শুক্রবার ২৯ মে ২০২০

১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ

এপ্রিল ২৫,২০২০, ০৩:৫৩

এপ্রিল ২৫,২০২০, ০৩:৫৩

ইফতারের তাৎপর্য ও ফজিলত

 

আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মোমিন বান্দার প্রতি বড় একটি অনুগ্রহ বা দয়া হল ইফতার। হাদীস শরীফে এসেছে , রোজাদার বান্দার দু'টি মুহূর্ত সবচেয়ে বেশি আনন্দের।

১. আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে মোলাকাতের সময়।
২.ইফতারের সময়।

ইফতার কাকে বলে?

ইফতার শব্দটি আরবি ফুতুর শব্দ থেকে নির্গত। অর্থ নাস্তা। ইফতার অর্থ খোলা, উন্মুক্ত করা এবং ছেড়ে দেওয়া। শরীয়তের পরিভাষায় সূর্যাস্তের পরে সঙ্গে সঙ্গে খেজুর, পানি বা যেকোনো খাদ্যদ্রব্য ভক্ষণের মাধ্যমে রোজা ছেড়ে দেওয়াকে ইফতার বলে।

হজরত সাহল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, মানুষ ততোদিন পর্যন্ত কল্যাণের ওপরে থাকবে, যতোদিন তারা অনতিবিলম্বে ইফতার করবে। (বোখারি, মুসলিম)।

হজরত আবু আতিয়্যাহ (রা.) বলেন, একবার আমি এবং মাসরুক হযরত আয়েশার (রা.) কাছে গিয়ে বললাম, হে উম্মুল মুমিনীন, নবীজি (সা.) সাহাবীদের মধ্যে দুজন এমন আছেন, যাদের একজন অবিলম্বে ইফতার করেন এবং অবিলম্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। আর অপরজন কিছুটা বিলম্বে ইফতার করেন এবং বিলম্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, দুজনের মধ্যে কে অবিলম্বে ইফতার করেন এবং অবিলম্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন? রাবী বলেন, আমরা বললাম, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এমনই করতেন।

হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় সেই, যে ইফতার সঠিক সময়ে করে। (তিরমিযী, মেশকাত)।

ওপরের হাদিস থেকে বোঝা গেল, সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা এটি সুন্নত এবং সওয়াবের কাজ।

ইফতারের আরেকটি সুন্নত হল, খেজুর দিয়ে ইফতার করা। হযরত সালমান ইবনে আমের (রা.) বলেন, নবীজি (স.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে, তার উচিত খেজুর দিয়ে ইফতার করে। তবে সে যদি খেজুর না পায়, তাহলে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কারণ, পানি পাক-পবিত্র। (মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা-মুসনাদে আহমাদ-সহিহ ইবনে খুজাইমা)

প্রসঙ্গত, ইফতারের সময় দুআ কবুল হয়। তাই বৈশ্বিক মহামারি উঠিয়ে নেওয়াসহ আমাদের যার যে কামনা-বাসনা আছে, মহান পরওয়ারদেগারের কাছে তা চাইতে পারি। আশা করা যায়, তিনি কবুল করবেন।

লেখক, তরুণ আলেম ও সংবাদকর্মী

আমারসংবাদ/এএ/জেআই