রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২০

১০ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট সংস্করণ

অক্টোবর ১৯,২০২০, ১২:৩৩

অক্টোবর ১৯,২০২০, ১২:৩৩

ঝুঁকি নেয়ার কারণেই করোনা আক্রান্ত তথ্যমন্ত্রী

নিজ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিকে তাচ্ছিল্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি। জীবন ঝুঁকি জেনেও নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিনই মন্ত্রণালয় এবং দলীয় দায়িত্ব পালনের জনসাধারণের সঙ্গে অবাধ মিশেছেন।

পরিবার ও সহকর্মীদের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দল ও সরকারে সমানতালে কাজ করেছেন। করোনা সংকটেও মন্ত্রণালয়ে তার সাক্ষাতে এসে কেউ ফিরে যাননি। মূলত কাজ করতে গিয়ে এমন ঝুঁকি নেয়ার কারণেই তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা মন্ত্রীর করোনা আক্রান্তের কারণ হিসেবে এমনটাই জানালেন। তারা জানান, করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর অদ্যাবধি ঘরবন্দি থাকেননি তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি। দল ও সরকারের সমান তালে কাজ করছেন। কখনো দলের নেতাকর্মী, কখনো মন্ত্রণালয়ের কাজে আবার কখনো নিজ নির্বাচনি এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। সর্বশেষ গত ১৫ দিনের প্রতিটি দিনই মন্ত্রী গণমাধ্যম কর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতির দিকে। তিনি নিজে সুস্থতা বোধ করেছেন বলে ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন।

গতকাল রোববার তথ্যমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে স্কয়ার হাসপাতালে যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম। এ সময় স্কয়ার হাসপাতালের করোনা ইউনিট প্রধান ডা. রায়হান রাব্বানীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন। তারাও তথ্য মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা উন্নতি ঘটেছে বলে জানান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ড. হাছান মাহমুদ একজন কর্মপাগল মানুষ। দলীয় নেতাকর্মীরা যেনো সব। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে অদ্যাবধি কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ়তায় প্রতিটি সেক্টরে সফলতার ছাপ রেখেছেন।

যার ফলে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতা হিসেবে তিনি স্বীকৃত। এক-এগারো সরকারের সময় শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

ওই সময়ে শেখ হাসিনার সুনজরে আসেন তিনি। এরপর দল ক্ষমতায় আসার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্বে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। যার কারণে দল গুরুত্বপূর্ণ পদ ও সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্য হন ড. হাছান মাহমুদ। দুটি ক্ষেত্রে দায়িত্বে পালনে দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।

যার কারণে তৃতীয়বারের মতো মন্ত্রিপরিষদ সদস্য এবং দলীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ পদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন করে পুরস্কৃত করেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে দুটি পদেই সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। করোনা সংকটে তিনি একদিনও ঘরে বসে থাকেননি।

প্রতিনিয়ত মন্ত্রণালয়ের কাজে সক্রিয় ছিলেন। করোনাকালীন সময়ে অন্য পেশার মতো গণমাধ্যমকর্মীরাও অসহায় হয়ে পড়েন। অনেকেই বেতন-ভাতা এবং চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তার পড়েন। ঠিক সে সময়ে অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বকেয়া বিজ্ঞাপন বিল প্রদানের উদ্যোগ নেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সাংবাদিকদের নগদ প্রণোদনার ব্যবস্থা করেন। মন্ত্রী হলেও দলীয় কাজে একটু অমনোযোগী নন ড. হাছান মাহমুদ। করোনা পরিস্থিতি দলের প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে ছিলেন অগ্রভাগে।

 মাঠপর্যায়েরর নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখছেন নিয়মিত। ভার্চুয়াল মাধ্যম ব্যবহার করে দলের সভা অংশগ্রহণ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। নিজ নির্বাচনি এলাকায় সমানতালে কাজ করছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের এ সংসদ সদস্য।

নির্বাচনি এলাকার মানুষকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণমুক্ত রাখতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকারি ত্রাণ সহায়তা সুষম বণ্টনে নিয়েছেন কার্যকর পদক্ষেপ। ব্যক্তিগতভাবে করোনার হতে রক্ষা পেতে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছেন।

আমারসংবাদ/এআই