মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

১৪ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আগস্ট ০৫,২০২০, ১১:৩৬

আগস্ট ০৫,২০২০, ১১:৩৮

কাশ্মীর ইস্যু

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থার কাছে পাকিস্তান হাই কমিশনারের চিঠি

কাশ্মীর বিষয়ে জাতিসংঘ সনদের প্রতি ভারতের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে পাকিস্তান হাই কমিশনার বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে চিঠি দিয়েছে।

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের এক বছর পূর্তি হয়েছে বুধবার (৫ আগস্ট)। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকে দুটি অঞ্চলে বিভক্ত করে কেন্দ্র শাসিত রাজ্য করার বিল উত্থাপন করা হয়েছিল।

পূর্বতন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য পুরোপুরি মুছে ফেলে একে লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীর নামে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত করা হয়েছিল।

এর পর দীর্ঘদিন লকডাউন করে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যকলাপ যেমন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, তেমনই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল শিক্ষা থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন - সবকিছুই ।

চিঠিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘সামরিক অবরোধের মাধ্যমে সব যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিন্ন করে জম্মু-কাশ্মীরে কার্যত একটি ইলেক্ট্রনিক পর্দা দিয়ে রাখা হয়েছে এবং সেখানকার জনসাধারণের স্বাধীন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এমনি তা যদি জরুরি খাবার কিংবা স্বাস্থ্য বিষয়ক কারণেও হয়।’

তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল জম্মু-কাশ্মীরের বিষয়ে তিনটি অনানুষ্ঠানিক বিতর্ক করেছে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়ার ব্যপারে।

তিনি জানান, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সকল পক্ষকেই ‘এই এলাকায় কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।’

ইমরান আহমেদ জাতিসংঘ সনদের অধীনে ভারতের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করার দাবি জানান।

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকে যুক্ত করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান একটি ‘নতুন মানচিত্র’ উদ্বোধন করেছেন বলে জানিয়েছে ডন।

ইমরান খান পাকিস্তানের জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের পর এটিই “সরকারি মানচিত্র” হবে। দেশের স্কুল-কলেজে এই মানচিত্র ব্যবহৃত হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-ক অনুচ্ছেদ দুটি বাতিল করে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে ভারতের অন্য রাজ্যের বাসিন্দাদের কাশ্মীরে সম্পত্তি ক্রয় করার ওপর বিধিনিষেধ উঠে যায়।

পাশাপাশি অন্য রাজ্যে বসবাসরত ভারতীয়দের কাশ্মীরে সরকারি চাকরি পাওয়া কিংবা কাশ্মীরে স্থায়ীভাবে বসবাসের বিধিনিষেধও বাতিল হয়ে যায়।

নরেন্দ্র মোদি সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেয় মুসলিম-অধ্যুষিত কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীরা।

এদিকে কাশ্মীরকে নিজেদের অংশ দাবি করা পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ জানিয়েছে।

কাশ্মীরে নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলে এর আগে থেকেই প্রচুর বাড়তি আধাসামরিক সেনা মোতায়েন রেখেছে মোদি সরকার।

আমারসংবাদ/এআই