বুধবার ০৩ জুন ২০২০

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

জাহাঙ্গীর আলম

মার্চ ১৯,২০২০, ০৫:২২

মার্চ ১৯,২০২০, ১১:২৯

মেট্রোরেল পদ্মা সেতুিতে কমছে বরাদ্দ

যানজটের হাত থেকে রাজধানীবাসীকে একটু স্বস্তি দিতে সরকার চলতি অর্থবছরে সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ দিয়েছে মেট্রোরেলে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ অর্থ ব্যয় করতে পারছে না। প্রায় অর্ধেক অর্থ ফেরত দিচ্ছে।

একই দশা পদ্মা সেতুর। সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দিলেও তা ব্যয় করতে পারছে না। কমানো হচ্ছে হাজার কোটি টাকারও বেশি।

শুধু ওই দুই মেগা প্রকল্পেরই এই দশা তা নয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করতে না পারায় উন্নয়ন কাজে গতি পাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অন্যান্য বছরের মতো এবারো বরাদ্দ কমাতে হচ্ছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংশোধন করে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। কারণ প্রথমে দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দিলেও আজ সংশোধিত এডিপিতে (আরএডিপি) কমিয়ে এক লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় আজ অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে। এনইসি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। তার জন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, আরএডিপির এক লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকার মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে থাকছে এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। আর বৈদেশিক সহায়তা থেকে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬২ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে প্রথমে দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপি নির্ধারণ করা হয়।

এর মধ্যে সরকারি অর্থ এক লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকাি। বৈদেশিক ঋণ প্রায় ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন প্রায় ১২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

সব মিলে সরকার সারা দেশের উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে চলতি অর্থবছরে এডিপিতে মোট বরাদ্দ দিয়েছে প্রায় দুই লাখ ১৫ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। এতে এক হাজার ৫৬৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা।

কিন্তু বিভিন্ন কারণে বিদেশি ঋণ ব্যয় করতে না পারায় এই অংশ থেকে বাদ যাচ্ছে ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। কারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি তহবিলের অর্থপ্রাপ্তি সহজ। প্রকল্প পরিচালকেরা সহজেই অর্থ খরচ করতে পারছেন।

অন্যদিকে বৈদেশিক অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ঋণ চুক্তি সই ও কার্যকর করতে বেশি সময় লাগে। মূল এডিপিতে প্রকল্প ছিলো এক হাজার ৪৭৫টি। সেখান থেকে ২৬৯টি বেড়ে আরএডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে এক হাজার ৭৪৪টি। তবে এর মধ্যে নতুনভাবে অনুমোদিত প্রকল্প রয়েছে ২৪৬টি এবং মূল এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত নেই এমন ২৩টি প্রকল্প রয়েছে।

অন্যদিকে সংশোধিত এডিপিতে কমছে প্রকল্প সমাপ্তর লক্ষ্যমাত্রা। চলতি অর্থবছরের শুরুতেই ৩৫৫টি প্রকল্প সমাপ্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্য বিনিয়োগ প্রকল্প ছিলো ৩৪১টি এবং কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১৪টি। কিন্তু বাস্তবায়নের হার কম হওয়ায় সংশোধিত এডিপিতে এই লক্ষ্যমাত্রা ৩১৪টিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৩১২টি এবং কারিগরি সহায়তা প্রকল্প রয়েছে একটি।

গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাস্তবায়নের হার আশানুরূপ নয়। বড় বড় অগ্রাধীকার প্রকল্পের মধ্যে পদ্মা সেতু প্রকল্প, এমআরটি লাইন-০৬ বা মেট্রোরেল, সাসেক-০১ বা জয়দেবপুর- এলেঙ্গা, সাসেক ০২ বা এলেঙ্গা- রংপুর চারলেনে উন্নীতকরণসহ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ১৮৭টি প্রকল্পে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ৩৩ হাজার ৭২৪ কোটি টাকারও বেশি।

কিন্তু কর্তৃপক্ষ আশানুরূপ ব্যয় করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে ৩০ হাজার ৬৪১ কোটি টাকার প্রস্তাব করেছে। পদ্মা সেতুতে চলতি অর্থবছরে প্রায় পঁচ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয়ের পরিমাণ খুবই কম। তাই ব্যয় কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে চার হাজার ১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রাজধানীর যানজট নিরসনে সড়কের ওপর দিয়ে মেট্রোরেল নির্মাণ করছে সরকার। জাপান সরকারের সহায়তায় এ প্রকল্পের কাজ শুরুর সময় থেকেই রাজধানীর সড়কগুলো চাপা হয়ে গেছে। এতে যানজট আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। সাধারণ জনগণতো বটে যানজটে কাহিল খোদ সচিব থেকে মন্ত্রী পর্যন্ত।

এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে সরকার মেট্রোরেল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। এ জন্য চলতি অর্থবছরে সাত হাজার ২১২ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু আশানুরূপ ব্যয় করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে কমিয়ে বরাদ্দ দিচ্ছে চার হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে বরাদ্দ কমছে দুই হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা।

শুধু বড় বড় প্রকল্পের যে এ দশা তা নয়, ছোট প্রকল্পেও ধীর গতির ধাক্কা চলতি অর্থবছরে। ঢাকা শহরে সাবওয়ে চালু করতে ফিজিবিলিটি স্টাডির এ প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করতে পারছে না লক্ষ্য অনুযায়ী।

চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে প্রায় ৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু ব্যয় করতে না পারায় তা থেকে কমিয়ে ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও বিভাগগুলোর কাছে প্রথমে বরাদ্দ চাওয়া হয়। তারা অনেক বেশি বরাদ্দ চাইলেও বাস্তবতা বিবেচনা করে প্রতি অর্থবছরে বরাদ্দ দেয়া হয়।

তারপরও অনেক মন্ত্রণালয় ব্যয় করতে না পেরে বাধ্য হয়ে ছয় মাস পরে বরাদ্দ কমানো বা বাড়ানোর প্রস্তাব করে পরিকল্পনা কমিশনে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে আজ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এনইসি সভায় উপস্থাপন করা হবে।


আমারসংবাদ/এসটিএমএ