রবিবার ২৯ মার্চ ২০২০

১৫ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২২,২০২০, ০৯:৫৪

ফেব্রুয়ারি ২২,২০২০, ০৯:৫৪

পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দেয়ায় গ্রেপ্তার ভারতীয় ছাত্রী

ভারতের ব্যাঙ্গালোরে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী জনসভায় পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দেয়ায় এক ছাত্রীকে পুলিশ দেশদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দক্ষিণ ভারতের শহর ব্যাঙ্গালোরের ওই ঘটনার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে সংবাদ ও সামাজিক মাধ্যমে।

পুলিশ জানিয়েছে দেশদ্রোহের অভিযোগে অমূল্যা লিয়োনা নামের ওই ছাত্রীকে দুই সপ্তাহ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা ইঙ্গিত দিয়েছেন ওই ছাত্রীটির সম্ভবত নকশালপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।

যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে দেখা ও শোনা যাচ্ছে, ১৮ বছর বয়সী ওই ছাত্রী, অমূল্যা লিয়োনা ভাষণ দিতে উঠে প্রথমে কয়েকবার পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলেন।

সেই সময়ে তার হাত থেকে মাইকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন আয়োজকরা এবং মঞ্চে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

মঞ্চেই ছিলেন ওই সভার স্টার বক্তা, কট্টরপন্থী বলে পরিচিত হায়দ্রাবাদের সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও।

তিনিও ওই ছাত্রীকে থামাতে ছুটে আসেন। পুলিশ কর্মকর্তাদেরও দেখা যাচ্ছে মিজ. লিয়োনাকে বাধা দিতে।

তবে অমূল্যা সবাইকে বলেন, এক মিনিট দাঁড়ান। আমাকে বলতে দিন।

এরপরে তিনি আবারও 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' বলার পরেই 'হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ' স্লোগান দেন কয়েকবার। 'হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ' স্লোগানে গলা মেলাতে থাকেন সভায় হাজির কিছু মানুষ।

এইসময়ে তার হাত থেকে মাইক কেড়ে নিতে সমর্থ হন আয়োজকরা এবং পুলিশ তাকে টানতে থাকে।

এবার মিজ. লিয়োনা খালি গলায় বলতে শুরু করেন যে কেন তিনি পাকিস্তান জিন্দাবাদ আর হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান একই সঙ্গে দিচ্ছিলেন।

কিন্তু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে মাইক ছাড়া তার কথা বিশেষ বোঝা যায়নি।

এরপরে তাকে পুলিশ টানতে টানতে মঞ্চ থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।

ব্যাঙ্গালোরের উপ পুলিশ কমিশনার বি রমেশ বিবিসিকে জানিয়েছেন যে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দেশদ্রোহের মামলা রুজু করেছে এবং ভারতীয় দন্ডবিধির ১২৪-এ ধারায় অভিযোগ এনেছে। পুলিশ বলছে ওই ছাত্রীটি দেশের মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করছিল।

তবে পাকিস্তান জিন্দাবাদ' বলাটা দেশদ্রোহ কী না, তা নিয়েও বিতর্ক আছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্যের কথায়, আইনের চোখে এটা আদৌ দেশদ্রোহ নয়।

'প্রথমত মেয়েটি পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলার সঙ্গে সঙ্গে হিন্দুস্তান জিন্দাবাদও তো বলেছে। ভারতের নাগরিক হয়ে অন্য কোনও দেশের নামে জিন্দাবাদ বলাটা অপরাধ নয়, তিনি বলেন।

কেউ যদি ইংল্যান্ড জিন্দাবাদ বা ইউএসএ জিন্দাবাদ বলে, তাহলেও কি দেশদ্রোহের অভিযোগ উঠবে? এই যে ডোনাল্ড ট্রাম্প আসছেন, আর তার আগে একজন তার মূর্তি বানিয়ে পুজো করছে - তাকে তো দেশদ্রোহী বলা হচ্ছে না?' মি. ভট্টাচার্য বলেন।

যদি দেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, সংবিধান ভেঙ্গে দেয়ার পরিকল্পনা করে, সেটা দেশদ্রোহ। কিন্তু সরকারের সমালোচনা করা দেশদ্রোহ নয়। আসলে বর্তমান সময়ে যারা আইন প্রয়োগ করছে তারা আইনের অপব্যবহার করছেন, মি. ভট্টাচার্য বলেন।

আমারসংবাদ/এমএআই