেটা পাঁচ, পঞ্চাশ কিংবা  আশি পারসেন্ট হোক। এদেশের মানুষ তাও বিশ্বাস করবে না। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ওপর আমরা দিনদিন বিশ্বাস যোগ্যতা হারিয়ে ফেলছি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম আমার সংবাদকে বলেন, আজ সাধারণ মানুষ ভোটের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাদের এই আস্থা ফেরানো জরুরি। এজন্য আমাদের জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, একটি গণতন্ত্রকে সুদীর্ঘ, শক্তিশালী এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে এসব নির্বাচনে জণগণের অংশগ্রহণ করানো জরুরি। সাধারণ ভোটারদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই ভোট দিচ্ছেন না।

তাদের এই বিষয়গুলো কীভাবে দেখছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে প্রতিটি নেতাকর্মীর সাথে আলাপ-আলোচনা করা হবে। যাতে সবাই ভোট দিতে উৎসাহী হয়।

আমারসংবাদ/এআই