বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০

৩১ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ০২,২০২০, ০৭:১৩

জুন ০২,২০২০, ০৭:১৩

স্কুল খোলায় শিক্ষকদের ক্ষোভ

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্কুল খুলে তাদের এবং শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ডর শিক্ষকরা।

তবে সরকার এখনো পর্যায়ক্রমে স্কুল খুলে দেওয়ার পরিকল্পনায় অটল। ওই পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ইংল্যান্ডে ১ জুন থেকে কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে গেছে৷ শিক্ষকরা স্কুলে কাজের পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

এ অবস্থায় ইংল্যান্ডে স্কুল খুললেও নর্দান আয়ারল্যান্ড ও ওয়েলস নতুন টার্ম শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্কটল্যান্ডও আগামী ১১ অগাস্ট থেকে স্কুল খোলার ঘোষণা দিয়েছে। প্রাইভেট স্কুলগুলোও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

ইংল্যান্ডে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খোলার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহ ধরে সরকারের সঙ্গে শিক্ষক ও তাদের ইউনিয়নগুলো রীতিমতো যুদ্ধ করেছে। তাদের যুক্তি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এখনো নেই।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন থেকে শিক্ষামন্ত্রী গ্যাভিন উইলিয়ামসনের কাছে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে এনএএসইউডব্লিউটি-র মহাসচিব প্যাট্রিক রোচ লেখেন, যতক্ষণ পর্যন্ত স্কুলের পরিবেশ সুরক্ষিত মনে না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের সেখানে যাওয়ার আশা করা উচিত হবে না।

আর হাতে থাকা তথ্য বলছে, ১ জুন স্কুল খোলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি।

এনএএসইউডব্লিউটি-র একটি জরিপে দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ শিক্ষক সরকারের এ পরিকল্পনায় উদ্বেগ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। ৯৩ শতাংশ এই পরিকল্পনা নিয়ে গোলকধাঁধায় আছেন৷ ৯২ শতাংশ মনে করেন স্কুলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেছেন, কয়েকটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে শিক্ষকদের অসম্মানজনকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অথচ মহামারির এ সময়ে তারা শিশুদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তারা বলেন, সংবাদমাধ্যমে তাদের যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তাতে জনসমক্ষে তারা হেনস্থা হতে পারেন। আমরা সত্যিই ভয়ে আছি। ব্যক্তিগত সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। গত সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েকবার তাদের সুপারিশ বদলেছে।

দুশ্চিন্তায় কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘুমাতে পারছেন না জানিয়ে আরেক শিক্ষক বলেন, এতেই বোঝা যাচ্ছে এ দেশে শিক্ষকদের কী চোখে দেখা হয়। তাদের কোনো সম্মান নেই। সংবাদ পড়লে মনে হয় আমরা আলসেমি করে কাজে যাচ্ছি না। আমরা অলস নই। আমারও কাজে ফিরতে চাই। কিন্তু যেভাবে সব কিছু হচ্ছে তাতে সবাই সবার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। স্কুল খোলা নিয়ে দিকনির্দেশনাও যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। ডয়চে ভেলে

আমারসংবাদ/জেআই