মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল ২০২০

২৪ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ২১,২০২০, ০১:১৩

মার্চ ২১,২০২০, ০১:১৩

আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে রোগী

বিশ্বজুড়ে স্থবিরতা। করোনার প্রাদুর্ভাবে থমকে গেছে দুনিয়া। বিশ্বের অন্তত পৌনে দুইশরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। এতে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ইতালিসহ গোটা ইউরোপ হয়েছে মৃত্যুপুরী।

ভাইরাসে উৎপত্তিস্থল চীনের চেয়েও ইতালিতে করোনায় বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। চলতি ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজন করোনা রোগী চিহ্নিত করা হয়।

এরপর দিনে দিনে সেই সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। একজনের মৃত্যুও হয়েছে গত বুধবার। আর প্রথম আক্রান্ত তিনজন পাঁচদিনের চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ওই তিনজনের দুইজন ইতালিফেরত এবং একজন তাদের সংস্পর্শে আসা স্বজন ছিলেন। এসব বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, ইতালিফেরত যাত্রীদের মাধ্যমে রোগটি দেশে সংক্রমিত হয়েছে।

করোনা ভাইরাস এখন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হতে শুরু করেছে। গত দুইদিনে আক্রান্ত ছয়জন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত রোগী। তারা ইতালিফেরত করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হয়েছেন।

এভাবেই এখন ব্যক্তি থেকে সমাজে করোনা সংক্রমিত হচ্ছে। আশঙ্কাজনক এ তথ্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা গত দুই দিন ধরে অসুস্থ। তিনি এখন বিফ্রিং থেকে বিরত রয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, নতুন করে দেশে তিনজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তের মধ্যে দুইজন পুরুষ এবং একজন মহিলা। এর মাধ্যে একজকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২০ জনে। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, আক্রান্তরা স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন, তারা সবাই ইতালি প্রবাসীর সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাদের মাধ্যে একজনের সামপ্রতিক সময়ে ইতালি ভ্রমণের ইতিহাস আছে।

আক্রান্তদের মাঝে একজন পুরুষের বয়স সত্তোরোর্ধ্ব, বাকি দুজনের বয়স ত্রিশের কোটায়। আক্রান্ত বৃদ্ধের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তিনি বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন।

আক্রান্ত মহিলার মৃদু লক্ষণ রয়েছে। আইইডিসিআর জানায়, গতকাল বিকেল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরের সেবা গ্রহণ করেছেন ৫০ জন, মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৬ জনের।

এছাড়া করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৩০ জনকে। প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। গতকাল শুক্রবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেনের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, শুক্রবার থেকে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

বিশ্বজুড়ে মহামারি, ইউরোপ মৃত্যুপুরী : গেলো বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) দিনে দিনে বিশ্বের প্রায় ১৮২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এসব দেশে দুই লাখ ৫২ হাজার ৭৭৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন প্রায় ৮৯ হাজারেরও বেশি। আর এ ভাইরাসের প্রভাবে মারা গেছে ১০ হাজার ৪০৫ জনেরও বেশি মানুষ।

করোনা আতঙ্কে অনেক দেশই অবরুদ্ধ (লকডাউন) হয়ে পড়েছে। দোকান-পাট, ব্যবসায় বাণিজ্য, স্কুল, কলেজ সব বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত চীনে ৮০ হাজার ৯৬৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। অপরদিকে মারা গেছে তিন হাজার ২৪৮ জন।

নতুন করে মারা গেছে মাত্র তিনজন। এ ছাড়া সেখানে ৭১ হাজার ১৫০ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। অপরদিকে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় এখন সবার ওপরে আছে ইতালি।

গতকাল প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ইতালিতে করোনায় মৃত্যু এখন সবচেয়ে বেশি। তারা ছাড়িয়ে গেছে করোনার উৎস চীনকেও। এ নিয়ে ইউরোপের দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪০৫ জনে।

গত বুধবারই ইতালিতে একদিনে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭৫ জন কোভিড-১৯ রোগী। এখন পর্যন্ত এটাই যেকোনো দেশের জন্য একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। স্পেনে এ পর্যন্ত আক্রান্ত রোগী ১৯ হাজার ৯৮০ জন। সেখানে গতকাল নতুন করে মৃত্যুবরণ করেছে ১৭১ জন।

সেখানে এখন পর্যন্ত এক হাজার দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে। অপরদিকে ইরানে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ হাজার ৬৪৪ এবং মারা গেছে এক হাজার ৪৩৩ জন। জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ৬২৬ এবং মারা গেছে ৪৪ জন।

যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৬৬ এবং মারা গেছে ২১৭ জন, ফ্রান্সে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৯৯৫ এবং মারা গেছে ৩৭২ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা আট হাজার ৬৫২ এবং মারা গেছে ৯৪ জন।

সুইজারল্যান্ডে আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ৮৯৮ জন এবং মারা গেছে ৪৩ জন। যুক্তরাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ২৬৯ এবং মারা গেছে ১৪৪ জন, নেদারল্যান্ডে আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৪৬০ এবং মৃত্যু ৭৬, অস্ট্রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ১৭৯ এবং মৃত্যু ছয়জনের।

বেলজিয়ামে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৭৯৫, মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। নরওয়েতে এক হাজার ৭৯০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছে সাতজন। সুইডেনে করোনায় আক্রান্ত এক হাজার ৪৩৯, মৃত্যু ১১।

ডেনমার্কে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ১৫১, মৃত্যু ছয়জনের, জাপানে আক্রান্ত ৯৪৩ এবং মৃত্যু ৩৩, মালয়েশিয়া এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৯০০ এবং মারা গেছে দুইজন, কানাডায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮৭৩, মৃত্যু ১২।

পর্তুগালে আক্রান্ত ৭৮৬, মারা গেছে চারজন। অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫৬ এবং মৃত্যু সাতজন, কাতারে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬০, পাকিস্তানে আক্রান্ত ৪৫৪ এবং মৃত্যু দুইজন, তুরস্কে আক্রান্ত ৩৫৯ এবং মৃত্যু চারজন, সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত ৩৪৫, সৌদি আরবে ২৭৪, থাইল্যান্ডে আক্রান্ত ২৭২ এবং মৃত্যু একজন, মিসরে আক্রান্ত ২৫৬ এবং মৃত্যু সাত।

ফিলিপাইনে আক্রান্ত ২১৭ এবং মৃত্যু ১৭, রাশিয়ায় আক্রান্ত ১৯৯ এবং মৃত্যু একজন, ভারতে আক্রান্ত ১৯৪ এবং মৃত্যু চারজন, ইরাকে আক্রান্ত ১৯২ এবং মৃত্যু ১৩।

কুয়েতে করোনায় আক্রান্ত ১৪৮ এবং আরব আমিরাতে ১৪০। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৮ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে একজন। অপরদিকে তিনজন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ