সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০

১১ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

সেপ্টেম্বর ২৯,২০২০, ০১:১৫

সেপ্টেম্বর ২৯,২০২০, ০১:১৫

নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে: সামাজিক দুর্বৃত্তদের প্রতিরোধ করুন

দেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। সমাজ যেনো ক্রমেই বর্বরতার চরমে চলে যাচ্ছে। কিছু প্রতিবাদ হলেও ব্যাপক অর্থে গণপ্রতিরোধ গড়ে উঠছে না। আমাদের সমাজের পরিচয় যেনো পাল্টে যাচ্ছে।

পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সহনশীল সমাজ থেকে নৈতিকতা যেনো নির্বাসিতপ্রায়। মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছে। প্রায় প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ধর্ষকরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এরই মধ্যে বিবেককে নাড়া দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে। সেখানে এক তরুণী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অভিযুক্ত ধর্ষকরা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী বলে খবরে প্রকাশ।

এ ঘটনার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত শুক্রবার রাতে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার পর গত শনিবার শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ছাড়তে বলা হয়। করোনাকালে যখন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাস বন্ধ, তখন সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাস খোলা থাকে কী করে?

প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, ছাত্রাবাসে বেশ কিছু ছাত্র অবস্থান করতো। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দখলে ছিলো ছাত্রাবাসের অনেক কক্ষ। ছাত্রাবাসে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ কক্ষও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দখল করে রেখেছিলেন।

কিন্তু কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করে। তাদের কি কোনো দায় নেই? এদিকে গত বুধবার গভীর রাতে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের এক গ্রামে পাহাড়ির বাড়িতে ডাকাতিকালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় ওই বাড়ির কর্ত্রীর একমাত্র মেয়ে।

এ ঘটনার পর খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে সাতক্ষীরা থেকে রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একজন রোগীকে রক্ত জোগাড় করে দেয়ার নাম করে তার স্ত্রীকে মিরপুরে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে।
 
মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপকমিটির কাছে সংরক্ষিত দেশের ১৩ জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিচালিত এক জরিপ থেকে চলতি মাসের শুরুতে জানা যায়, করোনার মধ্যেও গত আগস্ট মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১০৪ জন নারী ও শিশু। আর গত এক মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ২৪৯ জন নারী ও কন্যাশিশু।

জরিপে দেখা যায়, গত মাসে ধর্ষণের শিকার ১০৪ জনের মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন যার মধ্যে শিশু রয়েছে ১৪ জন। ৭২ জনের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হওয়াদের মধ্যে ৪৯ জন শিশুও রয়েছে। তিনজন শিশুসহ ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৫০ জনকে।

শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন একজন। তিনজন শিশুসহ ছয়জন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার কোনো কোনোটি সমাজ ও মানুষের বিবেককে আলোড়িত করে। আলোড়ন থাকতে থাকতে এই বর্বর ধর্ষকদের শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।

আমরা আশা করি, ধর্ষকদের দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক দণ্ড দেয়া হবে। ধর্ষকদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় সামাজিক দুর্বৃত্তদের দমন করা কঠিন হবে না।

আমারসংবাদ/এসটিএম