বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০

২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

রফিকুল ইসলাম

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ১৫,২০২০, ০৪:৪৮

মার্চ ১৫,২০২০, ০৪:৫৭

চসিক ও ৫ শূন্য আসনে উপ-নির্বাচন

করোনায় পেছাতে পারে ভোটগ্রহণ

করোনা কোপে স্থবির পুরো দুনিয়া। দুর্বল হয়ে পড়েছে পৃথিবীর বাঘা বাঘা দেশ। বিশ্বব্যাপী পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু কোলে ঢলে পড়েছে। আতঙ্কে গৃহবন্দি রয়েছে দেশগুলোর নাগরিকরা। ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে দেশে দেশে বাড়ানো হয়েছে বাড়তি নজরদারি ও সতর্কতা।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতোই করোনা আতঙ্কে রয়েছে বাংলাদেশও। সরকারের পক্ষে থেকে বাড়ানো হয়েছে নানামুখী সতর্কতা। সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সরকারের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও।

দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা আতঙ্ক আঘাত করতে পারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় সংসদে শূন্য হওয়া বগুড়া-১, গাইবান্ধা-৩, বাগেরহাট-৪, যশোর-৬ এবং ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে। দেশে করোনা ভাইরাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলো।

পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন নির্বাচন কমিশন। ভাইরাসটির প্রকোপ বাড়লে নির্বাচনের তারিখ পেছানো হবে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। করোনার প্রভাব পড়েছে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি থেকে শুরু করে রাজনীতিসহ সবক্ষেত্রে।

একের পর এক সঙ্কুচিত ও বাতিল করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ও সরকারি বিভিন্ন আয়োজন। ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকানোর আগাম সতর্কতা হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ৩০ মার্চ গুরুত্বপূর্ণ জাপান সফরসহ মন্ত্রিসভার কয়েক সদস্যের বিদেশে সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়ার কর্মসূচিও স্থগিত করা হয়েছে। দেশের কোনো মানুষ যেন আতঙ্কিত না হয় সে জন্য সরকারের পাশাপাশি জনসচেতনতায় আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণায় নেমেছে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

গত ৮ মার্চ দেশে তিনজন করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর আর কেউ আক্রান্ত না হওয়ায় পরিস্থিতি এখনো পর্যন্ত স্বস্তিকর। বাংলাদেশে না হলেও বিশ্বব্যাপী ভাইরাসটি থেমে নেই। প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি জাতীয় সংসদে শূন্য হওয়া পাঁচটি আসনের উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে।

এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কিছু জানায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাঁচটি সংসদীয় আসন ও চসিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি যেভাবে চলছিল, সেভাবেই চলছে। করোনার সার্বিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে ইসি। থেমে নেই সংসদ সদস্য, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরাও।

তারা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিজ নিজ নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনাও করছেন।

করোনা একটি ছোঁয়াচে রোগ। তাই বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে নির্বাচনি এলাকাগুলো। প্রচারণায় জনসমাগম ও ভিড় এড়িয়ে চলছেন প্রার্থীসহ নেতাকর্মীরা।

নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রার্থীরা ভোটারদের ঘরে ঘরে যাওয়ার বদলে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো, অনলাইন ও টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা এ মুহূর্তে বেশি করছেন।

তবে করোনা ভাইরাস নির্বাচনের উপর কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী।

তিনি আমার সংবাদকে বলেন, সিটি ভোটকে সামনে রেখে আমার নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে প্রচার-প্রচারণা চাল্লাচ্ছি। এই প্রচার-প্রচারণার সাথে করোনা ভাইরাস বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতনও করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, করোনার সংক্রমণ দেখা দিলে যেকোনো মুহূর্তে পেছাতে পারে নির্বাচনের তারিখ। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইসিকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হবে।

যদিও এর আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবিলায় সবার আগে মানুষকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা ও তাদের জীবনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে সবার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক আমার সংবাদকে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস আঘাত করেছে। আমাদের দেশেও তিনজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। তারা বর্তমানে সুস্থ।

তিনি আরও বলেন, এখনো আমাদের দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদি হয় নির্বাচন কমিশন সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

করোনার কারণে নির্বাচন পেছানোর সম্ভাবনা আছে কি না— জানতে চাইলে গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেন, এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের কারণে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়নি। তাই নির্বাচন বন্ধ রাখার মতো চিন্তা করছি না।

নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি আছে। বিষয়টি সিরিয়াস আকার ধারণ করলে তখন আমরা চিন্তা করবো। তবে আমরা চাই ২৯ মার্চ ঘোষিত তারিখেই নির্বাচন হোক।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ