সোমবার ৩০ মার্চ ২০২০

১৬ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

বশির হোসেন খান

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ২৩,২০২০, ০১:০৪

মার্চ ২৩,২০২০, ০১:০৪

সক্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াত চক্র

ঝামেলা এড়াতে বাড়ছে মোবাইল ব্যাংকিংসেবা। একইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইন ব্যাংক জালিয়াত। গড়ে উঠছে বেশকটি চক্র। থামছে না গ্রাহক হয়রানি। তারা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে ডিজিটাল প্রতারণার জালে ফেলছেন গ্রাহকদের। এতে প্রতিদিন গ্রাহকরা হারাচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকদের যেমন লেনদেন সুবিধা হচ্ছে। তেমনি গ্রাহকরা প্রতারণার ফাঁদে ফেলছেন এই চক্র। অনলাইনে নানা ডিভাইস ও অ্যাপ ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ ও এম ক্যাশ একাউন্ট দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। নানা কৌশল অবলম্বন করছেন জালিয়াত চক্রের সদস্যরা।

গতকাল রোববার দিবাগত রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা ইউনিটের একটি দল কক্সবাজার থেকে চক্রের প্রধান মামুন তালুকদার ও তার সহযোগী মো. মিঠু মৃধাকে ফরিদপুরের ভাঙা থেকে গ্রেপ্তার করে।

মাদক ব্যবসা, মানবপাচার, চোরাচালান, চাঁদাবাজি, হত্যা, অপহরণ, হুন্ডি, জালিয়াতি, জিনের বাদশা, হ্যালো পার্টি, প্রতারণা, মুক্তিপণ আদায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রবাসীদের জিম্মি করে টাকা আদায় ও ধর্মভিত্তিক জঙ্গি কর্মকাণ্ডের মতো অপরাধের ঘটনায় টাকা লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং। রাজধানীর বাড্ডা, মিরপুর, গুলিস্তান, বনশ্রী, তেজগাঁও, গুলশান, যাত্রবাড়ি, সায়েদাবাদ, পল্টন, শাহজাহানপুরসহ ২৫ স্পটে এই চক্র প্রতারণার ফাঁদে ফেলছেন গ্রাহকদের।

গত কয়েক মাস ধরে এ প্রতারক চক্র অভিনব কায়দায় বিভিন্ন ডায়লার অ্যাপস দিয়ে কয়েকটি ব্যাংকের হেড অফিসের কার্ড ডিভিশনের মোবাইল নম্বর স্পুফ করে শাখা ম্যানেজারদের কল দিয়ে আগের মাসের নতুন কার্ড ব্যবহারকারীদের নাম, কার্ড নম্বর এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন।

তারপর প্রতারকরা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার এজেন্ট সেজে গ্রাহকদের কল করে বলত তারা ব্যাংক থেকে তার নতুন কার্ডটি একটিভ করা বা অন্যকিছু ফিক্স করার জন্য কল করেছে।

এরপর চক্রটি কৌশলে স্পুফড মোবাইল কলের মাধ্যমেই গ্রাহকদের কার্ডের মেয়াদ, ৩/৪ ডিজিটের সিভিভি কোড এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে মোবাইলের ওটিপি সংগ্রহ করে গ্রাহকদের কার্ড থেকে টাকা এবং ডলার প্রতারকদের লন্ডনভিত্তিক ই-কমার্স অ্যাপস স্ক্রিল একাউন্ট, বিকাশ, নগদ ট্রান্সফার করে ও পরবর্তীতে এটিএম বুথ, বিকাশ, নগদ এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট করেন।

এভাবে দেশের একাধিক শীর্ষ স্থানীয় ব্যাংকের শতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা চুরি গেলে কয়েকটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ করলে মাঠে নামে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা ইউনিটের একটি দল।

মেট্রোপলিটন পুলিশ মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, প্রায় এক লাখের বেশি মোবাইল নাম্বার ও ডায়লার অ্যাপসের আইপি বিশ্লেষণসহ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ব্যাংকিং প্রতারণার কাজে ব্যবহূত একটি এক্সিও গাড়ি, ৭টি বিশেষ অ্যাপসযুক্ত মোবাইল ফোন, বহু ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল সিমকার্ড, একাধিক ব্যাংক, বিকাশ, নগদ ও স্ক্রিল একাউন্ট জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেন।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ