রবিবার ০৭ জুন ২০২০

২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ১২,২০২০, ০৮:৪৮

মে ১৬,২০২০, ০৩:৩৮

আইনজীবীদের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশায় ভার্চুয়াল কোর্ট

ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার অনুমতি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে এটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ভিডিও কনফারেন্সে মামলা শুনানির জন্য তিনটি ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে ইতিমধ্যেই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন এই কনসেপ্টকে বিচার সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে পরিচিত করানোর কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ইউএনডিপির সহযোগিতায় আগেই সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত একদল টেকনেশিয়ানকে ই-জুডিশিয়ারি ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রমে অংশ নেয়ার প্রস্তুতিতে আইনজীবীরাও পিছিয়ে নেই। বিভিন্ন চেম্বার থেকে নিজস্ব ব্যবস্থায় ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তবে আইটি সুবিধা বঞ্চিত ও অসচ্ছল আইনজীবীদের ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

ভার্চুয়াল কোর্টের প্রস্তুতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বারের সাবেক ট্রেজারার অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার বাসায় ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনার সব লজিস্টিক সাপোর্ট রয়েছে।

আমি মনে করি শুধু আমাদের মত স্বচ্ছল আইনজীবীরা ভার্চুয়াল কোর্টে বেশি সুবিধা পাবে। কিন্তু নিম্ন,মধ্যম আয়ের অস্বচ্ছল আইনজীবী ও জুনিয়র আইনজীবীরা অসুবিধার সম্মুখীন হবেন।

কারণ তাদের নিজস্ব কম্পিউটার নেই,এসোসিয়েটস নেই, আইটি সম্পর্কে তেমন জ্ঞান নেই। আমি মনে করি অস্বচ্ছল ও জুনিয়রর আইনজীবীদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট বার দুইটি হলরুমে কম্পিউটারের ব্যবস্থা করতে পারে। সেখান থেকে আইটি সুবিধা বঞ্চিত আইনজীবীরা সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনায় অংশ নিতে পারবে।

ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়ে শামীম আজিজ এন্ড এসোসিয়েটসের কর্ণধর ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ বলেন, আমাদের চেম্বারের প্রত্যেক এসোসিয়েটসের নিজস্ব কম্পিউটার আছে।

প্রত্যেকে কম্পিউটারে ইন্টারনেট-ইমেইল সংযোগ দেয়া আছে। আমরা যারা করপোরেট সেক্টরের আইনজীবী তারা কিন্তু আগে থেকেই মামলার অধিকাংশ কাজ অনলাইনে করতে অভ্যস্ত। তাই ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনা করতে আমাদের কোন সমস্যা হবে না।’

তবে যাদের নিজস্ব চেম্বার নেই,কমপিউটারে নিজেরা কাজ করতে অভ্যস্ত না, এ সমস্ত আইনজীবী ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রমে অংশ নিতে সমস্যা হবে। আমি মনে করি আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে এসব আইনজীবীকে ভার্চুয়াল কোর্ট নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া এন্ড এসোসিয়েটসের প্রধান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, আমি প্রথমেই বলবো ভয়ংকর করোনা সংক্রামণ রোধে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা একটি সময়পোযোগী সিদ্ধান্ত। আমাদের চেম্বার পুরোপুরি কম্পিউটার বেইজড। মামলার ড্রাফটিং,কজলিস্ট,জাজমেন্ট দেখা সহ অধিকাংশ কাজ আমরা আগে থেকে অনলাইনে করে আসছি। ইতিমধ্যেই ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেম সম্পর্কে চেম্বারের সবাইকে পুরোপুরি প্রশিক্ষিত করে তোলা হয়েছে।

মাহবুব এন্ড কোম্পানীর সিনিয়র এসোসিয়েটস ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, ভার্চুয়াল কোর্টের জন্য একজন আইনজীবীর বাসায় অথবা চেম্বারে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগ, ডেক্সটপ বা ল্যাপটপ কম্পিউটার, ভালো রেজুলেশনের ওয়েবক্যাম, স্ক্যানার ও মাইক সম্বলিত হেডফোন প্রয়োজন। আমার বাসা ও আমাদের চেম্বারে প্রযুক্তির এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা রয়েছে। ভার্চুয়াল কোর্টে শুনানির সময় সময় সাবমিশন অনেক গোছানো, গঠনমূলক ও সংক্ষিপ্ত হওয়া প্রয়োজন। এই বিষয়গুলোর উপর প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ভার্চুয়াল কোর্টের সুবিধা পাওয়া সহ সার্বিক বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্শন করা হলে তিনি বলেন,এখন তো অস্বাভাবিক সময় চলছে। আপদকালীন সময়ের জন্য ভার্চুয়াল কোর্ট গঠন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তো ভার্চুয়াল কোর্টের প্রয়োজন হবে না। এটা ঠিক যে তথ্য-প্রযুক্তিতে যে সব আইনজীবীরা এগিয়ে রয়েছেন তারা ভার্চুয়াল কোর্টে কিছুটা সুবিধা পাবেন। তবে আমরা সুপ্রিম কোর্ট বারের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে সব আইনজীবীদের ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ইউএনডিপির সাথে কথা চলছে।

আমারসংবাদ/বিএইচ/এআই