বুধবার ০১ এপ্রিল ২০২০

১৮ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ২৫,২০২০, ০৯:০৫

মার্চ ২৫,২০২০, ০৯:০৫

কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন খালেদা জিয়া: ফখরুল

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শে সদ্য কারামুক্ত দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আপাতত তার নিজ বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন।

বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় ‘ফিরোজা ভবনে’ সদ্য মুক্তি পাওয়া বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা ম্যাডামকে জানাতে এসেছি, আমরা ওনার মুক্তিতে অনেক খুশি হয়েছি। আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, উনি যেন এখান থেকে উঠে দাঁড়াতে পারেন। আবার রাজনীতিতে আসতে পারেন, সেই কথাগুলো বলেছি। ওনার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা ইতিমধ্যে ওনার বাসায় গিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। আপাতত কিছুদিনের জন্য ম্যাডামকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। ডাক্তাররা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। তার সঙ্গে যাতে কেউ কোনো দেখা করতে না পারি। এ সব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এ সময় আমরা তার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা করিনি। আমাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সবাই এখন ওনার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। শুকরিয়া আদায় করেছেন যে তিনি বাসায় ফিরেছেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসন সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান।

এছাড়া ছয় সদস্যের ডাক্তারদের একটা টিম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার বাসভবনে গেছেন। তারা হলেন, প্রফেসর ডাক্তার এফ এফ রহমান, প্রফেসর ডাক্তার রজিবুল ইসলাম, প্রফেসর ডাক্তার আব্দুল কদ্দুস, প্রফেসর ডাক্তার হাবিবুর রহমান, প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন ও প্রফেসর ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া।

প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়।

খালেদার জামিনের জন্য আইনজীবীরা গত দুই বছরে বহুবার আদালতে গেছেন, কিন্তু জামিন হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে মার্চের শুরুতে খালেদা জিয়ার সাময়িক মুক্তি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার খবর আসে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হলে খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে নেওয়া হয়। পরে হাইকোর্টে তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়।

খালেদা জিয়া কারাগারে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড কারাগারে গিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। এরপর ৭ এপ্রিল বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। ওইদিন কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন খালেদা জিয়া। ফের ফিরিয়ে নেওয়া হয় কারাগারে। এরপর ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করতে ও চিকিৎসা সেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুইদিন পর ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর ফের একই হাসপাতালে আনা হয় তাকে।

২০১৯ সালের ১ এপ্রিল পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় খালেদা জিয়াকে। তিনি সেখানে ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানান খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের চেয়ারম্যানের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার। তার পাশের ৬২২ নম্বর কেবিনটিতে কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলরা অবস্থান করছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বুধবার (২৫ মার্চ) সাংবাদিকদের বলেছেন, দুটি শর্তে ভাইয়ের জিম্মায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিচ্ছে সরকার।

এর আগে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিকালে তার বাসায় সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার ভাই-বোন ও বোনের স্বামী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাহী আদেশে তাদের পরিবারের স্বজনের মুক্তি কামনা করেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১-এর উপধারা ১ ধারা অনুযায়ী বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দণ্ড স্থগিত করে ৬ মাসের জন্য বেগম জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, মুক্ত থাকাকালীন খালেদা জিয়াকে নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। ওই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

আমারসংবাদ/জেআই