শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০

২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল ০৮,২০২০, ০২:১৫

এপ্রিল ০৮,২০২০, ০২:১৫

করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা

বিশেষ স্বাস্থ্যবিমার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

  • চিকিৎসায় অবহেলাকারী চিকিৎসকদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি
  • এপ্রিলে আসতে পারে বড় ধাক্কা, সতর্ক থাকার আহ্বান
  • ত্রাণ দিতে দিনমজুর ও মধ্যবিত্তদের তালিকা করার নির্দেশ

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবিমার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একইসঙ্গে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় অবহেলাকারী চিকিৎসদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, সশস্ত্র বাহিনীর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বিশেষ ইনসিওরেন্সের ব্যবস্থা করে দেবো।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৫টি জেলার স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্রবাহিনীর প্রতিনিধি এবং জনপ্রতিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মত বিনিময়কালে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদমর্যাদা অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার হবে এই ইনসিওরেন্স। পাশাপাশি কর্তব্য পালনকালে কেউ কোভিট-১৯ আক্রান্ত হলে তার সার্বিক চিকিৎসা সরকার নিশ্চিত করবে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ মৃত্যুবরণ করলে এই ইনসিওরেন্সটি ৫ গুণ বৃদ্ধি করে দেয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য সচিবের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই করোনার বিরুদ্ধে আমরা যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি সেই যুদ্ধের সম্মুখভাগে থেকেই আপনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও দায়িত্ব পালন করেছেন তাই এটি আপনাদের পুরস্কার।

তিনি বলেন, যারা করোনার শুরুর সময় সেই জানুয়ারি থেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিশেষ করে মার্চ মাসে দায়িত্ব পালন করেছেন কেবল তাদের জন্যই এ বিমা সুবিধা থাকবে। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে এ করোনা আমরা মোকাবিলা করেছি বলেই পরিস্থিতি আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি এবং অন্যান্য দেশের মতো এটি এত ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হতে পারেনি।

পুরস্কারের পাশাপাশি অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কঠোর হুঁশিয়ার উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন না, ভবিষ্যতে তারা চাকরি করতে পাবেন কি না, তা ভাবা হবে। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে চিকিৎসক, নার্স নিয়ে আসার কথাও বলেন তিনি।

দায়িত্বে অবহেলাকারীরা বিমা সুবিধা পাবেন না জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, মনে রাখতে হবে এটা তাদের জন্যই করব যারা এ করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে কাজ করছেন।

অর্থাৎ জানুয়ারি মাস থেকে শুরু। মূলত মার্চ মাস থেকে এটা ব্যাপকভাবে দেখা দেয়। এই মার্চ মাসে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন এ প্রণোদনাটুকু তাদের জন্য।

আর যারা কাজ করেন নাই, যারা নিজেদের সুরক্ষা করার জন্য পালিয়েছেন, যেখানে রোগীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরে চিকিৎসা পায়নি, অন্য সাধারণ রোগীরাও চিকিৎসা পায়নি। তাদের জন্য এ প্রণোদনা নয়। তারা এটা পাবেন না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি মনে করেন, আমাদের শর্ত দেন যে, আমাদের সেটা দিলে আমরা আসব, আমি বলব যে সেটা দিতে হলে আগামীতে কীভাবে কাজ করেন, এই দুঃসময় যে যাবে তা আমরা অবজারভেশনে রাখব।

অন্তত এই তিন মাস তাদের কাজ দেখব। সেখানে দেখব কেউ সত্যিকারভাবে মানুষের সেবা দেন কি না। তারপর তাদের কথা আমরা চিন্তা করব। কিন্তু শর্ত দিয়ে কাউকে আমি কাজে আনব না।

সরকার প্রধান বলেন, যাদের মধ্যে এই মানবতাবোধটুকু নেই, তাদের জন্য প্রণোদনা দিয়ে আনার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না।

যদি বাংলাদেশে এমন দুর্দিন আসে, প্রয়োজনে আমরা বাইরে থেকে ডাক্তার নিয়ে আসব, বাইরে থেকে নার্স নিয়ে আসব। কিন্তু এই ধরনের দুর্বল মানসিকতা দিয়ে আমাদের কাজ হবে না, এটা হল বাস্তবতা।

কাজ না করা চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তারা এখন যতই মিটিং করুক, শর্ত দিক, ওই শর্ত দিয়ে আমার কিছু আসে না। বরং ভবিষ্যতে তারা ডাক্তারি করতে পারবে কি না সেটাই চিন্তা করতে হবে। ডাক্তার আমাদের প্রয়োজন আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই মানসিকতা থাকবে কেন?

মানবতাবোধ হারাবে কেন?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন রোগী এলে তার চিকিৎসা করতে হবে। তার জন্য নিজেকে সুরক্ষিত করা যায়। অ্যাপ্রোন পরে নেন, মুখে মাস্ক লাগান, হাতে গ্লাভস দেন অথবা স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন, হাত ধোন, রোগী দেখেন। রোগী কেন ফেরত যাবে? আর একজন রোগী দৌড়াদৌড়ি করে, ঘুরে সেই রোগী কেন মারা যাবে?

এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরেও ভর্তি হতে না পেরে বাড়িতে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ টানেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্নাতক শেষ বর্ষে (২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) পড়ুয়া সুমন চাকমা নামের ওই শিক্ষার্থী ছিলেন ক্যান্সারের রোগী।

কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা মেডিকেল, মুগদা হাসপাতাল এবং আইইডিসিআরে গিয়ে কোনো চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। পরে সোমবার সকালে খাগড়াছড়ির ইটছড়িতে নিজের বাড়িতে মারা যান সুমন চাকমা ।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র কেন মারা যাবে? এই রোগী যখন যেখানে যেখানে গিয়েছে, সেখানে কোন কোন ডাক্তারের দায়িত্ব ছিলো, আমি তাদের নামটাও জানতে চাই। তাদের ডাক্তারি করবার মতো বা চাকরি করবার মতো সক্ষমতা নাই। তাদের বের করে দেয়া উচিত চাকরি থেকে, এটা আমি মনে করি।

এপ্রিলে করোনা বড় আঘাত হানতে পারে— এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস যেভাবে ছড়িয়েছে, সে অভিজ্ঞতা থেকে চলতি এপ্রিল মাসটি বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য দেশ থেকে আমরা যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছি, তাতে আমাদের দেশেও এপ্রিল মাসে বড় একটি ধাক্কা আসতে পারে। এরকমই আলামত পাওয়া যাচ্ছে। এপ্রিল মাসটি নিয়ে খুব চিন্তাই আছি। কাজেই আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়নের গতি যখন অব্যাহত, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে যখন কাজ করে যাচ্ছি, ঠিক তখনই এলো করোনা ভাইরাস। সারা বিশ্বে এটি প্রলয় সৃষ্টি করেছে। সবকিছু স্থবির হয়েছে পড়েছে

এর প্রভাব বাংলাদেশেও এসে পড়েছে। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ সমগ্র বিশ্বের প্রায় ২০২টি দেশ আজ ভুক্তভোগী। প্রতিনিয়ত এ সংখ্যা বাড়ছে। সেই অবস্থায় আমরা শুরু থেকে চেষ্টা করেছি যেন এর প্রভাবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে সারা বিশ্বে যেভাবে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, সেটা অনেকটা অঙ্কের মতো।

এপ্রিল মাসকে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের এমনভাবে চলতে হবে যেন এর প্রভাবে আমাদের দেশের মানুষের ক্ষতি কম হয়।

তবে এটা ঠিক যে একটি স্থবিরতা এসে গেছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক— সব ক্ষেত্রেই এসেছে। এর ফলে অর্থনৈতিক যে গতিশীলতা আমরা তৈরি করেছিলাম, সেটাও কিন্তু থেমে গেছে। সেটা কেবল আমাদের দেশে না, সারা বিশ্বেই ঘটেছে।

সরকারপ্রধান বলেন, এপ্রিল মাসটা নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। তবে ইনশাল্লাহ, এ অবস্থাও আমরা মোকাবিলা করতে পারব। আমরা এরকম দুর্যোগ আগেও মোকাবিলা করেছি, আমরা এ ?দুর্যোগও মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো।

দিনমজুর ও মধ্যবিত্তদের তালিকা করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া দৈনন্দিন কর্মের মানুষ ও মধ্যবিত্তদের তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এর বাইরে যারা খেটে খেত, এ করোনার কারণে তাদের কাজ নেই। আবার অনেকে আছেন মধ্যবিত্ত। তারা অনেকে হাত পাতবে না, সাহায্য চাইতে আসবে না, মুখ বুজে কষ্ট সহ্য করবে।

এই শ্রেণির লোকের সঠিক তালিকা করতে হবে। কেউ যেন বাদ না যায়। সত্যিই যাদের অভাব রয়েছে তাদের তালিকা যেন হয়, তাদের কাছে যেন খাবারটা পৌঁছায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কেও কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, তালিকা করে রেশন কার্ড করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। রেশন কার্ড থাকলে সুবিধা হবে। এসময় প্রধানমন্ত্রী চলতি মাসে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের বড় ধাক্কা আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এই ভাইরাসটির প্রসারিত হওয়ার বিষয়টি অংকের মতো। এপ্রিলে আমাদের দেশে এর ধাক্কা ব্যাপকভাবে আসবে। এ রকমই আলামত পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের জন্য দুঃসময় আসছে। সব জায়গা থেকে এ ধরনের খরব পাচ্ছি। এ ধরনের কিছু প্রতিবেদনও আমরা দেখতে পাচ্ছি।

সেই অবস্থায় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কেউ একটু অসুস্থতা দেখতে পেলে চিকিৎসা করাবেন। কেউ লুকাবেন না। লুকাতে গেলে নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অন্যদের ক্ষতি করবেন।

তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি সেজন্য খাদ্য উৎপাদন করতে হবে এবং প্রস্তুত থাকতে হবে।

এসময় প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এই রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে যেসব সরকারি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, সরকারি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী যারা কোভিড-১৯ সংক্রমণের শুরু থেকে চিকিৎসাসেবা দিতে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন, তাদের তালিকা করার জন্য এরই মধ্যে নির্দেশ দিয়েছি।

যারা এ ধরনের সাহসী স্বাস্থ্যকর্মী, তাদের উৎসাহ দেয়া প্রয়োজন। উৎসাহের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আমি বিশেষ সম্মানিও দিতে চাই। সে জন্য তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। তালিকা তৈরির কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে যদি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন তাহলে পদবি অনুযায়ী তাদের ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা দেয়া হবে এবং আল্লাহ না করুক কেউ মারা গেলে তার ৫ গুণ অর্থ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেয়ার কথাও জানান তিনি।

আরেকটি বিষয় দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী রোগাক্রান্ত, হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে সে চিকিৎসা পায়নি। এটি খুবই কষ্টকর। দুঃখজনক। কোথায় কোথায় গিয়ে ওই ছাত্র চিকিৎসা পাননি এবং সেখানে কোনো চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেননি আমি সেটা জানতে চাই। এই সময় যারা মানবকিতা হারায় আমি মনে করি তাদের এই পেশায় থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের বের করে দেয়া উচিত বলে মনে করি।

তিনি বলেন, যারা এই সময়ে দায়িত্ব পালন করছেন না তারা ভবিষ্যতে ডাক্তারি করতে পারবেন কি না সেটাও দেখা হবে।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে যাওয়ার সংখ্যা বেশি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা একদিক থেকে ভালো খবর। তবে প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাক, এটা চাই না। আমরা চাই দ্রুত এটি নিয়ন্ত্রণ হোক। এর জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এখন বিশ্বব্যাপী এই ঘটনা ঘটেছে, উন্নত দেশও করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। বাঙালিরাও অনেক জায়গায় মৃত্যুবরণ করছে। যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, আমি তাদের সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৪ জন, মৃতের সংখ্যা ১৭। তবে যারা মারা গেছেন তারা বেশিরভাগই বয়স্ক, শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। তাদের অন্যান্য জটিলতা ছিলো বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ