বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০

৩১ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ২৪,২০২০, ০৩:২১

মে ২৪,২০২০, ০৩:২৪

দেশের বিভিন্নস্থানে পালিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর

সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোববার (২৪ মে) দেশের বিভিন্নস্থানে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হচ্ছে।

এদিন সকাল ৯টায় দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টিতে ‘পার্টি সেন্টার’ নামে একটি কমিউনিটি সেন্টারে ঈদের জামাতে শতাধিক লোক অংশ নিয়েছেন। এখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরেধে কোনো বিধি মানা হয়নি। জামাতে অংশ নেওয়া কেউ পরস্পর থেকে ন্যূনতম দূরত্ব বজায় রাখেননি।

এই জামাতে ঈমামতি করেন সাইদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। সাইদুর বলেন, সবাই ওজু করে নামাজে অংশ নিয়েছেন। ওজুর ওপরে আর কোনো স্বাস্থ্যবিধি নেই।

আগাম ঈদ সম্পর্কে তিনি বলেন, একটা সূর্য। সারাবিশ্বে এক দিনেই ঈদ হবে।

জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতাড়া, কাহারোল উপজেলার জয়নন্দ ও গড়েয়া, এবং বিরল উপজেলার বালান্দোর গ্রামে রোববার ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মুন্সিপাড়া জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাতে ইমামতি করেন মওলানা আব্দুল হামিদ। এখানে উপজেলার সুন্দ্রাহবী, মুন্সিপাড়া, আমিনগঞ্জ, বালাপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের দেড় শতাধিক লোক নামাজ পড়েছেন।

ওই এলাকার মানুষ কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঈদ করছেন বলে মুন্সিপাড়া ঈদগাহ মাঠের সভাপতি মাওলানা মাছুম বিল্লাহ্ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এবার করোনাভাইরাসের কারণে তারা মসজিদের ঈদের নামাজ পড়েছেন।

বিষয়টি প্রশাসন অবগত আছেন বলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল হাসান জানিয়েছেন।

শেরপুর সদর উপজেলার চরখাঁরচর মধ্যপাড়া ও পশ্চিমপাড়ায় সকাল ৮টায় দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুটি জামাতে প্রায় এক হাজার মানুষ অংশ নেন বলে বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন।

এছাড়া ঝিনাইগাতী উপজেলার চতল গ্রামে সকাল সাড়ে ৯টায় এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার গোবিন্দনগর ছয়আনী পাড়ায় সকাল সাড়ে ৭টায় ও একই উপজেলার নন্নী মধ্যপাড়ায় জয়নালের বাড়িতে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ তিনটি জামাতে তিন শতাধিক লোক নামাজ পড়েছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চটকাবাড়িয়া দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে কিছু লোক সকাল ৭টায় ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন। জামাতে উপজেলার বৈঠাপাড়া, কুলবাড়িয়া, রামনগর, দখলপুর, পায়রাডাঙ্গার লোকজন ছিলেন। মওলানা রেজাউল ইসলাম এই জামাতে ইমামতি করেন।

হরিণাকুণ্ডু ধানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক ওই মসজিদে রোববার সকালে ঈদের নামাজ পড়েছেন। পর্যবেক্ষণের জন্য সেখানে পুলিশ ছিল।

মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় আহমেদ শাবিস্তা নামে একটি বাড়ির আঙিনায় ঈদের জামাত হয়েছে। এতে নারী-পুরুষ ও শিশুরা অংশ নেয়। রোববার সকাল ৬টায় এই জামাতে ইমামতি করেন আব্দুল মাওফিক চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি; যিনি এলাকায় ‘পির সাহেব’ বলে পরিচিত।

নামাজ শেষে তারা মোনাজাতে দেশ-জাতির সমৃদ্ধি কামনা ও করোনাভাইরাস থেকে থেকে বিশ্বকে রক্ষার জন্য প্রার্থনা করেন। দোয়া শেষে স্বজনদের মধ্যে কোলাকোলি করেন কিছু লোক।

মাওফিক চৌধুরী বলেন, তিনি ১৫ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঈদ করে আসছেন। তবে এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে তিনি স্থানীয় লোকদের নিয়ে বাড়ির আঙিনায় স্বল্প পরিসরে নামজ পড়েছেন। মহান আল্লার কাছে ক্ষমা চেয়ে আমি তার কাছে প্রার্থনা করেছি তিনি যেন এই করোনাভাইরাস মহামারি থেকে আমাদের এই বিশ্বকে রক্ষা করেন।

চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামেও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুর ফিতর উদযাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সাদ্রা দরবার শরীফ কর্তৃপক্ষ। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ৮৭ বছর ধরে চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামের মানুষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পালন করে আসছেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের সাদ্রা হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আবু ইছহাক ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সব ধর্মীয় রীতিনীতি প্রচলন শুরু করেন। ইছহাকের মৃত্যুর পর তার ছয় ছেলে এ মতবাদের প্রচার চালিয়ে আসছেন।

জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলার ৪০টি গ্রামে প্রায় ৮৭ বছর ধরে এভাবে ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে।

ইছহাকের বড় ছেলে ও সাদ্রা গ্রামের গদিশীন পীর আবু যোফার আবদুল হাই বলেন, রোববার সকালে সাদ্রা হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়া হবে।

যেসব গ্রামে ঈদ হচ্ছে সেগুলো হলো, হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, বেলচো, জাঁকনি, প্রতাপপুর, গোবিন্দপুর, দক্ষিণ বলাখাল। ফরিদগঞ্জ উপজেলার-সেনাগাঁও, বাসারা উভারামপুর, উটতলী, মুন্সিরহাট, মূলপাড়া, বদরপুর, পাইকপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, কাইতাড়া, নুরপুর, শাচনমেঘ, ষোলা, হাঁসা, চরদুখিয়া এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলার দশআনী, মোহনপুর, পাঁচআনী ও কচুয়া উপজেলার উজানি গ্রাম।

সাদ্রা ছাড়াও জেলার ৪০টি গ্রামের একাংশ (ওই পীরের অনুসারীরা) একদিন আগে ঈদসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন করেন থাকেন। এছাড়া চাঁদপুরের পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও চট্টগ্রাম জেলার কয়েকটি স্থানে মাও. ইছহাক খানের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।

এদিকে বরিশালের ছয়টি উপজেলার কিছু গ্রামে রোববার আগাম ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে। এসব গ্রামে বসবাসরত চট্টগ্রামের চন্দনাইশ শাহসুফি দরবার শরিফ, সাতকানিয়া মির্জাখালী দরবার শরিফ এবং আহমাদিয়া জামাত অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের প্রায় ২ হাজার অনুসারীসহ জেলার হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী, বাকেরগঞ্জের সুন্দরকাঠী, মহানগরীসহ সদর উপজেলার প্রায় ৫ হাজার অনুসারী প্রতি বছরের ন্যায় এবারও একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেছে।

বরিশাল নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের তাজকাঠি, জিয়া সড়ক, টিয়াখালী, সিকদার বাড়িসহ সদর উপজেলার সাহেবের হাট এলাকায় ‍সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের তাজকাঠি এলাকার হাজিবাড়ি জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাওলানা দেলোয়ার হোসেন নামাজে ইমামতি করেন।

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলার অর্ধশত গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। দেশে প্রচলিত নিয়মের একদিন আগেই রোববার এসব গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার ঈদ উদযাপন করছেন।

শরীয়তপুরের সুরেশ্বর দরবার শরিফে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সুরেশ্বর দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা হজরত জান শরীফ শাহ সুরেশ্বরীর অনুসারীরাও ঈদ পালন করছেন। সকাল ৯টায় ও সকাল ১০টায় ঈদের দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ও জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে থাকা সুরেশ্বর দরবার শরিফের অনুসারীরা প্রতিবছর এই জামাতে অংশ নিলেও এ বছর উপস্থিতি অনেক কম ছিল।অনেক অনুসারীই এবার দরবার শরিফে না এসে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ঈদ উদযাপন করছেন।

বরিশাল বিভাগের কয়েকটি স্থানে লক্ষাধিক মানুষ আগাম ঈদ-উল-ফিতর পালন করছে আজ। এরা চট্টগ্রামের চন্দনাইশ কাঞ্চন নগর পশ্চিম এলাহাবাদ জাহাগিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুযারী।

আমারসংবাদ/জেআই