মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০

৩০ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ২২,২০২০, ০৪:০১

মে ২২,২০২০, ০৪:০১

বাংলাদেশি-পাকিস্তানি প্রেমিক যুগলের কাছে হার মানলো করোনা

 

যুগ যুগ ধরে এ কথা সবারই জানা, প্রেম মানে না কোনা বাধা। জার্মানির একদল বিজ্ঞানীও গবেষণাগারে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, বাধা মানে না সত্যিকারের প্রেম। তাই পুরো বিশ্বকে ওলট পালট করলেও বাংলাদেশি-পাকিস্তানি প্রেমিক যুগলের ভালবাসার কাছে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি করোনাভাইরাস।

করোনা মহামারির মধ্যেই বাংলাদেশের জয়পুরহাট ও পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের প্রেমিক যুগল অনলাইনে বিয়ে সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে সেই সত্যকেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ৫টায় জয়পুরহাট পৌর শহরের কাশিয়াবাড়ি এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা মোজাফ্ফর হোসেনের বাড়িতে মোবাইল ফোনে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। অনলাইনে তাদের বিয়ে পড়ান মওলানা মোস্তাফিুজর রহমান।

কনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোজাফ্ফর হোসেনের মেয়ে মুরসালিন সাবরিনা আমেরিকান অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপল’ এ লেখাপড়া করছেন ২০১৮ সাল থেকে। সেখানে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন সাবরিনা। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করা অবস্থায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ইয়েমারের মাধ্যমে পরিচয় ঘটে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান শাহরুখনে আলম কলোনীর যুবক ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ উমের সঙ্গে। উমেরের বাবা বিলাল আহম্মেদ সবজি ও ফলমূল ব্যবসায়ী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনলাইনে তাদের পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালে তাদের এ প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হয় উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মাঝে। এরপর উভয় পরিবারের অভিভাবকরা তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক উমের এবং তার পরিবার বাংলাদেশে আসার জন্য গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভিসার জন্য আবেদন করেন। ভিসা নিয়ে মার্চ মাসেই উমেরের পরিবার বাংলাদেশে এসে বিয়ে সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু বাধ সাধে করোনাভাইরাস।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থগিত হয়ে যায় তাদের ভালবাসার বিয়ে। বিয়ে স্থগিত হলেও সাবরিনা এবং উমের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনলাইনে তাদের প্রেমের সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। তাদের প্রেমের এ সম্পর্ক উভয় পরিবার মেনে নিলেও মুসলিম শরিয়ত মতে অবৈধ হওয়ায় আপত্তি তোলেন উমেরের বাবা বিলাল আহম্মেদ।

তিনি তাদের যোগাযোগের বৈধতা দিতে সাবরিনার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে অনলাইনে বিয়ে সম্পন্নের প্রস্তাব দেন। বিষয়টি মেনে নিয়ে উভয় পরিবার বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ৫টায় অনলাইনে তাদের বিয়ে সম্পন্নের সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী বিকেল ৫টায় সাবরিনার বাড়িতে স্বজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিয়ের আয়োজন করা হয়।

আমারসংবাদ/জেআই