রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

৫ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ১১,২০২০, ০৮:৪৩

মে ১১,২০২০, ০৮:৪৩

বার্ষিক পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে, শিক্ষাবর্ষ শুরু মার্চে!

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে কারণে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষাবর্ষের সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে এনসিটিবি। শিক্ষাবর্ষের সময় বাড়লে ২০২১ সালে ছুটি কমিয়ে শিক্ষাবর্ষের সময় ঠিক রাখা যাবে বলেও মনে করে সংস্থাটি।

চলতি শিক্ষাবর্ষ (২০২০) ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে এনসিটিবি। এতে বার্ষিক পরীক্ষা ডিসেম্বরের পরিবর্তে আগামী ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে।

আর পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ (২০২১) মার্চ মাসে শুরু হবে। নীতিনির্ধারকরা এ প্রস্তাবের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতি বছর নভেম্বর মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী-পিইসি ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী-জেএসসি পরীক্ষা। কিন্তু প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা এগোচ্ছে না। এ অবস্থায় সিলেবাস শেষ করা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনার কারণে যদি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে তাহলে আমরা কীভাবে ব্যবস্থা নেবো, সেক্ষেত্রে আমরা কী করবো এসব বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। এই আলোচনায় আমাদের প্রস্তাব ছিল সিলেবাস না কমিয়ে শিক্ষাবর্ষ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা। যদি মার্চ থেকে ২০২১ সেশন শুরু করি এবং ছুটি কমিয়ে দেই তাহলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে না।’

সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক, আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক, এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা, মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক শাহেদুল খবিরসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ভার্চুয়াল বৈঠকে এই প্রস্তাব উঠে আসে।

বৈঠকে অন্যদের পক্ষ থেকে সিলেবাস কমানোর পক্ষেও প্রস্তাব করা হয়। তবে সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না। সিলেবাস কমানো হলে নির্ধারিত জ্ঞানও অর্জিত হবে না বলে মত দেন অনেকে। তবে দুই প্রস্তাবের কোনোটিই চূড়ান্ত হয়নি। এটা নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতি ও ছুটি বাড়া না বাড়ার ওপর।

তিনি আরও বলেন, 'যদি আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে স্কুল খুলে দেয়া হয়, তাহলে এনসিটিবির প্রস্তাব ছিল, চলতি শিক্ষাবর্ষকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। ফেব্রুয়ারিতেই বার্ষিক পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষা নেয়া। এতে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পড়ে ও শিখে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত হতে পারবে।

আর পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ ২০২১ সালের মার্চ থেকে শুরু করা। আগামী শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন ধরনের ছুটি কমিয়ে ১০ মাসে শিক্ষাবর্ষ শেষ করা। তবে বিকল্প প্রস্তাবও এসেছে।

সেখানে ২০২০ সালের মধ্যেই সব পরীক্ষা শেষ করার কথা বলা হয়েছে। এতে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা ও ঐচ্ছিক ছুটি কমানোর কথা বলা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারে, সেটা মোটামুটিভাবে জানতে পারলে এনসিটিবি চূড়ান্ত প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে।

আমারসংবাদ/এআই