রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২০

১০ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

অক্টোবর ১৯,২০২০, ০২:৪৯

অক্টোবর ১৯,২০২০, ০২:৪৯

মহামারিকালেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে রেকর্ড অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত একটি দেশ। তবু বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতির মধ্যেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ধান, গম ও ভুট্টা উৎপাদনে ক্রমেই এগিয়ে চলছে।

সবজি উৎপাদনে তৃতীয় এবং চাল ও মাছ উৎপাদনে দেশ এখন গোটা বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষ শিখরে পৌঁছেছে। করোনা ভাইরাসের মহামারিকালেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে রেকর্ড গড়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, খাদ্যশস্য উৎপাদনে যখন দেশ বিশ্বে উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন বিষয়টি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বাস্তবতাকেই স্পষ্ট করে, যা আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার সফলতার এ ধারা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ জারি রাখা।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে মাত্র সাত কোটি মানুষের খাদ্য উৎপাদন করতেই দেশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। আমদানি করে দেশের খাদ্যশস্যের চাহিদা মেটাতে হয়েছে।

কিন্তু বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৮ কোটি হলেও দেশে উদ্বৃত্ত খাদ্যের মজুত রয়েছে। আমন, আউশ ও বোরো ধানের বাম্পার ফলনে বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে।

যদিও এ সময়ে আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। আমরা মনে করি, খাদ্যশস্য উৎপাদনের রেকর্ড এবং উৎপাদন ব্যবস্থার এ উন্নয়নের ধারা দেশকে সামগ্রিকভাবে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে, তবে এর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা জরুরি।

প্রসঙ্গত বলা দরকার, খাদ্যশস্য উৎপাদনের এ অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশেও খাদ্য দিবস পালিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বিকশিত হোন, শরীরের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন, আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ’।

বলা দরকার, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের ধানের উৎপাদন তিনগুণেরও বেশি, গম দ্বিগুণ, সবজি পাঁচগুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে দশগুণ। যেখানে দুই যুগ আগেও দেশের অর্ধেক এলাকায় একটি ও বাকি এলাকায় দুটি ফসল হতো।

সেখানে বর্তমানে দেশে বছরে গড়ে দুটি ফসল হচ্ছে। পরিশ্রমী কৃষক ও কৃষি বিজ্ঞানীদের যৌথ প্রয়াসেই এ সাফল্য। স্বাধীনতার পর দেশে প্রতি হেক্টর জমিতে দুই টন চাল উৎপাদিত হতো। এখন হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হচ্ছে চার টনেরও বেশি। ধান গড়ে হিসাব করলে তা ছয় টন।

আর এভাবেই প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ। আমরা মনে করি, এ অর্জনকে ধরে রাখতে সংশ্লিষ্টদের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবক্ষেণ সাপেক্ষে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কাজ করে যেতে হবে।

মনে রাখা দরকার, কেবল উৎপাদন বৃদ্ধিই নয়, হেক্টরপ্রতি ধান উৎপাদনের দিক থেকেও অধিকাংশ দেশকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল চাষের দিক থেকেও বাংলাদেশ এখন বিশ্বের জন্য উদাহরণ। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বের জন্য উদাহরণ হিসেবে প্রচার করছে।

এ ক্ষেত্রে এটা স্পষ্ট যে, এ সাফল্য সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তথ্য মতে, ধান বিশ্বে গড় উৎপাদনশীলতা প্রায় তিন টন, আর বাংলাদেশে তা ৪ দশমিক ১৫ টন।

তাছাড়া এক কোটি নয় লাখ টন আলু উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায়। সাড়ে ১০ লাখ টন আম উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বে নবম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তাছাড়া হেক্টরপ্রতি ভুট্টা উৎপাদনে বৈশ্বিক গড় ৫ দশমিক ১২ টন।

বাংলাদেশে এ হার ৬ দশমিক ৯৮ টন। খাদ্যশস্যে প্রতি হেক্টরে ১০ দশমিক ৩৪ টন উৎপাদন করে বাংলাদেশের উপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের পরে রয়েছে আর্জেন্টিনা, চীন ও ব্রাজিল। বাংলাদেশ এখন চাল, আলু, ভুট্টা, মাছ ও সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রপ্তানি করছে।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ- এ বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। ফলে অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে আর সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের স্বার্থরক্ষা করতে হবে।

এছাড়া যে কোনো সংকট সৃষ্টি হলে তা নিরসন করতে হবে। খাদ্যশস্য উৎপাদনে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি থাকবে এমনটি কাম্য।

আমারসংবাদ/এআই