মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল ২০২০

২৪ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

নুর মোহাম্মদ মিঠু

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ২৫,২০২০, ০৯:১০

মার্চ ২৫,২০২০, ০৯:১০

করোনা মোকাবিলায় কাজ করছে পুলিশ

  • স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সার্বক্ষণিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ পুলিশ
  • আতঙ্কের মধ্যেও মামলা, তদন্ত, প্রোটোকল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ
  • সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছে পুলিশের সব ইউনিট
  • দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার ভিজিট করছে পুলিশ
  • পুলিশ লাইন্স ও অফিসগুলোতে সিঙ্গেল এন্ট্রি সিস্টেম (অ্যাকসেস কন্ট্রোল) চালু

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লড়ছে পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশে এই ভাইরাস এখনো পর্যন্ত মহামারি আকার ধারণ না করলেও ভীতিতে রয়েছে পুরো জাতি। সংকটময় এ মুহূর্তে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি জরুরি সেটি হলো জনসমাগম এড়িয়ে চলা।

যতটা সম্ভব জনসমাগম না করাই উত্তম। অনেকটা হচ্ছেও তাই, পুরো দেশই প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যাও বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা করা হচ্ছে লকডাউন। শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, জনজীবনে নেমে আসছে স্থবিরতা। বহির্বিশ্বেও একই অবস্থা।

বাংলাদেশে এ ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত নানা প্রস্তুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।

দেশে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তাদের চাহিদামতো সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।

তার মধ্যে বিদেশফেরত রোগীদের ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে রোগী সনাক্তকরণ, নির্দেশিত ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন কিনা তা নিশ্চিতকরণ, দ্রব্যমূল্যের মজুদদারি বন্ধ করা, গুজবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদিসহ নানা বিষয়ে পুলিশ নিষ্ঠার সাথে কাজ করছে।

পাশাপাশি পুলিশকে মামলা, তদন্ত, প্রোটোকল ও স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নিয়মিত কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, শুরু থেকেই সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ।

মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের নিরাপদ থাকতে করণীয় বিশেষ করে সচেতনতার বিষয়ে কাজ করছে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও। সরকারের প্রতিটি নির্দেশনা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে তা মানতে আহ্বান জানাচ্ছে পুলিশ।

এজন্য, আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে ব্যবহূত পুলিশের গাড়িগুলোতে লাগানো হচ্ছে সচেতনতামূলক পোস্টার। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি করা হয়েছে এবং হচ্ছে লিফলেট ও হ্যান্ডবিলসহ অন্যান্য প্রচারপত্র।

পুলিশের গাড়িতে মাইক লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছে পুলিশ সদস্যরা। মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে এবং সামাজিক ও ধর্মীয় গুনীজনের মাধ্যমেও সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হচ্ছে প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা মানতে।

পুলিশের প্রতিটি ইউনিট তার নিজস্ব পেজ ও পোর্টালেও প্রচার করছে প্রয়োজনীয় নানা বার্তা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে বিদেশফেরত ব্যক্তিরা হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন কিনা। না মানলে ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।

দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে এআইজি সোহেল রানা বলেন, দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি রোধে বাজার ভিজিট করছে পুলিশ। অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে ব্যবস্থা। মজুদদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কিন্তু, সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে বিভ্রান্ত হয়ে কেনাকাটা করতে থাকায় দ্রব্যের দাম বাড়ছে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা না পেলে এটি নিয়ন্ত্রণ পুলিশের একার পক্ষে সহজ নয় বলেও বলছেন তিনি।

এদিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হচ্ছে গুজব। গুজব রটিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো রোধ করতে বাংলাদেশ পুলিশের সার্বক্ষণিক মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

এআইজি সোহেল রানা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি বিশাল প্লাটফর্ম বিধায় এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ খুব সহজ নয়।

তবুও, গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি থেকে ধর্মীয় পরিচয়ধারী একজনকে তার সহযোগী ও অন্যান্য লোকজনসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চিকিৎসক পরিচয়ধারী একজনকে।

সারা দেশে পুলিশের সব ইউনিটে ইতোমধ্যেই কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশে করোনা প্রতিরোধী ইকুইপমেন্ট ও সামগ্রীর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পুলিশ সদস্যদের মাস্ক, স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডগ্লাভস সরবরাহ করছে পুলিশ সদর দপ্তর।

তাদের জন্য পর্যাপ্ত পিপিই সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পুলিশের সব ইউনিটে পুলিশ লাইন্স ও অফিসগুলোতে সিঙ্গেল এন্ট্রি সিস্টেম (অ্যাকসেস কন্ট্রোল) চালু করা হয়েছে। প্রবেশমুখে প্রত্যেকের হাত স্যানিটাইজ করা হচ্ছে।

জ্বর পরীক্ষা করা হচ্ছে। গাড়িগুলোতে জীবাণুনাশক লিকুইড ছিটানো হচ্ছে। দেশ ও সাধারণ মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে পুলিশের সব সদস্যের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ