শুক্রবার ২৯ মে ২০২০

১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

এপ্রিল ২৪,২০২০, ০৭:৩০

এপ্রিল ২৪,২০২০, ০৭:৩১

তারাবির গুরুত্ব ও ফজিলত, পড়বেন যেভাবে

তারাবি নামাজ। রোযার রাখার পূর্বে ২০ রাকাত তারাবি নামাজ পড়েন মুসলিমরা। তারবীহ অর্থ ক্ষণিক বিশ্রাম। এ জন্য প্রতি চার রাকায়াত পর পর কিছু সময় বিশ্রাম নিতে হয় এবং দোয়া কালাম পাঠ করতে হয়। রমজানুল মুবারকের পরিপূর্ণ রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভ করতে হলে রোজার পাশাপাশি তারাবির নামাজ আদায় করতে হবে।

রোজাদার সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রেখে ক্লান্ত হয়ে যান। তারপর রাতে এশা ও তারাবি নামাজ দীর্ঘ সময় ধরে পড়তে হয়। ফলে রোজাদার খুবই ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন, যেখানে পরিশ্রম ও কষ্ট বেশি, সেখানে ক্ষতিপূরণমূলক আরামের ব্যবস্থাও আছে।

অবশ্য সিয়াম সাধনার মূল লক্ষ্য আরাম-আয়েশ প্রবণতা সংযতকরণ। এ জন্য দীর্ঘ নামাজের কঠোর পরিশ্রম লাঘব করার জন্য প্রতি দুই রাকাত বিশেষ করে প্রতি চার রাকাত পর একটু বসে বিশ্রাম করতে হয় এবং দোয়া ও তাসবিহ পাঠ করতে হয়; তাই এ নামাজকে ‘সালাতুত তারাবিহ’ বা ‘তারাবি নামাজ’ বলা হয়।

রমজান মাসের নির্দিষ্ট নামাজ হচ্ছে সালাতুত তারাবিহ। তারাবির নামাজ হলো রোজার গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তারাবি নামাজ পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কিরামকেও পড়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। তারাবি নামাজ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এ নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা বেশি সওয়াবের কাজ।

রোজার প্রতি উৎসাহিত করতে গিয়ে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানসহকারে ও সওয়াব লাভের আশায় রমজানের রোজা রাখে তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ বুখারি।

রোজার পাশাপাশি তারাবির প্রতি উৎসাহিত করে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, ‘যে রমজানের রাতে ইমানের সঙ্গে নেকির আশায় দন্ডায়মান হয় তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ মুসলিম।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের এক রাতে মসজিদে তারাবি পড়লেন। সাহাবিরাও তার সঙ্গে জামাতে শামিল হলেন। দ্বিতীয় রাতে মুকতাদির সংখ্যা আরও বেড়ে গেল। এরপর তৃতীয় বা চতুর্থ রাতে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারাবির জন্য মসজিদে এলেন না।

ফজরের পর সবাইকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি তোমাদের আগ্রহ ও উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি, কিন্তু এ নামাজ তোমাদের ওপর ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আমি তোমাদের কাছে আসিনি। মুসলিম।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবি নামাজ আদায় করতেন এবং এরপর ৩ রাকাত বিতরের নামাজও আদায় করতেন।’ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা।

আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ রাকাত তারাবি নামাজের ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল হজরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতের সময়। এর ওপর খোলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবা, তাবেইন, তাবে-তাবেইন, সালফে সালেহিন সবাই ঐকমত্যে আমল করেছেন এবং চার মাজহাবের ইমামরাও এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

হজরত সাইব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) বলেন, ‘খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে রমজানে মুসলমানরা ২০ রাকাত তারাবি নামাজ পড়তেন।’ বায়হাকি। ইমাম নববী (রহ.) এ বর্ণনাকে সহি বলে আখ্যায়িত করেছেন। আল খুলাসাতুল আহকাম।

ইয়াজিদ ইবনে রুমান বলেছেন, ‘খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে মুসলমানরা রমজানের প্রতি রাতে ২০ রাকাত তারাবি ও ৩ রাকাত বিতর নামাজ পড়তেন।’ মুয়াত্তা মালিক।

হজরত আবদুল আজিজ বিন রাফি বলেন, ‘হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) মদিনায় রমজানে ২০ রাকাত তারাবি নামাজের জামাতে ইমামতি করতেন।’ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা।

ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) এ সম্পর্কে বলেন, ‘হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) রমজানে সাহাবায়ে কিরামের জামাতে ২০ রাকাত তারাবি ও ৩ রাকাত বিতরের নামাজে ইমামতি করতেন।’ মজমুয়ায়ে ফাতাওয়া।

হজরত ওমর (রা.), হজরত উসমান (রা.) ও হজরত আলী (রা.)-এর শাসনামলে ২০ রাকাত তারাবিই পড়া হতো। তাদের নিরবচ্ছিন্ন আমল ও ইজমার আলোকেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০ রাকাত তারাবি নামাজ। এ আমলই পুরো পৃথিবীতে এখনো চালু রয়েছে।

তারাবি নামাজের নিয়ত
نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة التراويح سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر.
(উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা, রকাআতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তা’আলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার। )

অর্থ: আমি ক্বিবলামুখি হয়ে দু’রাকাআত তারাবিহ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামাযের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।

তারাবি নামাজের চার রাকাত পরপর দোয়া
سبحان ذى الملك والملكوت سبحان ذى العزة والعظمة والهيبة والقدرة والكبرياء والجبروت . سبحان الملك الحى الذى لاينام ولا يموت ابدا ابدا سبوح قدوس ربنا ورب الملئكة والروح.
(উচ্চারণ: সুব্হানাযিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি সুবহানাযিল ইযযাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারূত। সুব্হানাল মালিকিল হায়্যিল্লাযি লা-ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা। ) সুব্বুহুন কুদ্দুছুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।

আমারসংবাদ/এআই