বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০

১৪ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

আমারসংবাদ ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২১,২০২০, ০৪:৪১

সেপ্টেম্বর ২১,২০২০, ০৪:৪২

জাপান সম্পর্কে যত অজানা তথ্য

পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র হলো জাপান। আমরা ছোটবেলা থেকে জেনে আসছি জাপানকে সূর্যের দেশ বলা হয়। ৬,৮৫২টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত জাপানের জনসংখ্যা ১২৬ মিলিয়ন। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মহানগরীয় অর্থনীতি।

জাপানিদের ব্যতিক্রমী ও উন্নত প্রযুক্তির কথা আমরা অনেকেই জানি। বাস্তবে জাপানে এমন সব প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, যা বহু মানুষ ভাবতেও পারবে না। আর এজন্য জাপান কে করেছে অন্য দেশ থেকে আলাদা।

প্রিয়দর্শক জাপান কেন আলাদা সেই কথা জানাবো আজ

# জাপানে রয়েছে অভিনব সব পেট্রোল পাম্প। জাপানের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ওপর থেকে ঝোলানো পাইপ দেখা যায়। এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় নিজে পেট্রোল পাম্প ব্যবহারের ক্ষেত্রে। পাইপ হাতের নাগালে পাওয়ার জন্য কারো কষ্ট বা অপেক্ষা করতে হয় না।

# ভেন্ডিং মেশিনেই পাওয়া যায় জাপানের সবকিছু- প্রিয় দর্শক ভেন্ডিং মেশিন হল এক ধরনের যন্ত্র যা গ্রাহক মুদ্রা বা ক্রেডিট কার্ড সন্নিবেশিত করার পর বিভিন্ন পণ্য যেমন নাস্তা, পানীয় বিভিন্ন তামাক পন্য, লটারির টিকিট, ভোক্তাপণ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিতরণ করে। জাপানে সেই ভেন্ডিং মেশিনে পানীয়সহ অনেক ধরনের খাবারও পাওয়া যায়। আর এতে ক্রেতাদের বাড়তি ঝামেলাও করতে হয় না। এমনকি কোনো কোনো ভেন্ডিং মেশিনে সেদ্ধ ডিম, আলু, পাস্তা ইত্যাদি খাবারও পাওয়া যায়।

# অন্ধদের জন্য ক্যান কেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে জাপানে। বিভিন্ন পানীয়ের ক্যানের ওপর অন্ধদের জন্য ব্রেইল ভাষায় লেখা থাকে। এতে পানীয়টি চিনে নিতে সুবিধা হয় অন্ধদের।

# জাপানে মাল্টি ফাংশনাল টয়লেট দেখা যায় অনেক স্থানেই- ব্যবহৃত টয়লেটগুলো সাধারণত শুধু তাদের মূল কাজই নয়, আরও বহু কাজের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বেশ ভালো সুবিধা থাকে টয়লেটগুলোতে। এই টয়লেটগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা, শীতকালে গরম করার ব্যবস্থাও থাকে।

# আমরা যখন কোথায় বেড়াতে যায় তখন সাথে কিন্ত ব্যাগ নিতে হয়। আর চেয়ারে বসলে হাতে ব্যাগ রাখতে হয় অথবা বিভিন্ন স্থানে চেয়ারে বসার সময় ব্যাগ রাখতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। জাপানিরা বহুদিন আগেই এ সমস্যার সমাধান করেছে। জাপানে রয়েছে ব্যাগ রাখার জায়গাসহ চেয়ার। চেয়ারের এক পাশে ব্যাগ রাখার জন্য একটি খাঁজের ব্যবস্থা করেছে জাপানিরা।

# আমাদের দেশে অনেকে ট্যাক্সিতে ওঠার পর সঠিকভাবে দরজা বন্ধ করতে পারেন না। আবার নামার পরও খোলা দরজার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয় চালকদের। আর জাপানিরা এ সমস্যার সমাধান করেছে স্বয়ংক্রিয় দরজা ব্যবহারের মাধ্যমে। প্রচুর জাপানি ট্যাক্সিতেই স্বয়ংক্রিয় দরজা রয়েছে, যা এ ধরনের সমস্যামুক্ত।

# আপনার বাড়িতে যদি নানা কারণে সঠিক ভাবে ঘুম না আসে তাহলে জাপানে উদাহরণ অনুসরণ করতে পারেন জাপানে রয়েছে একেবারে নিরব ঘুমানোর ব্যবস্থা সংবলিত হোটেল। শুধু ঘুমানোর জন্যই অনেকে হোটেল গুলোতে যেয়ে আরামে ঘুম দিয়ে থাকে।

# গাড়ি নিয়ে দুরে কোথায় বেড়াতে গেলে আমরা গাড়িতে সংগীত শুনতে শুনতে যায় কিন্তু জাপানে রয়েছে সংগীতের সড়ক। জাপানের বিভিন্ন সড়কে সংগীতের সুর শোনা যায়। এছাড়া রয়েছে সংগীতের বিভিন্ন চিহ্নেরও ব্যবহার। দীর্ঘযাত্রায় এ ধরনের রাস্তা খুবই আনন্দদায়ক।

আমাদের এখানে যদি অফিস কাজ করতে করতে ঘুমিয়ে যান আর সেই ঘুমিয়ে যাওয়া যদি অফিসে বস দেখে তাহলে আপনার চাকরি চলে যেতে পারে কিন্ত জাপানে রয়েছে ভিন্ন নিয়ম- সেখানে দীর্ঘ কর্মঘণ্টার জন্য জাপানিরা প্রায়ই খুব ক্লান্ত হয়ে যায়। আর এ পরিস্থিতি কাটানোর জন্য জাপানিরা ঘুমের বিষয়টিকে অনেকাংশেই স্বাভাবিক করে নিয়েছে। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের সময়ও ঘুমিয়ে গেলে জাপানে কোনো দোষ হয় না। এমনকি জাপানে বসের সামনেও ঘুমাতে কেউ লজ্জা পায় না।  

আমারসংবাদ/জেডআই