রবিবার ১২ জুলাই ২০২০

২৮ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ২৮,২০২০, ০৬:১৪

জুন ২৮,২০২০, ০৬:১৪

ভারতে প্রতি তিনজনের মধ্যেই দুইজন চিকিৎসক ভুয়া!

 

সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে তিনজনের মধ্যেই দুইজনই ভুয়া চিকিৎসক। এতে দেশটিতে ৬৮ শতাংশ ভুয়া চিকিৎসক থাকার তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি জরিপকারী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ-এর বরাতে এমন খবর প্রকাশ করেছে সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন জার্নাল।

ওই জার্নালের দাবি, ভারতের গ্রামীণ এলাকার প্রতি তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে দুইজনের চিকিৎসা জ্ঞান নেই। আর আধুনিক মেডিসিন সম্পর্কে শিক্ষা রাখা তো দূরের কথা।

এই প্রথম দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে চিকিৎসা শিক্ষাকেই মাপকাঠি হিসেবে ধরে জরিপ করা হয়েছিল।

সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের জরিপের বরাত দিয়ে ওই জার্নালের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের ৭৫ শতাংশ গ্রামে অন্তত একটি স্বাস্থ্য পরিষেবা রয়েছে। এছাড়া একই গ্রামে গড়ে তিনটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে৷ এর মধ্যে রয়েছে ৮৬ শতাংশ বেসরকারি চিকিৎসক। এসব চিকিৎসকদের মধ্যে ৬৮ শতাংশের কোনো মেডিকেল প্রশিক্ষণ বা জ্ঞান নেই। প্রশিক্ষণ বা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ছাড়াই দিনের পর দিন চিকিৎসার কাজ করছেন তারা।

ভারতের ১৯টি রাজ্যে এক হাজার ৫১৯টি গ্রামে জরিপ চালিয়ে এসব তথ্য পেয়েছে সেন্টার ফর পলিসি। এর আগে ২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র করা প্রতিবেদনের সঙ্গে সেন্টার পলিসি রিসার্চের জরিপের মিল রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতে ৫৭.৩ শতাংশ মানুষ অ্যালোপ্যাথি চিকিত্সা করেন। যারা মেডিকেল জ্ঞান নেই। ৩১.৪ শতাংশ আবার দশম বা দ্বাদশ শ্রেণি পাস করেই চিকিৎসার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সমীক্ষা অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসকদের অবস্থা খুবই খারাপ। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও চিকিৎসা জ্ঞানে এগিয়ে তামিলনাড়ু ও কর্নাটকের চিকিৎসকেরা।

সেন্টার ফর পলিসি সার্ভের প্রধান ও অধ্যাপক জিষ্ণু দাসের কথায়, গ্রামীণ ভারতের বিরাট অংশে হাতুড়ে চিকিৎসক রয়েছে। এদের ওপরই দেশের চিকিৎসা নির্ভরশীল। দেশটিতে এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। তাছাড়া বেশির ভাগ গ্রামগুলো শহর থেকে অনেক দূরে।

আমারসংবাদ/জেআই