সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০

১১ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

অক্টোবর ১৯,২০২০, ১২:৩৮

অক্টোবর ১৯,২০২০, ১২:৩৮

সেবার মান বৃদ্ধিতে কাজ করছেন ধর্মসচিব

দেশ স্বাধীনের পর প্রথম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশে ধর্মবিষয়ক কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে আজ ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন অসামপ্রদায়িক সমাজের রূপকল্প আর ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশের মাধ্যমে উদার ও সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির সর্বজনিন সমাজ প্রতিষ্ঠার অভিলক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

যে মন্ত্রণালয় গঠনের পর থেকেই পরিচালনা করে আসছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়, হজ অফিস ঢাকা, হজ অফিস জেদ্দা-মক্কা, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, খ্রিষ্টানধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং সরকারের ধর্মবিষয়ক সকল মনিটরিং ও সমন্বয় কার্যক্রম। যার নীতিনির্ধারকের ভূমিকায় রয়েছেন সচিব মো. নুরুল ইসলাম পিএইচডি।

যিনি তার সুদীর্ঘ চাকরিজীবনে সততা, সুনাম আর দক্ষতার সাথে যেমন মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন, তেমনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়েও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে নিজেকে বিকশিত করেছেন। সততা আর নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করা নুরুল ইসলামকেই সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব থেকে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করে।

দায়িত্ব গ্রহণ করেই মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত উদ্দেশ্য (ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণ, হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, ধর্মীয় উৎসব উদযাপন ও দুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা, অনুদান প্রদান এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন) বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তিনি।

এছাড়াও আবশ্যিক কৌশলগত উদ্দেশ্যের মধ্যে দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, সার্বিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধি এবং আর্থিক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন কাজের পরিচালনা করছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে।

এরই মধ্যে চলতি বছরের মার্চে দেশের সকল সেক্টরে হানা দেয় মহামারি করোনা ভাইরাস। যে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে মন্ত্রণালয়। আর অভিভাবকের গুরু দায়িত্ব পড়ে ধর্মসচিব নুরুল ইসলামের ওপর। তিনি একাই অভিভাবকের ভূমিকায় উত্তীর্ণ হয়ে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ সামলেও নিচ্ছিলেন। কিন্তু একপর্যায়ে তার দেহেও করোনার সংক্রমণ হয়। তার থেকে সংক্রমিত হয়েছিলেন স্ত্রী ও এক সন্তানও।

পরে সুস্থ হয়ে ফের নূরুল ইসলাম ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শুরু করেন। সুস্থ হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি নারায়ণগঞ্জে মসজিদে এসি বিস্ফোরণে হতাহত মুসল্লিদের পাশাপাশি সার্বিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন এবং পূর্ণোদ্যমে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরেন।

বর্তমানে তিনি অভিভাবকবিহীন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমকে স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায়— এমনটাই বলছেন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা। নবম বিসিএস ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

চাকরি জীবনের শুরুতে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শ্রী শতীষ চন্দ্র রায়ের সহকারী একান্ত সচিব এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর এবং রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলাও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও গাজীপুর জেলার জেলা প্রশাসক এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও তিন বছর ছয় মাস সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নুরুল ইসলাম পিএইচডি বর্তমানে ধর্ম সচিবের পাশাপাশি বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও ঢাকাস্থ রংপুর বিভাগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথেও জড়িত।

আমারসংবাদ/এসটিএম