বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

শাহ আলম নূর

প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল ০৪,২০২০, ০২:২০

এপ্রিল ০৪,২০২০, ০২:২০

বেড়েছে চাল-ডালের দাম সবজিতে জনমনে স্বস্তি

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে বেড়েছে চাল, ডাল, তেল ও চিনিসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যের দাম। এর মধ্যে আকাশ ছোঁয়া দাম বেড়েছে চাল ও ডালের। নতুন করে এসব পণ্যের দাম বাড়ায় বেকার নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। তবে স্বস্তি শুধু সবজির বাজারে।

গত এক সপ্তাহে কমেছে পেঁয়াজের দাম। রসুনের দামও কমতির দিকে। কারণ উচ্চবিত্ত ও সচ্ছলরা লুটপাট করার কায়দায় কয়েক মাসের বাজার একত্রে করায় ব্যবসায়ীরা সুযোগটি নিতে ভুল করেনি।

তারা চাল-ডাল-তেলের মূল্য ইচ্ছে মতো বাড়িয়ে নিয়েছে। এখন আর বাজারে ডিম, মুরগি, আলু ও সবজির তেমন চাহিদা নেই। ফলে দাম কমতে কিছুিটা সাহায্য করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন দুঃসময়ের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা চাল, ডালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সরকারের উচিত এদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় এখন প্রতি কেজি মোটা চাল ৩৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি বিভিন্ন চাল পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে।

আর সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায়। গত নভেম্বর থেকে দফায় দফায় চালের দাম বেড়েছে। নভেম্বরে মোটা চাল ৩২, মাঝারি ৩৫-৪০ ও সরু চাল ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়।

সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায় কারওয়ানবাজার, মিরপুর-১, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ও নিউমার্কেট কাঁচাবাজারে মোটা চালের দাম প্রতি কেজি ৩৮-৪০ টাকা। গত ৩ নভেম্বর তা ছিল ৩০-৩৫ টাকার মধ্যে। এ হিসাবে মোটা চালের সর্বনিম্ন দরও প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে।

কাওরানবাজরের এক ব্যবসায়ী বলেন, বোরো মৌসুমের নতুন চাল আসার আগে দাম কমার আশা কম। নতুন চাল আসবে আগামী মাসের শেষদিকে।

এদিকে বাজারে মোটা মসুর ডাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে। দুমাস আগে তা ছিলো ৬০ টাকার মধ্যে। মাঝারি দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, এটা ছিলো ৭০ টাকার মধ্যে। আর সরু দানার মসুর ডাল প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে ছিল, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়।

অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়ে মোটা মসুর ডালের দামও প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেল এখন প্রতি লিটার ৯৫ থেকে ৯৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জানুয়ারিতে তা ৮৫ টাকার মধ্যে ছিল। সয়াবিন তেলের ছোট বোতলের দামও বাড়তির দিকি।

মিরপুরের ব্যবসায়ী জহিরুল বলেন, ‘পাইকারিতে ডালের দাম বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে কমেছে সরবরাহ। বাড়তি দামে কেনার কারণে আমরাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

চাল-ডালের দামের বিষয়ে কল্যাণপুরের বাসিন্দা আকলিমা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, খাদ্যপণ্যের ঘাটতি নেই। কিন্তু বাজারে তো একের পর এক পণ্যের দাম বেড়েই যাচ্ছে। আগে চালের দাম বাড়ল।

আর এখন নীরবে ডালের দাম বাড়ছে। এভাবে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের অনেক কষ্ট হয়। সরকারের উচিত এই মুহূর্তে যারা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া।

রিকশাচালক মিলন বলেন, এখন রিকশা নিয়ে রাস্তায় নামলেও আয় তেমন হয় না। যা ভাড়া মারি তার প্রায় সবই গ্যারেজে জমা দিতে হয়। অল্প কিছু টাকা হাতে থাকে। এই চাল, ডালের যে দাম এই টাকা দিয়ে তিন বেলা কিনে খাওয়া সম্ভব না। করোনা ভাইরাসের কারণে আমরা খুব কষ্টে আছি। এসময় চাল, ডালের দাম কম থাকলে পরিবার নিয়ে দুমুঠো খেতে পারতাম।

এদিকে চাল, ডালের দামে অস্বস্তি থাকলেও সবজির দাম নতুন করে বাড়েনি। তবে বাজারে নতুন আসা সজনের ডাটা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে। অবশ্য এই সবজিটি বাদে বাকিগুলো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। গতকাল বাজারে করলা ৪০-৫০, বরবটি ৪০-৫০, শসা ২০-৩০, পেঁপে ৩০-৪০, পাকা টমেটো ২০-৪০, শিম ২০-৪০, গাজর ২০-৩০, মুলা ১৫-২০, বেগুন ২০-৪০, পটল ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

তবে কিছুটা দাম কমেছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের। ১৫-২০ টাকা পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। অবশ্য রসুন ও আদার দামে এখনো চড়া।

আমদানি করা রসুন ১৭০-১৮০ এবং দেশি রসুন ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকা। সবজির পাশাপাশি কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে। ১২০-এ উঠে যাওয়া ডিমের ডজন এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। আর ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়।

তবে খামারে ডিম ও মুরগির দাম অনেক কম। মিরপুর-৬ ব্যবসায়ী কামাল বলেন, সবজির গাড়ি এখন অনেক কম আসছে। তারপরও বাজারে সবজির ঘাটতি নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সবজির দাম এখন আরও অনেক কম হতো।

ক্ষেতে অনেক চাষির সবজি নষ্ট হচ্ছে। দাম না পাওয়ায় কেউ কেউ সবজি তুলছেন না। মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০-৫০০ টাকায়। নলা (ছোট রুই) মাছ ১৬০-১৮০ টাকা কেজি।

তেলাপিয়া ১৩০-১৭০, পাঙাশ ১৪০-১৮০, শিং ৩০০-৪৫০, শোল ৪০০-৭৫০, পাবদা ৪৫০-৬০০, বোয়াল ৫০০-৮০০, টেংরা ৪৫০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। করোনা আতঙ্কের মধ্যেও মাছের দামে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।

আমারসংবাদ/এআই