বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল ০৬,২০২০, ০৫:২৬

এপ্রিল ০৬,২০২০, ০৫:২৬

ডেঙ্গু ও ফ্লুর শঙ্কাও প্রবল চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করুন

করোনা ভাইরাস বা কভিড-১৯ মহামারি আকারে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে এই সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশও করোনার আক্রমণ থেকে মুক্ত নয়।

এরই মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮-এ পৌঁছেছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। এ অবস্থায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘরের বাইরে না যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু করোনা প্রতিরোধের এই ব্যাপক আয়োজনের মধ্যে অন্য রোগ ব্যবস্থাপনায় আমরা কি প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিতে পারছি? সম্ভবত পারছি না।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, দেশে এরই মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২৭১ জন।

গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৩। গত বছরের ডেঙ্গুর ভয়াবহতা স্মরণ করে মানুষ এখনো ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে।

এরই মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশা এডিসের বংশবিস্তার দ্রুততর হবে এবং ডেঙ্গুর প্রকোপও অনেক বেড়ে যাবে।

তারা মনে করছেন, আমাদের সিটি কর্পোরেশনগুলোর মশক নিধন অভিযান সেই তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে।

শুধু ডেঙ্গু নয়— ইনফ্লুয়েঞ্জাজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রকোপও এ বছর অনেক বেশি। ২০১৮-১৯ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৪৪৬ এবং মারা গিয়েছিল সাতজন; গত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পাঁচ মাসে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৭৩৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের।

বিপজ্জনক অবস্থা হয়েছে এসব রোগীর চিকিৎসা নিয়ে। করোনা ভীতিতে অনেক বেসরকারি ক্লিনিক বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক ক্লিনিক জ্বরের রোগীদের চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করছে।

তার ওপর ইনফ্লুয়েঞ্জাজনিত নিউমোনিয়া রোগীর লক্ষণ-উপসর্গ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর অনুরূপ হওয়ায় অনেক চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা দিতে ভয় পান অথবা অপারগতা প্রকাশ করেন।

করোনা সন্দেহে আইসোলেশনে রাখা কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর দেখা গেছে, অনেক রোগীই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন। স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় বিনা চিকিৎসায়ই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে গৃহীত পদক্ষেপ যথার্থ এবং আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

অন্য রোগব্যাধির ব্যাপক প্রাদুর্ভাব যাতে না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে, রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু রোধে সিটি কর্পোরেশনগুলোকে মশক নিধনে আরও জোরদার অভিযান চালাতে হবে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ