মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০

২৯ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

জুন ০২,২০২০, ০৫:১৬

জুন ০২,২০২০, ০৫:১৬

করোনার চিকিৎসায় ব্যবহৃত যে ওষুধে বিভক্ত দুনিয়া

 

কোথাও এ ওষুধের পক্ষে চলছে প্রচার, আবার কোনো কোনো দেশ একে করছে নিষিদ্ধ। কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে পৃথিবী দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে।

বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনা ভাইরাস এরই মধ্যে ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৬৩ লাখ।

এখনো এ রোগের টিকা বা উপশমে কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। বিভিন্ন দেশে গুরুতর রোগীদের উপর কয়েকটি ওষুধের ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’ চলছে। যে ওষুধগুলোর একটি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। এটি মূলত ম্যালেরিয়ার ওষুধ।

তবে এ ওষুধের গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, বিশেষ করে হৃদপিণ্ডের গতি অস্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।

যদিও ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিরাপদ। এছাড়া, আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায়ও এ ওষুধ ব্যবহৃত হয়। কিন্তু কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা এখনো প্রমাণিত নয়।

করোনা ভাইরাস মহামারিতে বিশ্ব যখন দিশেহারা তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই করোনায় চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের সফলতার পক্ষে প্রচারে নেমে যান। এমনকি, মে মাসের প্রথম দিকে তিনি সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে নিজে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সেবনের দাবিও করেন। তার এ দাবির পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশনে এ ওষুধের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতার পক্ষে সাফাই গেয়ে একটি ভিডিও বানিয়েছিলেন। যদিও পরে অনলাইন থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

অথচ গত ২২ মে প্রকাশিত মেডিকেল জার্নাল দ্য লানসেট-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক লাখ কোভিড-১৯ আক্রান্তের উপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন ব্যবহারে তাদের শরীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বরং ওই ওষুধে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। যদিও অনেক বিজ্ঞানী দ্য লানসেট-র জরিপ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যার প্রেক্ষিতে জার্নালটি প্রতিবেদনের কিছু তথ্য সংশোধন করে৷ কিন্তু তাতেও বিতর্ক শেষ হয়নি।

নানা দেশ ওষুধটি নিয়ে নিজেদের মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। শুরুতে ব্যবহার করলেও এখন ফ্রান্স, ইটালি, জার্মানি, সুইডেন, মিশর, তিউনিসিয়া, কলম্বিয়া, চিলি, এল সালভাদর, আলবানিয়া, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগভিনাসহ কয়েকটি দেশ এ ওষুধের ব্যবহার স্থগিত করে। তবে চাইলে গুরুতর রোগীদের উপর পরীক্ষামূলক ব্যবহার করার অনুমতি আছে।

আবার ব্রাজিল, আলজেরিয়া, মরক্কো, তুরস্ক, জর্ডান, রোমানিয়া, পর্তুগাল, কেনিয়া, সেনেগাল, চাদ এবং রিপাবলিক অব কঙ্গো করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারে রীতিমত উৎসাহ দিচ্ছে।

থাইল্যান্ড, ভারত, ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া, বাহরাইন, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন এ ওষুধের ব্যবহার বন্ধ ঘোষণা করেনি। ইরান বলছে, সেখানে এখনো রোগীরা এই ওষুধের ব্যবহারে সুস্থ হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে শুধু হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করার অনুমতি আছে। তবে একই সঙ্গে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এপ্রিলে এর ব্যবহারে হৃদপিণ্ডে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

দ্য লানসেট-র প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফ্রান্স, জার্মানি ও ডেনমার্কসহ কয়েকটি দেশে গবেষণাগারে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের পরীক্ষা বন্ধ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও এখনো চলছে।

আমারসংবাদ/জেআই