শুক্রবার ২৯ মে ২০২০

১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ০৭,২০২০, ০৪:০৪

মে ০৭,২০২০, ০৪:০৫

নির্দেশনা মেনে মসজিদে নামাজ আদায় মুসল্লিদের

শারীরিক দূরত্ব মেনে শর্তসাপেক্ষে মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ শর্ত মেনেই মসজিদগুলোতে জোহরের নামাজ জামাতের সহিত আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।

বৃহস্পতিবার (৭মে) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। এসময় মসজিদের প্রবেশ ও ওজু করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে সংক্রমণ প্রতিরোধে সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

মুসল্লিরা জানান, সংক্রমণ প্রতিরোধে কেবল মাত্র ফরজ নামাজ মসজিদে আদায় করবেন তারা।

অন্যদিকে মসজিদ কমিটির সদস্যদের দাবি, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবাণুনাশক স্প্রে করার পাশাপাশি সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন তারা।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গত ৪ এপ্রিল ধর্মমন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মসজিদে দশজনের অধিক ব্যক্তির অংশ গ্রহণে জামাত আদায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এরপর ২৩ এপ্রিল আরেক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা এবং রমজান মাসের তারাবির জামাত সীমিত আকারে আদায়ের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলী রয়েছে।

শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুণাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

২. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সবান-পানি রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

৩. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে সুন্নত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৪. কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব অর্থাৎ তিন ফুট পর পর দাঁড়াতে হবে।

৫. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

৬. সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদের ওজুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

৭. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

৮. মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না।

৯. উল্লিখিত শর্ত পালন সাপেক্ষে প্রত্যেক মসজিদে সর্বোচ্চ পাঁচজন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ইতেকাফ এর জন্য অবস্থান করতে পারবেন।

১০. করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা যাচ্ছে।

১১. এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার হবে।

১২. খতিব, ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এসব নির্দেশনা লংঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃখলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

আমারসংবাদ/এআই