শুক্রবার ২৯ মে ২০২০

১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ

এপ্রিল ২৪,২০২০, ০১:৪৫

এপ্রিল ২৪,২০২০, ০১:৪৫

‘আহলান সাহলান ইয়া রামাদান’

যে ৮ শ্রেণির মানুষের ওপর রোজা ফরজ

রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আবারও আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে পবিত্র মাস রমজান। এ মাস মুমিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। কারণ, অন্যান্য মাসে বান্দার আমলের যেই ত্রুটিবিচ্যুতি হয়ে গেছে, তা পুষিয়ে নেওয়ার সময় এই রমজান।

তাছাড়া, এমাসে আল্লাহ তায়ালার রহমত বর্ষণ হতে থাকে অনবরত। সারাদিন অনাহারে থেকে সিয়াম পালন আর রাতে দীর্ঘক্ষণ নামাজে দাঁড়িয়ে প্রভুর কাছে নিজের নেক আরজিগুলো উপস্থাপনের সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। স্নিগ্ধ এক আবেশে মনটা তখন পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়।

এ মাসে বান্দা যেমন আল্লাহ তায়ালার নিকটবর্তী হয়, তেমন আল্লাহ তায়ালাও বান্দার খুব কাছে চলে আসেন। তার সমস্ত আবদার-আবেদন কবুল করতে থাকেন।

এই রমজান বা রোজা সমস্ত নবীর উম্মতকেই দান করা হয়েছিল। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম বা রোজা ফরজ করা হয়েছে; যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যেন তোমরা তাকওয়া (আত্মশুদ্ধি) অর্জন করতে পার।( সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩ )

হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, শাবান মাসের শেষ দিন রাসুল (সা.) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দানকালে বলেন, ‘হে লোক সকল , তোমাদের কাছে একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং বরকতপূর্ণ মাস উপস্থিত। এতে রয়েছে, এমন এক রাত যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

এ মাসে আল্লাহ তায়ালা সিয়াম (রোজা) ফরজ করেছেন এবং রাতে দীর্ঘ নামাজ আদায় করাকে তোমাদের জন্য পূণ্যের কাজ হিসেবে দিয়েছেন।

যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করলো, সে যেন অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায় করল। যে ব্যক্তি এ মাসে একটি নফল কাজ আদায় করলো, সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ কাজ আদায় করল।

এ মাস ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের বিনিময় হচ্ছে জান্নাত। এ মাস হচ্ছে সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। (মিশকাত)

সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা ( রা.) বলেছেন, রাসুল ( সা.) এরশাদ করেছেন , যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়।
( বুখারী, মুসলিম )

অপর হাদিসে এসেছে, হযরত সাহল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সা. এরশাদ করেছেন, বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে।

এর মধ্যে ১টি দরজার নাম রাইয়ান । রোজাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ( বুখারী, মুসলিম )

বিখ্যাত হাদিস বিশারদ সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেছেন, হুজুর ( সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

আসুন এবার জেনে নেই রমজানের রোজা কাদের ওপর ফরজ

আট শ্রেণির মানুষের ওপর রোজাকে ফরজ করা হয়েছে।

১. মুসলমান হওয়া। মুসলিম ব্যক্তির জন্য রোজা রাখা ফরজ। কোনো অমুসলিমের জন্য রোজা ফরজ নয়।

২. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। নাবালগের ওপর রোজা ফরজ নয়, অর্থাৎ ১২ বছর বয়সের কম বয়স হলে তার রোজা ফরজ হবে না।

৩. সুস্থ ব্যক্তি হওয়া। শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজা রাখার নিয়ম নেই। তবে সাধারণ অসুখ বিসুখ হলে যদি সে রোজা রাখার উপযোগী হয় তবে সে রোজা রাখতে পারবে।

৪. সুস্থ মস্তিস্কের অধিকারী হওয়া। পাগলের ওপর রোজা ফরজ নয়।

৫. স্বাধীন হওয়া। পরাধীন নয় এমন ব্যক্তি হওয়া।

৬. সজ্ঞান হওয়া। অর্থাৎ যিনি রোজা রাখবেন তিনি নিজ জ্ঞানে বা স্বেচ্ছায় আল্লাহর হুকুম পালন করছে, এই জ্ঞান তার থাকতে হবে।

৭. মুকিম হওয়া। অর্থাৎ স্থায়ীবাসিন্দা হওয়া। মুসাফিরের ওপর রোজা ফরজের ব্যাপারে একটু ভিন্নতা আছে।

৮. তাহীরা অর্থাৎ পবিত্রতা : হায়েজ-নেফাস মুক্ত হতে হবে।

তারাবির নামাজ রমজান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। মাহে রমজানে এশার নামাজের পর দুই দুই রাকাত করে বিশ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করা রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর আমল, যা বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

হাদিসে বর্ণিত আছে , ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব হাসিলের আশায় রমজানে কিয়ামুল লাইল (সালাতুত তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি: হাদিস ২০০৯) ।

এই জন্য আমরা ঘরে বা মসজিদে, যেখানেই সুযোগ হয় ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করব।

এছাড়াও রমজানে সেহরি খেয়ে রোজা রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও, এতে বরকত আছে ।’ (মুসলিম)

বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা, অপরকে ইফতার করানো, অধিক পরিমাণে জিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকা এবং সকল প্রকার গোনাহ থেকে বেঁচে থাকাও আমাদের জন্য জরুরি এবং অবশ্যকর্তব্য।

লেখক: তরুণ আলেম ও সংবাদকর্মী

আমারসংবাদ/এইউ/জেডআই